ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

ভারতীয় পেঁয়াজকে টেক্কা দিচ্ছে দেশি ‘হালি পেঁয়াজ’, দামও নাগালে

ইকবাল হোসেন | প্রকাশিত: ০৮:২৭ এএম, ০৬ মার্চ ২০২৬

এখন পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। মাঠ থেকে পুরোদমে ফলন তোলা শুরু হওয়ায় বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজের সরবরাহ। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ের আড়তগুলো পেঁয়াজে ভরপুর। পাশাপাশি দামও কম। তবে পাইকারি বাজারে কম থাকলেও খুচরা বাজারে বেশি লাভে বিক্রি করছেন দোকানি ও ফড়িয়ারা।

খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ের আড়তদার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে দেশি হালি জাতের পেঁয়াজ ভারতীয় সব ভালো মানের পেঁয়াজকে টেক্কা দিচ্ছে। এখন সরকারের উচিত কৃষকদের সহযোগিতা দেওয়া।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পাইকারিতে দাম কম হলেও খুচরায় অতিরিক্ত লাভ করছেন বিক্রেতারা। এতে পেঁয়াজে দাম কমার সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। পাইকারিতে জাত, মান ও আকারভেদে ১৮-৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একই পেঁয়াজ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে।

পাবনা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজের প্রচুর ফলন হয়েছে। এতে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। ভালো পেঁয়াজ এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে কৃষকও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। ভোক্তারাও অপেক্ষাকৃত কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারছেন।-খাতুনগঞ্জের লামার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৮ লাখ টন। তবে চাহিদার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ দেশে উৎপাদিত হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অভাবসহ নানা কারণে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বাড়তি উৎপাদনের পরও চাহিদায় ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। এ ঘাটতি মেটাতেই প্রতিবছরই পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই সরেজমিনে দেখা যায়, পেঁয়াজে ভরপুর আড়তগুলো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে আসা শতভাগ পেঁয়াজই দেশি। দামও অনেক কম। বাজারে বর্তমানে পাবনা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, মেহেরপুর থেকে পেঁয়াজ আসছে।

আমাদের অনেক ব্যবসায়ীর মধ্যে অতি মুনাফালোভী স্বভাব রয়েছে। এখন পেঁয়াজের মৌসুমে। বাজারেও প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু খুচরা দোকানে অতিরিক্ত বেশি লাভ করা হচ্ছে। ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত বিষয়গুলো সঠিকভাবে মনিটরিং করা। পাইকারির সঙ্গে খুচরা বাজারের দামের সমন্বয় নিশ্চিত করা।-ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন 

এদিন কথা হয় মধ্য চাক্তাইয়ের আড়তদার ব্যবসায়ী মেসার্স বশর অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী আবুল বশরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জের আড়তে এখন ভারতীয় কোনো পেঁয়াজ নেই। সবগুলোই দেশি পেঁয়াজ। দামও অনেক কমেছে। ভালোমানের ও বড় সাইজের হালি পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানের শুরুতে এরচেয়ে দাম বেশি ছিল।’

আরও পড়ুন

পেঁয়াজ নিয়ে ভারতের ‘কান্না’, দেশের কৃষকের ‘হাসি’
পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন, বাজিমাত কৃষি বিভাগের
আমদানির ঘোষণায় একদিনে পেঁয়াজের দাম কমলো কেজিতে ৪০ টাকা

তিনি বলেন, ‘দেশি হালি পেঁয়াজ ভারতীয় পেঁয়াজকে ফেল করিয়ে দিয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে সুন্দর। এখন পেঁয়াজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশে উৎপাদন হলে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে না। বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। এখন সরকারের উচিত পেঁয়াজ চাষিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া।’

খাতুনগঞ্জের মেসার্স জামেনা ট্রেডিংয়ের পরিচালক মো. আজগর হোসেন বলেন, ‘এখন দেশি হালি ও মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে এসেছে। সরবরাহ প্রচুর। মেহেরপুরি মুড়িকাটা পেঁয়াজ কেজি ১৮-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হালি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সাইজ অনুসারে ২৮-৪০ টাকায়।’

খাতুনগঞ্জের হামিদউল্লা মিয়া বাজারের মেসার্স আল মুনিরীয়া ট্রেডার্সের ম্যানেজার মো. রবিউল জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রায় প্রত্যেকটি আড়ত পেঁয়াজে ভর্তি। আড়তে জায়গা না থাকায় অনেকে বাইরেও পেঁয়াজ রেখেছেন। জায়গা না থাকায় অনেকে ট্রাক থেকেও পেঁয়াজ সরাসরি ক্রেতাদের সরবরাহ করছেন।’

তিনি বলেন, ‘বাজারে বিভিন্ন আকার ও মানের পেঁয়াজ রয়েছে। আমরা বড় সাইজের দেশি হালি পেঁয়াজ ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি করছি। বাজারে ১৮-২০ টাকার পেঁয়াজও রয়েছে।’

খাতুনগঞ্জের লামার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস জাগো নিউজকে বলেন, ‘পাবনা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজের প্রচুর ফলন হয়েছে। এতে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। ভালো পেঁয়াজ এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে কৃষকও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। ভোক্তারাও অপেক্ষাকৃত কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারছেন।’

খাতুনগঞ্জে একই স্থানের ফুটপাতে পাইকারি থেকে কিনে খুচরা বিক্রি করেন কিছু বিক্রেতা। এর মধ্যে মুড়িকাটা ৩০ টাকা, হালি পেঁয়াজের মধ্যে একটি ৩৫ টাকা এবং আরেকটি ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একই চিত্র নগরীর মুদি দোকানগুলোতেও।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ৫ মার্চ তারিখের প্রতিবেদনে বলছে, ঢাকা মহানগরীর খুচরা বাজারগুলোতে ৩০-৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। এক মাস আগেও একই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৪৫-৮০ টাকা কেজিতে।

পাইকারির চেয়ে খুচরা দামের বিস্তার ফারাকের বিষয় উল্লেখ করে চাক্তাইয়ের ব্যবসায়ী আবুল বশর বলেন, ‘পাইকারির চেয়ে খুচরায় দোকানদাররা বেশি লাভ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কেজিতে ১০-১৫ টাকাও লাভ করছেন মুদি ও ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা।’

ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের অনেক ব্যবসায়ীর মধ্যে অতি মুনাফালোভী স্বভাব রয়েছে। এখন পেঁয়াজের মৌসুম। বাজারেও প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু খুচরা দোকানে অতিরিক্ত বেশি লাভ করা হচ্ছে। ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত বিষয়গুলো সঠিকভাবে মনিটরিং করা। পাইকারির সঙ্গে খুচরা বাজারের দামের সমন্বয় নিশ্চিত করা।’

এমডিআইএইচ/এএসএ/এমএফএ