ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগ, ২০১৫ সালের আদেশ বাতিল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৩:৩১ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ক্রয় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংযুক্ত দপ্তর এবং অধস্তন অফিসগুলোর আর্থিক ক্ষমতা হালনাগাদ করেছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে অর্থ বিভাগ ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট জারি করা আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃঅর্পণ সংক্রান্ত অফিস স্মারকসহ পরবর্তীতে জারি করা সংশ্লিষ্ট সব আদেশ বাতিল করে নতুন একটি সমন্বিত অফিস স্মারক জারি করেছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ খায়েরুজ্জামান মজুমদার এতে সই করেছেন ১৯ জানুয়ারি। এই আদেশে পরিচালন ও উন্নয়ন— উভয় বাজেটের আওতায় আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃ অর্পণের একটি হালনাগাদ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই আর্থিক ক্ষমতা আদেশ জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এতে উল্লেখ করা হয়, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে ১৯৮৩ ও ১৯৮৫ সালে পর্যায়ক্রমে দুটি আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ জারি করা হয়, যা পরিচালন বাজেটভিত্তিক ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বিভাগীয় প্রধান এবং প্রকল্প পরিচালকদের আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০০ ও ২০০৪ সালে পুনরায় আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃ অর্পণ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হলেও পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক কাঠামো ও সরকারি কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। একই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন সংশোধনী জারি হলেও সেগুলো মূল আদেশে সংযোজন করে কোনো সমন্বিত আদেশ প্রকাশ করা হয়নি। এ ছাড়া সম্প্রতি সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ সংশোধন এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন হওয়ায় আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃ অর্পণ আরও হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দেয়।

নতুন আদেশে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের আদেশে সংযুক্ত দপ্তর প্রধান, বিভাগীয় প্রধান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য আর্থিক ক্ষমতা পুনঃ অর্পণের একটি মডেল থাকলেও সেখানে নতুন বাজেট ও হিসাব শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক স্তর বা অর্থনৈতিক কোডের শ্রেণিবিন্যাস অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ ঘাটতি পূরণে ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃ অর্পণ মডেল–২০২৬’-এ ৩ থেকে ৮ নম্বর কলামে চারটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে অধিকতর আর্থিক ক্ষমতা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের অফিস স্মারকসহ সংশ্লিষ্ট সব আদেশ বাতিল করে এই নতুন স্মারক জারি করা হয়েছে। এর সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংযুক্ত দপ্তর এবং অধস্তন অফিসগুলোর মাঝে অর্পিত ক্ষমতা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব বিষয় অর্থ বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করতে হবে, তার একটি তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব, সচিব বা ভারপ্রাপ্ত সচিব তার মন্ত্রণালয় বা বিভাগ, সংযুক্ত দপ্তর এবং অধস্তন অফিসগুলোর প্রাপ্তি ও নিয়ন্ত্রিত বাজেট মঞ্জুরি থেকে ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রধান হিসাব দানকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ক্ষেত্রে তাকে বাজেট বরাদ্দ যথাযথ উদ্দেশ্যে ব্যয়, প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় পরিহার, বাজেট কোড অনুযায়ী ব্যয় সীমাবদ্ধ রাখা, অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন ছাড়া সম্পূরক মঞ্জুরির প্রত্যাশায় ব্যয় না করা, সঠিক কোডে হিসাবভুক্তকরণ, মাসিক হিসাবের মিল নিরূপণ এবং অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের আর্থিক ক্ষমতার যুক্তিসংগত অংশ সংযুক্ত দপ্তর এবং অধস্তন অফিসগুলোকে পুনঃ অর্পণ করতে পারবে। তবে পুনঃ অর্পণের ক্ষেত্রে সব সরকারি অফিসে অভিন্নতা বজায় রাখতে সংযুক্ত ছকে প্রদর্শিত নমুনা অনুসরণ করতে হবে। পুনঃ অর্পণ আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পূর্ণ ক্ষমতাবান হিসেবে উল্লেখ করতে হবে এবং প্রযোজ্য বিধি-বিধান ও সরকারি আদেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

এছাড়া সরকারি বিশেষ আদেশের মাধ্যমে যেসব কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে বিশেষ আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, তারা সেই ক্ষমতা যথারীতি প্রয়োগ করবেন। তবে সংযুক্ত তালিকায় প্রদর্শিত কোনো আইটেমের আর্থিক ক্ষমতা যদি বিশেষ আদেশে প্রদত্ত ক্ষমতার চেয়ে বেশি হয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নতুন তালিকায় প্রদর্শিত উচ্চতর ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

এমএএস/এমএএইচ/