ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস কমিটির প্রতিবেদন পেশ

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশিত: ০৯:১৮ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন পেশ করেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটি।

দেশের কর-জিডিপি অনুপাত কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নীত করার লক্ষ্যে কর কাঠামোর প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ প্রণয়ন করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এতে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিঃবাণিজ্য সহায়ক করনীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে করণীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করে।

এসময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দ্রুততর ও টেকসই করতে হলে সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অপরিহার্য। এক্ষেত্রে করব্যবস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান কর কাঠামো নানা সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত। এই প্রেক্ষাপটে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ রাজস্ব আদায় ও কর-জিডিপি অনুপাত গ্রহণযোগ্য মাত্রায় উন্নীত করার লক্ষ্যে গত ৬ অক্টোবর জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।

টাস্কফোর্সকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ জানুয়ারি বিকেলে টাস্কফোর্স সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস কমিটির প্রতিবেদন পেশ

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের করব্যবস্থাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল, অদক্ষ এবং পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, সামান্য সংস্কার বা খণ্ডিত পরিবর্তনের বদলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে করব্যবস্থার মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে মোট ৫৫টি নীতিগত বিষয় চিহ্নিত করে সেগুলোর জন্য সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। আর অগ্রাধিকারভিত্তিক সাতটি নীতিগত বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাঠামোগত পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের অনুপাত বর্তমানের ৩০:৭০ থেকে ৫০:৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া, ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, সহজ কর কাঠামো, প্রণোদনা পুনর্গঠন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট এবং বাণিজ্য কর থেকে সরে এসে দেশীয় করের দিকে কৌশলগত পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে রপ্তানি ও আমদানির বিকল্প পণ্যের কার্যকর সুরক্ষা সমান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যালুয়েশন ডেটাবেজের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে বন্দরের পরিবর্তে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় বহু হারের পরিবর্তে একক হারের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।

প্রতিবেদন গ্রহণ শেষে কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে সময় খুবই কম। আমরা এসব নীতি বাস্তবায়নের পথচলা শুরু করে যেতে চাই। এই নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আদায়ের খাত ও পদ্ধতি আরও স্পষ্ট হবে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন আনবে।’

এসময় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘এই প্রতিবেদন আমাদের জন্য একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

কমিটির প্রধান জায়েদী সাত্তার বলেন, ‘গত এক দশকে আমাদের রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল হয়ে গেছে। এসব পদ্ধতির সংস্কার ছাড়া রাজস্ব আদায়ের পরিসর বাড়ানো কঠিন। এই পদ্ধতিগুলো দ্রুত সংস্কার করা গেলে অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘এই প্রতিবেদনে সংকটগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো নিরসনের পথনির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
 
টাস্কফোর্সের সদস্যরা
প্রতিবেদন তৈরিতে জায়েদী সাত্তারের সভাপতিত্বে টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে ছিলেন- ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রফেসরিয়াল ফেলো ড. সুলতান হাফিজ রহমান, কানাডার মন্ট্রিয়ালের কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটির প্রফেসর এমেরিটাস ড. সৈয়দ মইনুল আহসান, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশীদ আলম, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) প্রেসিডেন্ট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মেহেদী হাসান, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সিনিয়র অতিরিক্ত মহাসচিব শাহ মো. আব্দুল খালেক ও এফবিসিসিআইয়ের বাজেট এক্সপার্ট কমিটির সদস্য স্নেহাশীষ বড়ুয়া। সদস্যসচিব হিসেবে ছিলেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী।

এমইউ/একিউএফ