এক কোটি লিটার পাম তেল কিনবে সরকার, ব্যয় ১৬৩ কোটি টাকা
ট্যাংকারে তেলবাহী একটি জাহাজ/সংগৃহীত ছবি
টিসিবি’র কার্ডধারী নিম্নআয়ের এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এক কোটি লিটার পরিশোধিত পাম তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি লিটার পাম তেলের দাম ধরা হয়েছে ১৬৩ টাকা ৪৮ পয়সা। এতে এক কোটি লিটার পাম তেল কিনতে ব্যয় হবে ১৬৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
বুধবার (২৫ মার্চ) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই পাম তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এক কোটি লিটার পরিশোধিত পাম তেল পাঁচটি লটে কেনার একটি প্রস্তাব নিয়ে আসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এই পাম তেল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ১৬টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। সবগুলো প্রস্তাবই টিইসি (দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি) কর্তৃক রেসপনিসভ বিবেচিত হয়।
দরপ্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাইসহ সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি পাঁচটি লটে সুপারিশ করা রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে ১ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম তেল ১৬৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
টিসিবি’র গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি লিটার পাম তেলের দাম পড়বে ১৬৩ টাকা ৪৮ পয়সা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোজ্য তেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ২৩ কোটি লিটার। এ পর্যন্ত ক্রয়চুক্তি সম্পাদন হয়েছে ৬ কোটি ৫ লাখ লিটার।
এদিকে, বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইপিআই কর্মসূচিতে ব্যবহৃত টিকা ইউনিসেফ থেকে অগ্রিম অর্থ প্রেরণের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে ইপিআই কার্যক্রম চলমান রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সব রুটিন ইপিআই ভ্যাকসিন নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনার প্রস্তাব গত ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।
পরবর্তীতে এডিবির নির্ধারিত ফরমেট অনুসরণ করে ইউনিসেফ-জিআই কাছে প্রাইস অফার আহ্বান করা হলে তারা প্রস্তাব দখিল করে। টিইসি কর্তৃক প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশ করা দরদাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিসেফের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ পাঠানোর মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সব রুটিন ইপিআই ভ্যাকসিন (১০ ধরনের ভেকসিন) ৬০৪ কোটি ৫ লাখ ৫ হাজার ৮৯৫ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া বৈঠকে, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ধরা হয়েছে ৪৭৬.৩৭৫ মার্কিন ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ৪২ লাখ ৯১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৭৫ কোটি ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৫ টাকা।
বৈঠকে আরও যা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে
বৈঠকে ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি বাফার গুদাম নির্মাণের পূর্ত কাজের ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪৩ কোটি ১৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৫৯ টাকা।
আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে ‘বাপবিবো’র বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনকিায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (ঢাকা- ময়মনসিংহ বিভাগ) (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় এসপিসি পোল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বাপবিবো’র বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (ঢাকা- ময়মনসিংহ বিভাগ) প্রকল্পের আওতায় ৬৩ হাজার ১৭৭টি এসপিসি পোল কেনার জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। দুটি প্রস্তাবই কারিগরি ও আর্থিকভাবে রেসপনসিভ হয়।
দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশ করা রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে দাদা ইঞ্জিনিয়ারিং, কনটেক কনসালট্যান্ট, টিএসসিও পাওয়ার এবং পাশা পোলসের কাছ থেকে ২২৯ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৯৩৫ টাকায় ৬৩ হাজার টাকায় ১৭৭টি এসপিসি পোল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমএএস/এমকেআর