ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

পানিতে সহস্রাধিক ‘ভাসমান গুদাম’, বন্দরে জাহাজজট

ইকবাল হোসেন | প্রকাশিত: ০৮:৪২ এএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদারভেসেলের (বড় জাহাজ) জটলা তৈরি হয়েছে। এজন্য লাইটারেজ (ছোট খালাসি জাহাজ) সংকটকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা। পণ্য নিয়ে সহস্রাধিক লাইটারেজ পানিতে ভাসমান থাকায় আমদানিপণ্য খালাস বিলম্বিত হচ্ছে। যার মধ্যে কিছু রোজায় ব্যবহৃত পণ্যও আছে। বিষয়টি বন্দর ব্যবস্থাপনায় তৈরি করছে নেতিবাচক প্রভাব।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক পণ্য আমদানিকারক বিভিন্ন পণ্য আমদানি করলেও তাদের খালাস ও স্টোরেজ সুবিধা নেই। ফলে লাইটারেজগুলোকে ভাসমান গুদাম বানিয়ে সেখান থেকে ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহ দিচ্ছেন। ফলে লাইটারেজ আনলোড করতে দীর্ঘ সময় লাগছে। যে কারণে নৌপথে পণ্য পরিবহনে সংকট তৈরি করছে। এতে একদিকে মাদারভেসেলের ডেমারেজ হিসেবে লাখ লাখ ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে, অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে দেশ-বিদেশে নেতিবাচক ভাবমূর্তিও তৈরি হচ্ছে।

লাইটারেজ জাহাজ কত, নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরে আসা বাল্কপণ্যবাহী মাদারভেসেল থেকে পণ্য খালাসে দুই হাজারের মতো লাইটার জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজারের কিছু বেশি নিয়ন্ত্রণ করে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (ডব্লিউটিসিসি) নামে একটি সংস্থা। সংস্থাটি প্রতিদিন বার্থিং সভা করে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা মাদারভেসেলের বিপরীতে চাহিদা অনুযায়ী লাইটারেজ বরাদ্দ দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে মাদারভেসেল থেকে পণ্য খালাসে লাইটারেজ বরাদ্দ দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। অন্য জাহাজগুলো বিভিন্ন শিল্পগ্রুপের মালিকানাধীন। এর মধ্যে মেঘনা, সিটি, আবুল খায়ের, আকিজ, টিকে, বসুন্ধরা গ্রুপসহ বড় শিল্পগ্রুপের মালিকানাধীন লাইটার জাহাজ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে ১৪৬টি মাদারভেসেল অবস্থান করছে। গত বছর ২০২৫ সালের এই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে জাহাজ ছিল ৯৯টি। ২৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে ১৩৪টি কনটেইনার ও বাল্কপণ্যবাহী জাহাজ অবস্থান করে। এর মধ্যে ১২টি কনটেইনারবাহী, ১০টি এলএনজি, এলপিজি ও পেট্রোলিয়াম জ্বালানিবাহী ট্যাংকার। অন্য ১১২টি বাল্ক জাহাজে রয়েছে চাল, গম, ডাল, সরিষা, ‘র’ সুগার, সয়াসিড, সার, লোহার স্ক্র্যাপ, সিমেন্ট ক্লিংকার, কয়লা, পাথর, প্লাস্টিক দানা বোঝাই জাহাজ। এর মধ্যে ৫৯টি জাহাজ এসব পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে খালাসরত।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে স্ক্র্যাপ-পাথরসহ জেনারেল কার্গোবাহী ৫৩টি, গম-ভুট্টাবাহী জাহাজ রয়েছে ২৫টি, সিমেন্ট ক্লিংকার ২০টি, সার ৭টি, চিনি বোঝাই ৫টি, লবণ বোঝাই ২টি মাদারভেসেল অবস্থান করছে।

গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যশস্য বেশি আমদানি হয়েছে। যে কারণে লাইটারেজের সংকট তৈরি হয়েছে।- আইভোয়াক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান

নিবন্ধিত পণ্যবাহী লাইটার ৩৮৫৮টি
লাইটারেজ সংকট ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক মো. শফিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নৌপরিবহন অধিদপ্তরে নিবন্ধিত বর্তমানে ৩ হাজার ৮৫৮টি পণ্যবাহী লাইটার রয়েছে। আমদানিকারকদের বলেছি দ্রুত লাইটারেজ খালাস করার জন্য। ইতোমধ্যে বিআইডব্লিউটিসি, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের মাধ্যমে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। অনেক লাইটার জাহাজকে জরিমানাও করা হয়েছে।’

পানিতে সহস্রাধিক ‘ভাসমান গুদাম’, বন্দরে জাহাজজট

তিনি বলেন, ‘রমজান সামনে রেখে অনেকে ভোগ্যপণ্য আমদানি করেছেন। আবার গম, সার, কয়লা নিয়েও অনেক জাহাজ রয়েছে। আমাদের এ অভিযান আগামী রমজান পর্যন্ত চলবে। আশা করছি দ্রুততম সময়ে এ সংকট থেকে উত্তরণ হবে।’

আরও পড়ুন
জাহাজ থেকে ট্যাংকে যেতেই উধাও ১৪ কোটি টাকার জ্বালানি তেল
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে কার ভাগে কত টাকা?
১০ বেসরকারি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে এলপিজির বাজার
ডাল-ছোলার দাম কম, বাড়ছে তেল-চিনির

ডব্লিউটিসিসি সূত্রে জানা যায়, ২৭ জানুয়ারি, মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশের ৭৪টি ঘাটে ৬৩০টি লাইটারেজ পণ্য খালাসে অপেক্ষমাণ। এর মধ্যে ১৩৪টি রয়েছে ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, হাসনাবাদ, যশোরের নোয়াপাড়ায় সবচেয়ে বেশি লাইটারেজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। তাছাড়া ঝালকাঠি, নগরবাড়ি, মিরপুর, রূপসী, ভৈরব, সারুলিয়া, হাটাবো, পটুয়াখালী, মুক্তারপুর, আলীগঞ্জ, রামপাল, আশুগঞ্জ, কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট, সিঅ্যান্ডবি, মেঘনা, ব্রিজঘাট, শিকারপুর, স্ক্যান সিমেন্ট, এমআই সিমেন্ট, পলাশ, পাগলা, বানারীপাড়া, মোংলা, আকিজ সিমেন্ট, নিতাইগঞ্জ ও শিরমনি ঘাটে লাইটার খালাস হচ্ছে।

৪৭ দিন ধরে পণ্য নিয়ে অবস্থান করছে ‘আনিসা জান্নাত-১’

দূরত্বভেদে লাইটারেজগুলো সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহ অবস্থান করে। যেটা এখন ৪৭ দিন পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। ডব্লিউটিসিসির তথ্য অনুযায়ী, ‘এমভি আনিসা জান্নাত-১’ নামে লাইটারেজ জাহাজটি আশুগঞ্জ ঘাটে টিএসপি সার খালাসরত রয়েছে। লাইটারটি ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে টিএসপি সার নিয়ে আশুগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তখন থেকে ৪৭ দিন পার হয়েছে জাহাজটিতে। ডব্লিউটিসিসির লাইটারগুলোর মধ্যে ‘আনিসা জান্নাত-১’ সবচেয়ে বেশি ৪৭ দিন ধরে পণ্য নিয়ে অবস্থান করছে।

লাইটারেজের সংকটের কারণে সাময়িকভাবে বন্দরের অপারেশনাল কাজে ব্যাঘাত তৈরি করছে। জাহাজের গড় অবস্থানকাল বাড়ছে। এতে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া জাহাজগুলো বসে থাকলে সেগুলোতে দৈনিক ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে।- চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬ দিন অপেক্ষা করছে ‘এমভি শুভরাজ-৮’। জাহাজটি গত ১১ ডিসেম্বর গম নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জের হাসনাবাদ ঘাটে যায়। এখনো খালাসরত জাহাজটি। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ দিন অবস্থান করছে ‘এমভি ফজলুল হক-৭’। জাহাজটি ভুট্টা নিয়ে নিতাইগঞ্জ ঘাটে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি গত ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে পাথর বোঝাই করে কাঁচপুর ঘাটে যায় ‘এমভি বিসমিল্লাহ নেভিগেশন-৩’। একই দিন থেকে স্ক্র্যাপ বোঝাই করে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর সদরঘাটে অবস্থান করছে ‘এমভি জাহিদ নাসির’। গত ৫ জানুয়ারি থেকে আশুগঞ্জ ঘাটে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ডালবাহী লাইটারেজ ‘এমভি মানহা’।

পানিতে সহস্রাধিক ‘ভাসমান গুদাম’, বন্দরে জাহাজজট

ডব্লিউটিসিসির সিনিয়র সচিব মো. নাছির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডব্লিউটিসিসির অধীনে বর্তমানে ১ হাজার ২১টি লাইটারেজ রয়েছে। এর মধ্যে ৬৩০টি জাহাজ বর্তমানে পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন ঘাটে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ১৫ দিনের বেশি অবস্থান করছে এমন লাইটারেজের সংখ্যা মাত্র ১৩৪টি। এর মধ্যে ৪৬টিতে গম, ৪৩টিতে সার, ১২টিতে ভুট্টা, ৮টিতে সয়াসিড, ৭টিতে বিভিন্ন ধরনের ডাল রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যেসব জাহাজ বেশিদিন ঘাটে অপেক্ষা করছে সেগুলো গম, সারবাহী। কয়েকটিতে ডাল রয়েছে। এখানে ডাল বাদে অন্যগুলো রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্য নয়। মূলত একসঙ্গে বেশি বাল্কপণ্য আমদানি হওয়ার কারণে লাইটারেজের চাহিদা বেড়েছে। অনেক লাইটার জাহাজ আনলোড পয়েন্টে অপেক্ষা করছে। এতে বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ মাদারভেসেল থেকে পণ্য খালাস কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বড় বড় শিল্পগ্রুপের কাছেও লাইটারেজ রয়েছে। এর মধ্যে সিটি, আবুল খায়ের গ্রুপ তাদের পণ্য পরিবহনের জন্যই ডব্লিউটিসিসি থেকে লাইটারেজ চাইছে। তাদের কাছেও নিজস্ব লাইটার রয়েছে।’

বিপাকে মাদারভেসেলগুলো

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাইটারেজ সংকটের কারণে মাদারভেসেলগুলো থেকে নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। মাদারভেসেলগুলোর গড় অবস্থানকাল বেড়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিটি জাহাজকে অবস্থানের বিপরীতে দৈনিক ১০ থেকে ২৫ হাজার ডলার অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।

লাইটারেজ সংকটে শিপিং ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত পরিচালক শফিউল আলম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ১১৪টি মাদারভেসেল বিভিন্ন পণ্য নিয়ে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৯০টি মাদারভেসেল খাদ্যপণ্য নিয়ে বসে আছে। যেগুলো খালাসের জন্য ডব্লিউটিসিসির মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে।’

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী নিবন্ধিত তিন হাজার ৮০০-এর কিছু বেশি লাইটারেজ থাকার তথ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ডিরেক্টরেট অব শিপিং থেকে লাইটারেজের যে সংখ্যার কথা বলা হয়েছে, সেটি সঠিক নয়। এত লাইটারেজ বাংলাদেশে নেই। বর্তমানে ডব্লিউটিসিসির অধীনে ৮৩০টির মতো লাইটারেজ রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাসের জন্য তাদের এ লাইটারেজগুলো ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন করপোরেট গোষ্ঠীর কাছেও কিছু লাইটার রয়েছে।’

বড় বড় আমদানিকারকরা লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম বানিয়ে রেখেছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর ষড়যন্ত্র রয়েছে। কৃত্রিম সংকট করে পণ্যের যে পরিমাণ দাম বাড়ানো যায়, এতে জাহাজের ডেমারেজ তেমন কিছুই নয়।- ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন

তিনি বলেন, ‘ডব্লিউটিসিসি থেকে আমরা যেখানে মাদারভেসেলপ্রতি দৈনিক ৬-৭ হাজার টন পণ্য খালাসের জন্য লাইটার পেতাম, সেখানে দৈনিক এক হাজার টনও খালাসের জন্য লাইটার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে প্রত্যেকটি মাদারভেসেলের পেছনে দৈনিক ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ডেমারেজ দিতে হচ্ছে।’

চট্টগ্রামে লাইটারেজ জাহাজ মালিকদের সংগঠন ইনল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগাংয়ের (আইভোয়াক) সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যশস্য বেশি আমদানি হয়েছে। যে কারণে লাইটারেজের সংকট তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কিছু আমদানিকারক মাদারভেসেল থেকে পণ্য খালাস নিয়ে লাইটারেজে রেখে দিচ্ছে। আবার বেশি আমদানি হওয়ায় অনেকে স্টোরেজ সংকটে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী লাইটারেজ থেকে সরাসরি পণ্য ডেলিভারি দিয়ে বিক্রি করছে। ফলে লাইটারেজের সংকট তৈরি হয়েছে।’

পানিতে সহস্রাধিক ‘ভাসমান গুদাম’, বন্দরে জাহাজজট

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, ‘লাইটারেজ নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ হয় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অধীনে। তাছাড়া চট্টগ্রামে আমদানি করা পণ্য খালাসের জন্য লাইটারেজ ব্যবস্থাপনা হয় ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের মাধ্যমে। পাশাপাশি লাইটারেজ মালিক সমিতি রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বন্দর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। মূলত তারা ট্রাকের মতোই পণ্য পরিবহন করে।’

তিনি বলেন, ‘লাইটারেজের সংকটের কারণে সাময়িকভাবে বন্দরের অপারেশনাল কাজে ব্যাঘাত তৈরি করছে। জাহাজের গড় অবস্থানকাল বাড়ছে। এতে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া জাহাজগুলো বসে থাকলে সেগুলোতে দৈনিক ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে আমরা নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছি।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘বড় বড় আমদানিকারকরা লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম বানিয়ে রেখেছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর ষড়যন্ত্র রয়েছে। কৃত্রিম সংকট করে পণ্যের যে পরিমাণ দাম বাড়ানো যায়, এতে জাহাজের ডেমারেজ তেমন কিছুই নয়। ফলে লাইটার জাহাজের সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সরকারের উচিত, কারা লাইটারেজগুলোকে পণ্যের গুদাম বানিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।’

এমডিআইএইচ/এএসএ/এমএস