স্পিনিং শিল্প রক্ষায় প্রণোদনা ও নীতিগত সংস্কারের দাবি
স্পিনিং শিল্প রক্ষায় প্রণোদনা, নীতিগত সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে সংবাদ সম্মেলন/ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে দুই বছরের জন্য ১০ শতাংশ প্রণোদনা, অতিরিক্ত এফওবি চার্জ কমিয়ে ১৫-২০ শতাংশে সীমিত করা এবং ৬৫ থেকে ৩০ কাউন্টের ১০০ শতাংশ কটন সুতা রপ্তানির সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে স্পিনিং শিল্পে কর্মরত কর্মকর্তারা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান এ খাতে কর্মরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তারা বলেন, স্পিনিং শিল্পে চলমান গভীর সংকট নিরসনে জরুরি সরকারি হস্তক্ষেপ দরকার। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা লাখো শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংকট মোকাবিলায় স্পিনিং শিল্পের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুতা দামের প্রতিযোগিতা সক্ষম রাখতে অন্তত দুই বছরের জন্য ১০ শতাংশ প্রণোদনা প্রদান, অতিরিক্ত ফ্রি অন বোর্ড চার্জ কমিয়ে ১৫-২০ শতাংশের মধ্যে সীমিত করা এবং ৬৫ থেকে ৩০ কাউন্টের ১০০ শতাংশ কটন সুতা রপ্তানির সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন।
কর্মকর্তাদের মতে, স্পিনিং খাত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম প্রধান ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হলেও নীতিগত বৈষম্য, উচ্চ সুদের হার ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে খাতটি দীর্ঘদিন ধরে সংকটে রয়েছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে বিটিএমএ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিশন গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে সুতা, ফ্যাব্রিক, ডাইং ও উইভিং খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে একটি সমন্বিত ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্যাকওয়ার্ড ইন্ডাস্ট্রির সক্ষমতা বাড়াতে এবং সার্বিকভাবে সুতা শিল্প টিকিয়ে রাখতে একটি কার্যকর নীতিমালা দ্রুত তৈরি করতে হবে, যাতে আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে গার্মেন্টস শিল্পের জন্য সুতা, ফ্যাব্রিক, ডাইং, প্রিন্টিং এবং স্পিনিং ও উইভিংয়ের প্রয়োজনীয় উৎপাদন সক্ষমতা ডেভেলপ করা সম্ভব হয়।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে সরকার দ্রুত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে এবং স্পিনিং মিল বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত এড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
এমএমকে/