পতনে ব্যাংক-বিমা, বস্ত্র-প্রকৌশলে ভর করে বাড়লো সূচক
দুই কার্যদিবস দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখানোর পর দেশের শেয়ারবাজারে অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ার দাম কমেছে। সেইসঙ্গে বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ঢালাও দরপতন হয়েছে। তবে অধিকাংশ বস্ত্র ও প্রকৌশল কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ায় মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম কমলেও দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠান। দাম বাড়ার তালিকা বড় করার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছে বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে মূল্যসূচকও বেড়েছে। তবে লেনদেন কিছুটা কমেছে। অবশ্য লেনদেন ৭০০ কোটি টাকার বেশি হয়েছে।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। ফলে বাজারটিতেও মূল্যসূচক বেড়েছে। তবে ডিএসইর মতো এ বাজারটিতেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে অধিকাংশ ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম কমে যাওয়ার কারণে মূল্যসূচকও এক পর্যায়ে ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধরা অব্যাহত থাকে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে সার্বিক বাজারে। এতে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫৩টির। আর ৫২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৮ টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ৫৮ বিমা কোম্পানির মধ্যে ৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ৪৮টির দাম কমেছে। বাকি একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে প্রকৌশল খাতের ৩০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে দাম কমেছে ৯টির এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯টির এবং ৮টির দাম অপরিবর্তত রয়েছে।
অধিকাংশ ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম কমার দিনে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১০টির দাম কমেছে এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ২৩টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২০টির এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬টির দাম কমেছে এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২১ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
সবকটি মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭১২ কোটি ৩৪ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৪৬ কোটি ২৪ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবস সাত’শ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলো।
এ লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৯ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৪২ লাখ টাকার। ২০ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ব্র্যাক ব্যাংক, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সিটি ব্যাংক।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৬৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৫টির এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
এমএএস/এমএএইচ/