ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা দূরে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ দাবি

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশিত: ০৮:৩৩ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে চট্টগ্রাম বন্দরে ঘোষিত ধর্মঘট প্রত্যাহার এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

তাদের আশঙ্কা, দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হলে সরবরাহব্যবস্থা, রপ্তানি বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ) প্রধান উপদেষ্টাকে এক যৌথ চিঠি দিয়ে এ দাবি জানিয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতারা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে এরই মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দেশজুড়ে আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট পরিস্থিতি শিল্প ও বাণিজ্য খাতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

তাদের অভিযোগ, ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ ঘোষিত লাগাতার ধর্মঘট এবং বহির্নোঙরে কার্যক্রম বন্ধের কর্মসূচির কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ কনটেইনার এবং ৭৮ শতাংশ সমুদ্রপথের বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হলে তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি খাতগুলো অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। একই সঙ্গে আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালবাহী জাহাজের খালাস বন্ধ হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এতে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

তারা আরও বলেন, বন্দরে জাহাজ জট ও কার্যক্রম স্থগিত থাকলে আমদানিকারকদের প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ‘ডেমারেজ চার্জ’ হিসেবে পরিশোধ করতে হয়, যা জাতীয় অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মতে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কর্মচারী ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও তদন্তের উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

উদ্ভূত সংকট নিরসনে গত এক সপ্তাহ ধরে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ ও সমন্বয় সভা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে জানান ব্যবসায়ী নেতারা। ফলে তারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে সরবরাহব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা দেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

এ পরিস্থিতিতে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে বর্তমান অচলাবস্থা নিরসন হয়ে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

আইএইচও/একিউএফ