ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ঈদের ফ্যাশন ব্যবসা

ইব্রাহীম হুসাইন অভি | প্রকাশিত: ০৩:৪৬ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আরামদায়ক গ্রীষ্মকালীন পোশাক এবং মধ্যম দামের পণ্যের সমন্বয়ে এ বছরের ঈদ বাজারে ভালো প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন ফ্যাশন উদ্যোক্তারা। স্বস্তি ও আস্থাই হতে পারে এবারের ঈদ বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি, বলে মন্তব্য করেছেন ফ্যাশন এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) সভাপতি এবং সাদাকালো ব্র্যান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহারুল হক আজাদ।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ফ্যাশন পণ্যের বিক্রয় প্রত্যাশা নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন আজাদ। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি ইব্রাহীম হুসাইন অভি

জাগো নিউজ: সামনে ঈদ। এ বছরের ঈদ বাজার নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী? ব্যবসা-বাণিজ্য কেমন হতে পারে বলে মনে করছেন?

আজহারুল হক আজাদ: আমরা আশাবাদী। গত দেড় বছর ধরে দেশে একটি রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল। মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও দ্বিধা কাজ করছিল। এখন পরিস্থিতি অনেকটা স্থিতিশীল। মানুষ যখন মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকে, তখনই কেনাকাটায় আগ্রহী হয়। সেই জায়গা থেকে আমরা মনে করছি, এ বছরের ঈদ বাজার ভালো হবে।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ঈদের ফ্যাশন ব্যবসা

জাগো নিউজ: এ বছর আবহাওয়া কিছুটা ভিন্ন—না পুরো শীত, না পুরো গরম। সেই বিবেচনায় কী ধরনের পণ্য ও ডিজাইনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন?

আজহারুল হক আজাদ: এখন মূলত গরমের মৌসুমই বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। তাই আমরা আরামদায়ক, হালকা ও সুতি কাপড়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কটন, লিনেন, হালকা ব্লেন্ডেড ফেব্রিক—এসবই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ডিজাইনের ক্ষেত্রেও আমরা এমন স্টাইল রাখছি, যা একই সঙ্গে ট্রেন্ডি ও ব্যবহারবান্ধব।

পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও ক্যাজুয়াল সেটে হালকা রং ও মিনিমাল ডিজাইন রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য থ্রি-পিস, টু-পিস ও কুর্তিতে সফট টোন এবং আরামদায়ক কাটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ঈদের ফ্যাশন ব্যবসা

জাগো নিউজ: অনেকে অভিযোগ করেন, ব্র্যান্ডের পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। মূল্যকে কতটা সহনীয় বা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা সম্ভব হচ্ছে?

আজহারুল হক আজাদ: ‘দাম বেশি’—এই কথাটা আসলে কার সঙ্গে তুলনা করে বলা হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। গত পাঁচ-সাত বছরে পোশাকের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়েনি। কিন্তু অনেক সময় স্থানীয় ব্র্যান্ডের পণ্যের সঙ্গে আমদানিকৃত বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাক্টের তুলনা করা হয়।

আমাদের অনেক পণ্যই হ্যান্ডমেড বা সেমি-হ্যান্ডমেড, যেখানে ডিজাইন, শ্রম ও মানের একটি আলাদা মূল্য রয়েছে। চীনা বা অন্য দেশের ম্যাস-প্রোডিউসড পণ্যের সঙ্গে সেটির সরাসরি তুলনা করা কঠিন।

তবে আমরা চেষ্টা করি বিভিন্ন প্রাইস রেঞ্জে পণ্য রাখতে, যাতে মধ্যবিত্ত ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে কিনতে পারেন।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ঈদের ফ্যাশন ব্যবসা

জাগো নিউজ: মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন?

আজহারুল হক আজাদ: কাঁচামাল, ভাড়া, বিদ্যুৎ, শ্রম—সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। তারপরও আমরা মার্জিন কমিয়ে হলেও ক্রেতার জন্য গ্রহণযোগ্য মূল্য রাখার চেষ্টা করছি। কারণ দীর্ঘমেয়াদে ব্র্যান্ড টিকিয়ে রাখতে হলে ক্রেতার আস্থা ধরে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জাগো নিউজ: এ বছর ক্রেতারা কোন ধরনের পণ্য সবচেয়ে বেশি পছন্দ করবেন বলে মনে করছেন?

আজহারুল হক আজাদ: এ বছর গ্রাহকরা মূলত আরামদায়ক, হালকা ও ব্যবহারিক পোশাকের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। বিশেষ করে সফট কটন, লিনেন ও ব্রিদেবল ফ্যাব্রিকের পাঞ্জাবি, কুর্তা এবং থ্রি-পিস সেটের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে।

তরুণ ক্রেতাদের মধ্যে মিনিমাল ডিজাইন, প্যাস্টেল রং, আর্থি টোন এবং সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারির পোশাক বেশি জনপ্রিয়। অন্যদিকে, পরিবারভিত্তিক কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্লাসিক ডিজাইন ও সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এ বছর গ্রাহকরা এমন পণ্যই বেশি পছন্দ করছেন, যেগুলো একদিকে ট্রেন্ডি, অন্যদিকে আরামদায়ক এবং উৎসবের পরেও নিয়মিত ব্যবহারযোগ্য।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ঈদের ফ্যাশন ব্যবসা

জাগো নিউজ: ঈদ বাজারে ক্রেতাদের প্রতি আপনার বার্তা কী?

আজহারুল হক আজাদ: আমরা চাই মানুষ দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দিক। স্থানীয় ফ্যাশনশিল্প শুধু ব্যবসা নয়, এটি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত। দেশীয় ব্র্যান্ডকে সমর্থন করা মানে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।

আমরা বিশ্বাস করি, এ বছরের ঈদ বাজারে ইতিবাচক পরিবেশ থাকবে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা—উভয়ের জন্যই এটি হবে সন্তোষজনক।

জাগো নিউজ: সাধারণত একটি ফ্যাশন হাউজের মোট বার্ষিক বিক্রির কত শতাংশ ঈদ বিক্রি থেকে আসে?

আজহারুল হক আজাদ: বাংলাদেশে ফ্যাশন খাতে ঈদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বার্ষিক মোট বিক্রির প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঈদ মৌসুম থেকেই আসে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতর সবচেয়ে বড় সিজন। তাই এই সময়ের প্রস্তুতি আমরা অনেক আগে থেকেই নিয়ে থাকি।

আইএইচও/এমএমএআর