ঈদের কেনাকাটার ধুম, বেশি বিক্রির আশা নিউমার্কেটের দোকানিদের
অনেকেই মার্চ মাসের বেতন পেয়ে আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে রাখছেন/ছবি: বিপ্লব দিক্ষিৎ
ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীর নিউমার্কেটে কেনাকাটরা ধুম লেগেছে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা ছুটে আসছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। বিক্রেতারা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এবার স্থিতিশীল থাকায় ভালো বিক্রির আশা করছেন তারা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর নিউমার্কেটে এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিউমার্কেটের সবগুলো মার্কেটেই ক্রেতা সমাগম বেশি। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়াতে ক্রেতার সংখ্যা আরও বেড়েছে। তাছাড়া ক্রেতারা বলছেন, অনেকেই মার্চ মাসের বেতন পেয়ে আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে রাখছেন। শেষ দিকে মার্কেটে ভিড় হয় বেশি। তাই ভিড়-ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন।

মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ছেলেদের পোশাকের মধ্যে পাঞ্জাবী ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকা, কাবলি পাঞ্জাবী ১৩০০ থেকে ৩৫০০ টাকা, টি-শার্ট ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, পোলো টি-শার্ট ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা, জিন্স ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা, শার্ট ৬০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব কাপড়ের চাহিদাই বেশি।
নারীদের জামদানি শাড়ি ৫০০০ টাকা থেকে ১০০০০ টাকা, টাঙ্গাইল ৬০০ থেকে ২০০০ টাকা, কাতান শাড়ি ২৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা, সিল্ক ৩০০০ থেকে ৮০০০ টাকা, শিফন শাড়ি ২০০০ থেকে ৪০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মানভেদে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকছেন দোকানিরা।
এছাড়া, মেয়েদের বহুল ব্যবহৃত পোশাক সালোয়ার কামিজ বা থ্রি-পিস ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা, কুর্তি বা টপস ৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি আধুনিক ফ্যাশনের মধ্যে গাউন, টপস ও জিন্স প্যান্টও এবার জনপ্রিয়। এগুলোর দাম প্রায় ৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাপড়ের মান, নকশা, ব্র্যান্ড ও হাতের কাজের ওপর নির্ভর করে এসব পোশাকের দাম নির্ধারিত হয়।

কেনাকাটা করতে আসা রুপালী আক্তার বলেন, কয়েকদিন পর ভিড় হবে বেশি। তাই আগেই কেনাকাটা করতে আসছি। বাচ্চাদের নিয়ে ভিড়ের মধ্যে কাপড় কেনা যায় না। একটা শাড়ি কিনেছি, আরও কিছু কিনবো।
মিলন রহমান নামের আরেক ক্রেতা বলেন, এ মাসের বেতন পেয়েছি। যদিও ঈদের বোনাস এখনও পাইনি। তারপরও কেনাকাটা কিছুটা সেরে রাখছি। ঈদের দিন যত এগিয়ে আসবে শপিং করতে তত ঝামেলা বাড়বে। এজন্য আগেই চলে এলাম।
নিউমার্কেটের ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের শাড়ির দোকানী জাবেদ আলী বলেন, এবার ক্রেতা আগে থেকেই বেশি। অনেক ক্রেতা আসছেন। গত কয়েক বছর আমাদের ব্যবসা ভালো হয়নি, রাজনৈতিক অবস্থা ভালো ছিলো না। এবার আশা করছি ঈদে ভালো বিক্রি করতে পারবো।
গ্লোব সুপার মার্কেটের দোকানি জাহাঙ্গীর বলেন, প্যান্ট, শার্টের ক্রেতা বেশী। গরমের সময় হওয়ায় সবাই একটু হালকা-আরামদায়ক কাপড় খুঁজছে। আমারাও সেভাবে কালেকশন করেছি। আশা করছি এবার ভালো বেচাকেনা করতে পারবো।
এদিকে, নিউমার্কেটর গাউছিয়া মার্কেটের সামনে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের সহায়তাসহ মার্কেট এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
এনএস/এএমএ