ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

এমসিসিআই

১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রাধান্য দিতে হবে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ০৯ মার্চ ২০২৬

নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেছ মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। একই সঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা ও রপ্তানি বৈচিত্র্য বাড়িয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের কার্যালয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত ‘নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে সংগঠনটির পক্ষে এসব কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মাসরুর রিয়াজ।

দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত স্থিতিশীল করা, বেসরকারি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই ও নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মাসরুর রিয়াজ।

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে আমরা সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছি। সরকারের উচিত এসব খাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।’

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতি যখন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের বিষয়টি একটি ভুল বার্তা দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য হয়রানি, দুর্নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দুর্বলতার মতো বিষয়গুলোতে সরকারকে কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সব প্রতিষ্ঠানে ফরেনসিক অডিট করারও পরামর্শ দেন তিনি, যাতে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বাড়ানো যায়। একই সঙ্গে তিনি নাগরিক সমাজ, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করে একটি জাতীয় সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানান।

হোসেন জিল্লুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, ‘দুর্নীতির চেয়েও হয়রানি অনেক সময় বেশি ক্ষতিকর। একজন ব্যবসায়ীর যদি নিয়ম অনুযায়ী একদিনে অনুমতি পাওয়ার কথা থাকলেও এক মাস ঘুরতে থাকেন, তার প্রভাব অনেক বড়। এটা পুরো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ধীর করে দেয়।’

বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, নতুন সরকার ১২ তারিখে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশকে যে পরিস্থিতিতে পেয়েছে, সেটি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। অর্থনীতির প্রকৃত আকার ও বাস্তব অবস্থা নিয়েও খোঁজ রাখতে হবে। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৬ থেকে ৬.৫ শতাংশ বলা হলেও বাস্তবে জনগণ নানা পর্যায়ে কর দিচ্ছে। ফলে এই পরিসংখ্যান বাস্তব নাকি অতিরঞ্জিত—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, তাদের গবেষণাভিত্তিক এই প্রকাশনা সরকারের জন্য অর্থনীতি স্থিতিশীল করার কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের ফলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। বিষয়টি মাথায় রেখে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারকে বিবেচনায় নিয়ে একটি ১০০ দিনের রোডম্যাপ প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইএইচটি/এমআইএইচএস/