আমেরিকান চার্টারে ২ লাখ টন ক্রুড বহন নিয়ে বিপিসির ‘দুশ্চিন্তা’
পাঁচদিন ধরে লোড নিয়ে সৌদি আরবের বন্দরে আটকা জাহাজ নর্ডিক পোলাক্স
- পাঁচদিন ধরে লোড নিয়ে সৌদি আরবের বন্দরে আটকা জাহাজ নর্ডিক পোলাক্স
- ১০ দিন পেছানো হলো আমিরাতে লোড নিতে যাওয়া আরেক জাহাজের শিডিউল
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) চার্টারার প্রতিষ্ঠান (জাহাজের মালিক ও ভাড়াকারীর মধ্যে সামুদ্রিক চুক্তি) আমেরিকান কোম্পানি। এতে চলতি মাসে দুই লাখ টন ক্রুড অয়েল পরিবহনে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামে একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল লোড নিয়ে পাঁচদিন ধরে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা।
অন্য আরেকটি পার্সেলে এক লাখ টন ক্রুড লোড নিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরে যেতে অনীহা রয়েছে আরেক জাহাজ মালিকের। বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বিপিসির মালিকানাধীন একমাত্র পরিশোধন কেন্দ্র ইস্টার্ন রিফাইনারি। এখানে ব্যবহৃত শতভাগ ক্রুড অয়েল আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ জিটুজি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব ক্রুড আমদানি করে। এসব ক্রুড পরিবহন করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। বিএসসি এসব ক্রুড পরিবহনের জন্য বর্তমানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জি থেকে চার্টারে জাহাজ ভাড়া নেয়।
বিএসসির চার্টারার প্রতিষ্ঠান আমেরিকান কোম্পানি হওয়ায় চলতি মাসে দুই লাখ ক্রুড পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্বে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনেক তেল স্থাপনায় হামলা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ইরানের হুঁশিয়ারির কারণে অনেকটা বন্ধ থাকায় এ সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
অ্যারাবিয়ান লাইট ও মারবান ক্রুড আমদানি হয় বাংলাদেশে। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এসব ক্রুড পরিশোধন করা হয়। এখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি মূল আলোচনায় চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এ জলপথে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়।-ক্যাপ্টেন এনাম আহাম্মেদ চৌধুরী
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এ জলপথকে বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বড় অংশ হরমুজ প্রণালি হয়েই পরিবাহিত হয়। প্রধান রপ্তানিকারক সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ইরাক ও ইরানের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এই জলপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করে। দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের মতো অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
চলতি সপ্তাহে ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব পড়ে। এ জলপথ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও এলপিজি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে এক লাখ ক্রুড অয়েল লোড করে পাঁচদিন ধরে অ্যাংকরে আটকা পড়েছে নর্ডিক পোলাক্স নামের ট্যাংকার জাহাজটি। নর্ভিক এনার্জি জাহাজটি দিয়ে বিএসসির হয়ে এসব ক্রুড অয়েল পরিবহন করছে।
আরও পড়ুন
সংকটের মধ্যে ডিজেল-অকটেন বিক্রি বেড়েছে ১২-১৮ শতাংশ
স্পট মার্কেট থেকে দুই লাখ টন ডিজেল কিনছে বিপিসি
আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকা ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’
একইভাবে আরও এক লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড লোডের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবলদানা বন্দরে যাওয়ার কথা ছিল নর্ভিক এনার্জির সরবরাহ করা আরেকটি জাহাজ ওমেরা গ্যালাক্সির। আগামী ২০-২১ মার্চ জাহাজটি লোড নেওয়ার জন্য যাওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মালিকপক্ষ জাহাজটি জেবলদানা বন্দরে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করে। এতে চার্টারার প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জির পক্ষ থেকে ওই পার্সেলটি ১০ দিন পিছিয়ে দিতে অনুরোধ জানায়। কারণ জেবলদানায় যেতে হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে হয় জাহাজগুলোকে।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সুযোগ দিতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। তবে আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার কারণেই বাংলাদেশের আমদানি করা ক্রুড অয়েলপরিবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি নর্ডিক পোলাক্স নামের ট্যাংকার জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে তেল লোড নিয়ে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রাস তানুরার বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জাহাজটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না। যদিও হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ।-বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন এনাম আহাম্মেদ চৌধুরী। জাহাজ চালনা ও পরিচালনায় ৪৮ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ক্যাপ্টেন এনাম আহাম্মেদ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘অ্যারাবিয়ান লাইট ও মারবান ক্রুড আমদানি হয় বাংলাদেশে। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এসব ক্রুড পরিশোধন করা হয়। এখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি মূল আলোচনায় চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এ জলপথে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘বিএসসি চার্টার জাহাজ দুটিতে আমেরিকান কোম্পানির ব্যবসা কিংবা স্বার্থ রয়েছে, সেটি যদি ইরান জানতে পারে তাহলে বিষয়টি আতঙ্কের। এখন হরমুজে আমেরিকান ও ইসরায়েলের নাম শুনলেই তো ইরান ক্ষেপে যাবে। এটা আমাদের অয়েল সেক্টরের জন্য বড় মাথাব্যথা। যদি কোনো ইনসিডেন্ট ঘটে তাহলে আমাদের জ্বালানি সেক্টর সংকটে পড়বে।’
এখন সমুদ্রপথে গোপনে অনেক ব্যবসা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএসসি নিজেদের স্বার্থে গোপনে কাজগুলো করছে। নর্ভিক-টর্ভিক এগুলো সেটাপ করা গেম। যারা চেয়ারে আছে, তাদের অনেকে এগুলোর ভাগিদার। এখানে এক কোম্পানি ব্যবসা নিয়ে আরেক কোম্পানিকে বেচে দেয়।’
জাহাজগুলো কান্ট্রিওয়াইজ। বাংলাদেশের আমেরিকার সঙ্গে শত্রুতা, তা তো নয়। আবার বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানেরও সম্পর্ক খারাপ, তাও নয়। আমরা এমন কোনো এভিডেন্স পাইনি যে আমেরিকান শিপওনার কিংবা আমেরিকান শিপ চার্টারার হওয়ায় শিপের চলাচল হেল্ডআপ আছে, এটি তেমন নয়। তবে সেভ এবং সেফটির জন্য আমাদের সরকারও রাস তানুরা থেকে জাহাজ ছাড়ার ক্লিয়ারেন্স নাও দিতে পারে।-বিএসসির চার্টার প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জির বাংলাদেশে লোকাল এজেন্ট প্রাইম ওশান ট্রেড লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (অপারেশন) মো. হাবিব
বিপিসি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। ৯২ শতাংশ আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসিকে। এর মধ্যে ১৫ লাখ টন আমদানি করা পেট্রোলিয়াম ক্রুড পরিশোধন করে পাওয়া যায়। বিপিসির আমদানি করা ১৫ লাখ টন ক্রুডের পুরোটাই পরিবহন করে বিএসসি। এসব ক্রুড আমদানির ক্ষেত্রে মাদার ট্যাংকার ভাড়া নেওয়া থেকে শুরু করে পতেঙ্গার মূল স্থাপনায় লাইটারিংয়ের দায়িত্ব পালন করে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।
বিএসসি সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল পরিবহনের জন্য আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জির সঙ্গে বিএসসির চার্টার চুক্তি রয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী- লোডিং পয়েন্ট থেকে পরিবহন করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করে চার্টার প্রতিষ্ঠান নর্ভিক। এক লাখ টনের মাদার ট্যাংকার প্রথমে বহির্নোঙরে আসার পর ক্রুডগুলো লাইটারিং করে পতেঙ্গা ইস্টার্ন রিফাইনারির প্ল্যান্টে আনা হয়। এসব লাইটারিংয়ের জন্য নর্ভিক এনার্জি চুক্তিতে বসুন্ধরা গ্রুপের লাইটার জাহাজ ভাড়া নেয়।

ওমেরা গ্যালাক্সি জাহাজটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আমদানি করা শতভাগ ক্রুড অয়েল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন পরিবহন করে। অনেক বছর ধরে আমরা কাজটি সুনামের সঙ্গে করে আসছি। সম্প্রতি নর্ডিক পোলাক্স নামের ট্যাংকার জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে তেল লোড নিয়ে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রাস তানুরার বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জাহাজটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না। যদিও হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে।’
নর্ডিক পোলাক্সকে দেশে আনার বিষয়ে প্রচেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে জাহাজটি বের করে আনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিপিসিকে এ নিয়ে চিঠি দিয়েছি। বিপিসি তাদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সরকারি উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক না হলে জাহাজটির যাত্রা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমাদের আরেকটি জাহাজ ক্রুড লোড করার পরিকল্পনা ছিল। যেটি ২০-২১ মার্চ লোডিং পয়েন্টে যাওয়ার কথা ছিল। যেটি নর্ভিক এনার্জি পরিবহনের অর্ডার পেয়েছে। আমার জানা মতে তারা (নর্ভিক) একটি অনুরোধ করেছে পার্সেলটি মাসের শেষ দিকে পিছিয়ে নেওয়ার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘জাহাজটি আমিরাতের জেবেলদানা বন্দরে লোড হওয়ার কথা। জেবেলদানা হরমুজ প্রণালির মধ্যে। সেজন্য তারা জাহাজটি বিকল্প হিসেবে ফুজাইরা বন্দর থেকে লোড দেওয়ারও অনুরোধ জানায়। কিন্তু ফুজাইরাতে জেটি খালি থাকা, তেলের সরবরাহ যথেষ্ট আছে কি না, সেটা দেখতে হবে। পাশাপাশি খরচ কতটুকু বাড়ছে সে হিসাবও করতে হবে। বিপিসি বিষয়টি মূল্যায়ন করবে। আমরাও বিষয়টি তদবির করবো।’
‘বিপিসি সামগ্রিক বিষয়গুলোতে সম্মতি দিলে তখন পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান জাহাজ ফুজাইরায় পাঠাবে। তখন হরমুজ বন্ধ থাকলেও তেল পরিবহনে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা সুন্দরভাবে তেল এনে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে দিতে পারবো।’
মালেক আরও বলেন, ‘জেবেলদানায় আগে থেকে প্ল্যান সেট করা আছে। যতক্ষণ না হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হচ্ছে, ততক্ষণ তেলের জাহাজ কোনোভাবেই এ পথে পাঠানো সমীচীন হবে না। আমাদের শক্ত পরামর্শ হচ্ছে- নিরাপত্তা ইস্যুর উন্নতি না হলে জেবেলদানায় যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।’
বিএসসির চার্টার প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জির বাংলাদেশে লোকাল এজেন্ট প্রাইম ওশান ট্রেড লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (অপারেশন) মো. হাবিব জাগো নিউজকে বলেন, ‘নর্ডিক পোলাক্স জাহাজটি রাস তানুরাতে সেভ সাইটে অ্যাংকর দিয়ে বসা আছে। আমরা নর্ভিকের লোকাল এজেন্ট হিসেবে কাজ করি।’
নর্ভিক আমেরিকান কোম্পানি হওয়ায় জাহাজগুলো হরমুজ দিয়ে আসতে অনীহা প্রকাশ করছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গড়ে সবাইকে হরমুজ দিয়ে চলাচলের ক্লিয়ারেন্স (ইরানের সম্মতি) দিচ্ছে বিষয়টি তা নয়। এখন যারা ক্লিয়ারেন্স পাচ্ছে, তারা আসছে। আমরা এখনো আপডেট ডাটা নিতে পারছি না।’
তিনি বলেন, ‘জাহাজগুলো কান্ট্রিওয়াইজ। বাংলাদেশের আমেরিকার সঙ্গে শত্রুতা, তা তো নয়। আবার বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানেরও সম্পর্ক খারাপ, তাও নয়। আমরা এমন কোনো এভিডেন্স পাইনি যে আমেরিকান শিপওনার কিংবা আমেরিকান শিপ চার্টারার হওয়ায় শিপের চলাচল হেল্ডআপ আছে, এটি তেমন নয়। তবে সেভ এবং সেফটির জন্য আমাদের সরকারও রাস তানুরা থেকে জাহাজ ছাড়ার ক্লিয়ারেন্স নাও দিতে পারে।’
আমিরাত থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড লোডিংয়ের ডেট পেছানোর অনুরোধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি শান্ত হলে জাহাজ গিয়ে ক্রুডগুলো নিয়ে আসবে। ওরা জেবেলদানায় কার্গো দেয়। ৩০-৩১ মার্চ জাহাজটি লোডের জন্য যেতে পারে। জেবেলদানা থেকেও হরমুজ হয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়।’
বৈশ্বিক জাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ভ্যাসেল ফাইন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, নর্ডিক পোলাক্স জাহাজটি গত ৩ মার্চ থেকে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরের অ্যাংকরে অবস্থান করছে। জাহাজটি পশ্চিম ক্যারিবিয়ান সাগরের ব্রিটিশ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কেইম্যান আইল্যান্ডের পতাকাবাহী।
ওমেরা গ্যালাক্সি জাহাজটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী। এটি বাংলাদেশি জ্বালানি খাতের জায়ান্ট শিল্প গ্রুপ এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসির (মবিল-যমুনা) মালিকানাধীন। জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। বাংলাদেশি মালিকানায় আসার আগে জাহাজটির নাম ছিল ‘এমটি নিসোস ডেলস’।
এমডিআইএইচ/এএসএ
সর্বশেষ - অর্থনীতি
- ১ খেলাপি ঋণ আদায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া জোরদারের নির্দেশ
- ২ শিল্পের চলমান সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চায় বিজিএমইএ
- ৩ ট্রেজারি বন্ড জামানত রেখে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক
- ৪ দ্বিগুণের বেশি দামে তিন কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার
- ৫ আমেরিকান চার্টারে ২ লাখ টন ক্রুড বহন নিয়ে বিপিসির ‘দুশ্চিন্তা’