ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

সুপারশপ খাতে নীতি সহায়তা ও কর কাঠামো সংস্কার চান ব্যবসায়ীরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:২১ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬

একটি দেশের অর্থনীতির আকার ও উন্নয়নের চিত্র অনেকটাই প্রতিফলিত হয় সুপারশপ খাতের মাধ্যমে— এমন মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের আগেই বাংলাদেশে সুপারশপের যাত্রা শুরু হলেও প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তার অভাবে এ খাত প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি।

বক্তারা খাতটির বিকাশে সরকারের কার্যকর নীতি সহায়তা, বিশেষ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ন্যূনতম কর কাঠামোর অযৌক্তিক দিকগুলো সংশোধন এবং সুপারশপ খাতের অবদান জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ‘বাংলাদেশের আধুনিক রিটেইল খাতের উন্নয়ন: প্রতিবন্ধকতা, উত্তরণের উপায় ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলা হয়।

বাংলাদেশ সুপারমার্কেট অনার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এ বৈঠকে সহযোগিতা করে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেড।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর নীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশিস বড়ুয়া। বৈঠকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ সুপারমার্কেট অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুয়াল্লেম আহমেদ চৌধুরী, ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাসুদ খান, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. কাউসার আলম, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা, এনবিআরের সাবেক সদস্য অপূর্ব কান্তি দাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. এম আবু ইউসুফ প্রমুখ।

বৈঠকে মো. জাকির হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতিতে সুপারমার্কেট খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও তা অনেক সময় যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় পর্যায়ে এ খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আইন–২০১৩ প্রণয়নেও এর ভূমিকা ছিল।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি সুপারমার্কেটের সঙ্গে হাজার হাজার সরবরাহকারী যুক্ত, যার মধ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন। ফলে এ খাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যবসায়ীর সংখ্যাও বাড়ছে।

মিনিমাম ট্যাক্স কমানোর দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্যাক্স কমানো হলে সুপার মার্কেটের সম্প্রসারণ বাড়বে ও এতে সরকারের বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। ভ্যাট কমানোর ফলে গত বছর অনেক সুপার মার্কেট তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। নতুন নতুন সুপার শপ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সব দোকানে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) বসানোর দাবিও প্রথমে সুপার মার্কেট খাত থেকেই উঠেছিল। গত ২২ বছর ধরে ভ্যাট ও ট্যাক্সসংক্রান্ত নানা বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে আসছে সুপার মার্কেট খাত।

সুপার মার্কেট খাতের প্রসার দেশের উন্নয়নের একটি সূচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক দেশে সুপার মার্কেট সংস্কৃতি উন্নত অর্থনীতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সরকারি নীতিগত সহায়তার অভাবে বাংলাদেশে এই খাত প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। পণ্যমূল্য বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে জাকির হোসেন খান বলেন, বাজারে হাতবদল বেশি হওয়ার কারণেই পণ্যের দাম বাড়ে। সুপার মার্কেট সরাসরি উৎপাদনকারী বা কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করায় হাতবদল কম হয় ও এতে ভোক্তার জন্য মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর সদস্য মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে যেভাবে ব্যবসায়ে লাভ না হলেও বিক্রির ওপর ন্যূনতম কর নেওয়া হচ্ছে, তা আয়কর আইনের সঙ্গে কোনোভাবেই যায় না। তিনি বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে ট্যাক্স আদায়ের যে পদ্ধতিটি আছে, বিশেষ করে মিনিমাম ট্যাক্সের যে ধারণাটি আছে, আমি নিজেও মনে করি ইট ডাজন্ট গো উইথ দ্য ফিলোসফি অব প্রগ্রেসিভ ট্যাক্স। বিশেষ করে আয়কর আইনের সঙ্গে কোনোভাবেই এটি যায় না।

মূলপ্রবন্ধে এসএম এসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর স্নেহাশিস বড়ুয়া বলেন, আধুনিক রিটেইল বা সুপারশপ খাতে ন্যূনতম কর ১ শতাংশ থাকায় এ খাতের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হচ্ছে না। ২০৩০ সালের মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের এ খাত হওয়ার গবেষণালব্ধ ধারণা থাকায় এবং এ খাত পুরোপুরি আনুষ্ঠানিক ও ডিজিটালাইজড হওয়ায় এখানে ন্যূনতম কর ‘যৌক্তিকীকরণ’ করতে হবে।

এ খাতের পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্নেহাশিস বড়ুয়া বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে রিটেইল বাজারের আকার প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার, যেখানে এই খাত সরাসরি ১৭ হাজার ৫০০ এর বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। তবে সুপারশপ খাতের মতো সংকুচিত মুনাফার ব্যবসায় কর-পূর্ব আয়ের প্রান্তিক সীমা যেখানে ১ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে ১ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স (বিক্রির ওপর নূন্যতম কর-মুনাফা না হলেও) মূলত এ শিল্পের প্রকৃত মুনাফার ওপর একটি বড় আঘাত। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এ নীতি মোট আয়ের প্রায় ৬৮ শতাংশই নিঃশেষ করে দেয়। ফলে এ শিল্পে খাতে পুনর্বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ইএইচটি/এমএএইচ/