সরকারি দামে কি মিলবে এলপিজি সিলিন্ডার, প্রশ্ন ভোক্তাদের
একটি খুচরা দোকানে বিক্রির জন্য রাখা এলপিজি সিলিন্ডার/ফাইল ছবি
রাজধানীর মতিঝিলের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন। মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ছয় সদস্যের পরিবার তার। লালবাগে মাসে ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। তিতাস গ্যাসের সংযোগ না থাকায় বাড়িওয়ালার শর্ত অনুযায়ী রান্নার জন্য তাকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিজ খরচে কিনতে হয়।
কয়েক মাস আগেও ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার তিনি কিনতেন প্রায় ১,২০০ টাকায়। কিন্তু গত দুই মাসে কখনো ২,৪০০, কখনো ২,২০০ টাকায় কিনেছেন তিনি। সর্বশেষ দুদিন আগে ১,৮০০ টাকায় কিনেছেন। অথচ গত জানুয়ারিতে সরকার নির্ধারিত মূল্য ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। কিন্তু সেই দামে তিনি কখনোই কিনতে পারেননি।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নতুন করে ১২ কেজি এলপিজির দাম ১,৩৪১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
ভোক্তার ক্ষোভ
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আনোয়ার হোসেন বলেন, সংসারের খরচ, ছেলেমেয়ের পড়াশোনা, বাবা-মায়ের চিকিৎসা—সব মিলিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়ল। আমরা কি সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস পাবো, নাকি আগের মতো বেশি দামেই কিনতে হবে?
চাপ বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে
এলপিজির দাম বৃদ্ধিতে নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার, হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকার একটি ছোট হোটেলের মালিক হাসান মিয়া বলেন, প্রতিদিন ২-৩টা সিলিন্ডার লাগে। সরকার যে দাম ঠিক করে, তার চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়। এখন প্রশ্ন—সরকারি দামে আদৌ গ্যাস পাওয়া যাবে কি না।
গত এক বছরে দামের ওঠানামা
আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে (এপ্রিল ২০২৫-মার্চ ২০২৬) সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুযায়ী অন্তত ছয় দফা দাম বেড়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল, জুন, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দাম বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে জুলাই ও নভেম্বর মাসে কিছুটা কমলেও তা স্থায়ী হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম নির্ধারণে সৌদি সিপি বৈশ্বিক চাহিদা, মৌসুমি প্রভাব এবং ডলারের বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাস্তব বাজারে মানা হবে কি এই দাম?
যদিও সরকার নির্ধারিত নতুন মূল্য ১ হাজার ৭২৮ টাকা, বাস্তব বাজারে এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বাড়তি দাম নেওয়া হয়, এমনকি রশিদও দেওয়া হয় না।
ধানমন্ডির ভোক্তা জামালউদ্দিন বলেন, সরকার দাম ঠিক করে দিলেও দোকানে গেলে অন্য দাম বলা হয়।
গত এক বছরে এলপিজির দাম কয়েক দফা বাড়ানো ও কমানো হলেও সাম্প্রতিক এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে বড়—এক মাসেই প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঘন ঘন দামের পরিবর্তন ভোক্তাদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এমইউ/এমএমকে