প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক, করহারে ‘সমান সুযোগ’ চান বিদেশি বিনিয়োগকারীরা
ব্যবসায় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ও চলমান অর্থনৈতিক চাপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) বা ফিকি।
সংগঠনটি বলছে, কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ডলার সংকট ও মূল্যস্ফীতি বাড়ায় বিভিন্ন খাতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় টেকসই বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সরকারকে সহায়তামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব করনীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি কর প্রদানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডি (ন্যায়সঙ্গত বা সমান সুযোগের পরিবেশ) নিশ্চিত করার প্রস্তাবও করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। আলোচনায় ফিকি সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী ছাড়াও সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ফিকির পক্ষে বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন করবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
ফিকি সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী বলেন, কোভিড থেকে আমাদের ডাউনফল শুরু হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ডলারের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। আমাদের সেক্টর ডিক্লাইন করেছে। বিভিন্ন খাত নেতিবাচক গ্রোথে আছে। আমাদের সহায়তা করলে ব্যবসাটা করতে পারবো। ক্রাইসিস বেড়ে গেলে কনজ্যুমার মার্কেট কমে যাবে।
‘আমরাই শুধু না, সব সেক্টরে এই জিনিসটা হচ্ছে। আমি অনেকগুলো বোর্ডে আছি। কোনো কোনো সেক্টরে একেকটা কোম্পানি নেগেটিভ ২০ শতাংশ গ্রোথ হয়েছে। নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে না। আমাদের কর্মসংস্থান তৈরি ও রাজস্ব আদায়ের মধ্যে ব্যালেন্স তৈরি করতে হবে। যারা কর দেয় তাদের ওপর করের বোঝা বাড়ানো হলে তারা দুর্বল হয়ে পড়বে’—যোগ করেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার ওপর কর বাড়ানোর চাপ আছে। কিন্তু যখন ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো করছে না তখন আপনি কর বাড়াবেন কী করে। কেউ ভালো করছে না। করের জাল বাড়াতে গেলেও আপনার সময় লাগবে।
ব্যবসায়ীদের ওপর বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু লোক অন্যায় করবে, আর বলা হবে ‘ব্যবসায়ী মাত্রই চোর’—এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
আলোচনায় ফিকির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (পিএসআর) একাধিক প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেন।
তিনি বলেন, গাড়ির ফিটনেসে করতে গেলে বিআরটিএ যেন টিআইন ও পিএসআর নেয়। এছাড়া এনবিআরের অটোমেশনে আলাদা রোডম্যাপ চেয়েছেন তিনি। কর প্রদানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় ভ্যাট রিটার্ন সম্পূর্ণ অনলাইনে করার আহ্বান জানিয়েছে ফিকি। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগামী বছর থেকে হাতে রিটার্ন নেবো না। সফটওয়্যারজনিত সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে।
কর অব্যাহতি পারফরম্যান্স বেজড করার আহ্বান জানায় স্নেহাশীষ বড়ুয়া। বেভারেজসহ কয়েকটি খাতের ওপর অনেক বেশি করের চাপ দেওয়া হয়েছে—ফিকির এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রতি বছর বাজেট করার আগে আমাদের বড় লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। কার্যক্রম বাড়িয়ে খুব বেশি করে আদায় করতে পারি না। এজন্য পলিসি মেজারে কর হার কম-বেশি করে দেই। ওইটাই কারণ। আর কোনো কারণ নেই।
রিক্স বেইজড অডিট যেন সঠিকভাবে করা হয় এমন প্রস্তুাব তুলে ধরেন স্নেহাশীষ। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এখন সঠিকভাবে হবে না। কারণ, এখনো টোটাল ডাটা পাচ্ছি না। আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যে আমরা ইনকাম ট্যাক্সের ৬০ হাজার অডিট সিলেকশন করবো। এটার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ সময়ে রিটার্ন দাখিল অনলাইনে বাধ্যতামূলক ছিল না। কিছু ডাটা ছিল, ওই ডাটা ব্যবহার করছি। ২০২৪-২৫ এ কিছু ডাটা অফলাইনে পড়েছে, যেগুলো শতভাগ ডিজিটাল করা হবে। ধীরে ধীরে সব হবে। এটা নিশ্চিত—এখানে কোনো মানুষের হাত থাকবে না।
এসএম/এমকেআর
সর্বশেষ - অর্থনীতি
- ১ দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানির সঙ্গে ২৪.০৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই করলো বেপজা
- ২ প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক, করহারে ‘সমান সুযোগ’ চান বিদেশি বিনিয়োগকারীরা
- ৩ এসএমই ও কৃষিখাতে জোর দেওয়ার আহ্বান গভর্নরের
- ৪ ৮ এপ্রিল খুলছে নাসা মেইনল্যান্ড গার্মেন্টস: শ্রমমন্ত্রী
- ৫ ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামানোর আহ্বান এফবিসিসিআইয়ের