ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

পুরান ঢাকায় হালখাতা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০১:২৯ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বিপুল আনন্দ-উৎসাহের সঙ্গে দেশজুড়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হচ্ছে। পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজারসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রাধান্য এলাকাগুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের হালখাতা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পঞ্জিকা ও তিথি অনুযায়ী নববর্ষের লগ্ন কিছুটা পিছিয়ে থাকায় অনেক মন্দিরে ধর্মীয় আচার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে শুভ হালখাতা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বুধবার।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজার এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, স্বর্ণ ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও বৃহৎ ব্যবসায়ীরা দোকান সাজানো, অতিথি-গ্রাহকদের বিশেষ করে আমন্ত্রণ জানানো এবং আপ্যায়নের প্রস্তুতিতে জোর দিয়েছেন।

আরও পড়ুন
হালখাতা ঘিরে জমজমাট পুরান ঢাকা, বাড়ছে খাতা ও কার্ডের চাহিদা
ব্যক্তিগত হালখাতা করে মিলিয়ে নিন নতুন বছরের হিসাব
ঐতিহ্যের সংক্রান্তি, হালখাতার প্রস্তুতি
ধুঁকে ধুঁকে এখনো টিকে আছে ‘হালখাতা’

ব্যবসায়ীরা বলেন, অনেকেই আগেই শুভাকাঙ্ক্ষী ও গ্রাহকদের ফোন করে হালখাতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। কাউকে কাউকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দোকান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সাজসজ্জা ও হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করার কাজও চলছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপনে তারিখ ও তিথির এক বিশেষ সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশে বাংলা একাডেমির সংশোধিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আজ (১৪ এপ্রিল) সারাদেশে সরকারি পহেলা বৈশাখ পালিত হচ্ছে। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পঞ্জিকা ও তিথি অনুযায়ী নববর্ষের লগ্ন কিছুটা পিছিয়ে থাকায় অনেক মন্দিরে ধর্মীয় আচার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে শুভ হালখাতা অনুষ্ঠিত হবে পরদিন বুধবার (১৫ এপ্রিল)।

পুরান ঢাকায় হালখাতা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা

ফলে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলোতে এবারের উৎসব কেবল একদিনে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সরকারি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী মঙ্গলবার বৈশাখী শোভাযাত্রা ও বর্ণিল উৎসব শুরু হলেও ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী হালখাতা উদযাপন বুধবার পর্যন্ত চলবে। এতে দুই দিনব্যাপী উৎসবের এক ভিন্ন মাত্রা যুক্ত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের আনন্দকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে।

তাঁতীবাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য অরুণ কুমার সাহা জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখ আমাদের জন্য বড় একটি আয়োজন। এবারও দোকান সাজানো থেকে শুরু করে গ্রাহকদের আপ্যায়নের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।

আরও পড়ুন
ঐতিহ্য রক্ষার হালখাতা
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিলুপ্তপ্রায় হালখাতা
জ‌মির খাজনা আদায়ে ভূমি অফিসে ‘হালখাতা’
ধারের টাকা তুলতে হালখাতার চিঠি শিক্ষকের

শাঁখারীবাজার বণিক সমিতির সদস্য সঞ্জয় চক্রবর্তী জাগো নিউজকে বলেন, ‘হালখাতা শুধু ব্যবসার হিসাব-নিকাশ নয়, এটা আমাদের ঐতিহ্য। গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার একটি সুযোগ হিসেবেই আমরা এটিকে দেখি।’

স্থানীয় বাজারের মুদি দোকানদার মোহাম্মদ হানিফ মোল্লা বলেন, তিথি অনুযায়ী এবার নববর্ষের আনুষ্ঠানিকতা কিছুটা ভিন্ন সময়ে হচ্ছে। তবে ধর্মীয় আচার ও ঐতিহ্য যথাযথভাবে পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুই দিনের উৎসব হওয়ায় এবার গ্রাহকদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা করছি। তাই প্রস্তুতিও একটু বেশি জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, পুরান ঢাকার এই হালখাতা উৎসব আমাদের জন্য আনন্দের। পরিবার নিয়ে এসে ঘুরে দেখা ও কেনাকাটা করার আলাদা একটা উৎসবের অনুভূতি থাকে। অনেক সময় বকেয়া না থাকলেও পরিচিত দোকানগুলো আমন্ত্রণ জানায় নিয়মিত ক্রেতাদের। মিষ্টি, শরবত, লাচ্ছি আপ্যায়ন থাকে। 

এমডিএএ/এমএমএআর