বাংলা একাডেমিতে চলছে বৈশাখী মেলা, বসেছে ১৬০ স্টল
বাংলা একাডেমিতে বৈশাখী মেলা উদ্বোধনের পর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন অতিথিরা, ছবি: বিসিক
রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলছে সাতদিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। মেলা চলবে ৭ বৈশাখ (২০ এপ্রিল) পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মেলায় বসেছে ১৬০টি স্টল। এসব স্টলে কৃষিজাত দ্রব্য, কারুপণ্য, লোকশিল্পজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, জিআই পণ্য যেমন জামদানি, শতরঞ্জি ও শীতলপাটি, কুটির শিল্পজাত সামগ্রী, সব ধরনের হস্তশিল্পজাত ও মৃৎশিল্পজাত সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া শিশু-কিশোরদের খেলনা, নারীদের সাজ-সজ্জার সামগ্রী এবং বিভিন্ন লোকজ খাদ্যদ্রব্যের স্টল রয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ও বাংলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে এই ‘বৈশাখী মেলা-১৪৩৩’ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বিসিকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, সত্তরের দশকের শেষার্ধ্বে থেকে বিসিক ও বাংলা একাডেমি যৌথ উদ্যোগে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার জন্য এ মেলা আয়োজন করে আসছে। মেলার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্যের প্রচার-প্রসারে বিসিক কাজ করছে। তিনি সাংবাদিকদের মেলার প্রচার-প্রসার ও উদ্যোক্তা এবং দর্শনার্থীদের মেলার পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে অনুরোধ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি মানুষ নিরাপত্তার শঙ্কা নিয়ে বৈশাখী উৎসবে যোগদান করতো। এবার কোনো শঙ্কা নেই, এদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সবাই মিলে বৈশাখী উৎসব পালন করবো।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বৈশাখী মেলায় আসা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাই আমাদের অর্থনীতির প্রাণ সঞ্চয় করছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় উদ্যোক্তারা অর্থনীতিতে টেনে নিয়ে চলছে, বাঁচিয়ে রাখছে। বিসিক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে যথাযথভাবে কাজ করে আসছে। ভবিষ্যতে আমরা এ সব উদ্যোক্তাদের আর্থিক সুবিধা, পণ্যের প্রচার-প্রসার, পণ্যের নতুন বাজার তৈরি ইত্যাদি নানা বিষয়ে কাজ করবো।

প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘সারাদেশে আজ নববর্ষের আমেজ। বাংলাদেশের মানুষ আজ একসঙ্গে নববর্ষ পালন করছে। পহেলা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা এই আয়োজনকে দেশের সব প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে চাই। তাহলে দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রসারের মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতির প্রসার ও অর্থনীতিতে অবদান তরান্বিত করতে পারবো।’
তিনি বাংলা একাডেমি ও বিসিক আয়োজিত এই মেলার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং উপস্থিত সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এই ভূখণ্ডের বাংলা ভাষার ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানিকভাবে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার হলেও এই ভূখণ্ডের মানুষ প্রাচীন কাল থেকেই বাংলাকে ধারণ করেছে। আমাদের অতীত ভালো ছিলো, ভবিষ্যৎও দারুণভাবে গড়ার আশাবাদী।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা, শিল্পসচিব মোঃ ওবায়দুর রহমানসহ অন্য অতিথিরা।

উদ্বোধন শেষে অতিথিরা মেলা ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মেলায় থাকা ১৬০টি স্টলের মধ্যে ১৪৬টি বিভিন্ন উদ্যোক্তাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে চামড়াজাত পণ্য ৭টি, জামদানি পণ্য ৬টি, নকশিকাঁথা ৪টি, বস্ত্র ৪৪টি, শতরঞ্জি ৫টি, মণিপুড়ি শাড়ি ২টি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও ১৩টি স্টল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পণ্য বিক্রি ও ১টি স্টল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে বিনামূল্যে রক্তদানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কারুশিল্পী জোন, বাচ্চাদের রাইড ও বিনোদন জোন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুতুল নাচ ও বায়োস্কোপ দেখার সুযোগ রয়েছে।
এমএমএআর