মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি
৫ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি রুখে দিলো চট্টগ্রাম কাস্টমস
ক্যালসিয়াম কার্বনেট ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা তিন কনটেইনার পেনসিল ব্যাটারি ও তালার একটি চালান জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। সোমবার (৮ মে) বিকেলে চালানটি আটক করা হয়।
কায়িক পরীক্ষায় ক্যালসিয়াম কার্বনেটের বড় জাম্বু ব্যাগের মধ্য লুকিয়ে আনা ১৭ লাখ পিস পেনসিল ব্যাটারি ও ১৮ লাখ টন বিভিন্ন আকারের তালা পাওয়া যায়। মঙ্গলবার (৯ মে) দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান চট্টগ্রাম কাস্টমসের এআইআর (অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ) বিভাগের ডেপুটি কমিশনার মো. সাইফুল হক।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা এ চালান আটকের মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি রুখে দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এ ঘটনায় জড়িত আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকিসহ মুদ্রা পাচার আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
আরও পড়ুন>> বন্দরের সেই কনটেইনারে মিললো ১৬৮২৪ লিটার মদ
কাস্টমসের এআইআর শাখা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হ্যানস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল চীন থেকে ক্যালসিয়াম কার্বনেট ঘোষণায় একটি চালান আমদানি করে। গত ৫ মে এমভি সোয়াসদি আটলান্টিক নামের জাহাজে করে তিন কনটেইনারের চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। চালানটি খালাসের জন্য চট্টগ্রামের ফকিরহাট এলাকার শামীম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান কাস্টমসের এসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে বিল অব অ্যান্ট্রি করেন।
এদিকে, কাস্টমসের এআইআর শাখা চালানটি পর্যালোচনা করে এতে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির বিষয়ে ধারণা পেয়ে সিঅ্যান্ডএফের দাখিল করা বিল অব অ্যান্ট্রিটি লক করে দেয়। পরে ৮ মে বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইয়ার্ডে চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এতে কনটেইনার তিনটির মধ্যে ২২টি কাঠের প্লেটের ওপর ২২টি জাম্বু ব্যাগ পান।
আরও পড়ুন>> সোডা অ্যাশের ঘোষণা দিয়ে মদ আনলো ‘বিসমিল্লাহ করপোরেশন’
এআইআর শাখার ডেপুটি কমিশনার মো. সাইফুল হক জানান, কনটেইনারে থাকা জাম্বু ব্যাগগুলোতে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের নিচে লুকানো অবস্থায় বেশ কিছু কার্টন পাওয়া যায়। জাম্বু ব্যাগের ভেতর এসব কার্টন এমনভাবে রাখা হয়েছিল, যা নিয়ে বাইরে থেকে সন্দেহ করার কোনো সুযোগ নেই। পরে কার্টনগুলো খুলে এতে ১৭ লাখ পিস পেনসিল ব্যাটারি ও ১৮ মেট্রিক টন তালা পাওয়া গেছে। ক্যালসিয়াম কার্বনেটের চেয়ে পেনসিল ব্যাটারি ও তালার শুল্ক বেশি। এতে পুরো চক্রটি প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মতো রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
ইকবাল হোসেন/এএএইচ/এমএস