ভিডিও EN
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

পাটশিল্পের উন্নয়নে হবে জুট কাউন্সিল: পাটমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:১১ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

পাটশিল্পের উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে জুট কাউন্সিল গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টারে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএমএ) ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি এ খাতে বেশকিছু সমস্যা দেখতে পাই। যেমন পাট বীজের মাত্র এক তৃতীয়াংশ দেশে তৈরি হয়। বাকি তিন-চতুর্থাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা দুঃখজনক। আমি জানতে পারলাম পাট গবেষণা কেন্দ্র পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান নয়। এটা কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান। এরকম হাজারও সমস্যার কারণে পাট শিল্পে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না।

তিনি বলেন, জুট কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। জুট কাউন্সিল গঠন করা হলে পাট উন্নয়নের সমন্বিত পথনকশা প্রণয়ন করাও সহজ হবে বলে আশা করি।

পাটমন্ত্রী বলেন, আজকে বিজিএমের সদস্যরা ৫০ কেজি চালের বস্তা যেগুলো পলিথিন বা প্লাস্টিকের তৈরি তা নিষিদ্ধের দাবি করেছেন। আমি আপনাদের সঙ্গে একমত। শুধু ৫০ কেজির বস্তা নয় আমরা সব ধরনের পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। কিন্তু গায়ের জোরে সরকারি প্রভাব খাটিয়ে করলে সেটা ঠিক হবে না। গ্রাহকের হাতে বিকল্প দিতে হবে।

তিনি বলেন, গতমাসে ডিসি কনফারেন্সে আমি জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছি রমজান মাসের পর প্লাস্টিক ব্যাগ বন্ধ করে পাটের ব্যাগ কার্যকরের ব্যবস্থা নিতে। এরই মধ্যে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্য তৈরির জন্য ড. মোবারক সাহেবকে আমরা ১০০ কোটি টাকার তহবিলের ব্যবস্থা করেছি এবং এখাতে আরও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী নানক বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর একজন বার্তাবাহক। আমি আপনাদের বার্তা তার কাছে পৌঁছে দেবো। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বার বার বলেছেন, পাট ও চামড়া শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে পোশাকশিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, একসময় পাট থেকে দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসতো। বঙ্গবন্ধু পাট ও পাটের সঙ্গে সম্পৃক্ত জনগণের উন্নতি চেয়েছিলেন, তিনি পাটের উন্নতির জন্য পাট মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করেছিলেন। তার সুযোগ্য কন্যা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাটের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি পাটজাত পণ্যের রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দিয়েছেন। ৬ মার্চকে জাতীয় পাট দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি পাট ও পাটজাত পণ্যকে ২০২৩ সনের ‘বর্ষ পণ্য’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকার পাটের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন পাটশিল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তিনি পোশাক কারখানার ন্যায় পাটশিল্পের উন্নয়ন চান এবং এ জন্য যা যা করার দরকার তা করা হবে আশ্বাস দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিজেএমএ'র চেয়ারম্যানসহ বোর্ড সদস্যরা মন্ত্রীর কাছে পাটশিল্প খাতের কিছু সমস্যা তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাদের সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান।

মন্ত্রী বলেন, আমি অর্থ মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে বলেছি ২৮২টি বহুমুখী পাটজাত পণ্যের তালিকাটি অর্থ মন্ত্রণালয় হতে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে। তাহলে রপ্তানিকারকদের বহুমুখী পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা পেতে সুবিধা হবে।

তিনি বলেন, পাটশিল্পের বকেয়া ঋণ সুদ-আসলসহ একটি হালনাগাদ তারিখ ভিত্তিক ব্লক হিসেবে স্থানান্তরের বিষয়ে ২ বছরের মরাটোরিয়াম সুবিধাসহ ১০ বছরে পরিশোধ এবং ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের পরিবর্তে ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট আদায় নিশ্চিত করার জন্য আমি সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি।

তাছাড়া কাঁচা পাটের উপর ২ শতাংশ উৎসে কর, প্রতিবেশী দেশ কর্তৃক পাটজাত পণ্য রপ্তানির উপর এন্টি-ডাম্পিং ডিউটি আরোপ রহিতকরণ, ২ শতাংশ সরল সুদে পাটশিল্পের কাঁচামাল ক্রয় করার জন্য দেশীয় মুদ্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার একটি জুট সেক্টর উন্নয়ন তহবিল গঠন, কাঁচাপাটের পাশাপাশি পাটজাতপণ্যকে কৃষিজাতপণ্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাটির প্রজ্ঞাপন জারি, পাটমিলগুলোর পুরাতন মেশিনারি স্থানান্তরের জন্য সরকারিভাবে অন্তত ৩০ শত নগদ সহায়তার বিষয়েও আমরা কাজ করে যাচ্ছি- বলেন পাটমন্ত্রী।

অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাজারে পাটজাত পণ্যের বিক্রি বৃদ্ধি করাকে পাটশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে পাট পণ্যের বিক্রি বৃদ্ধির জন্য আমরা ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। বিদেশের বাজারে পাটজাত পণ্যের বিক্রী বৃদ্ধির জন্য আমরা বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে পত্র দিয়েছি। বিদেশের বিভিন্ন মেলা এবং বাজারে যাতে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল সহজেই অংশগ্রহণ করতে পারেন তার চেষ্টা করছি এবং বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য ও বহুমুখী পাটজাতপণ্যের মানোন্নয়নের জন্য এর ডিজাইন, কালারিং, নকশা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাটশিল্পকে যাতে পোশাকশিল্পের ন্যায় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায় এবং উন্নত করা যায় সে বিষয়েও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বিজেএমএ'র চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাজী নাবিল আহমেদ, এফবিসিসিআইর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ধানসিঁড়ি কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শমী কায়সার প্রমুখ।

এমএএস/এমএএইচ/জিকেএস