মাধ্যমিকের চার শ্রেণি
ছাপা শেষ ৮৮ শতাংশ পাঠ্যবই, স্কুলে পৌঁছেছে ৭৮ শতাংশ
নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ পাঠ্যবই দেওয়ার কথা থাকলেও তাতে ব্যর্থ হয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। মাধ্যমিকের অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে এসেও খালি হাতে বাড়ি ফিরেছে। কেউ আবার দুটি-তিনটি বই পেয়েছে। এতে মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মন খারাপ।
পাঠ্যপুস্তক বোর্ড জানিয়েছে, যারা বই পায়নি, তারা অনলাইন ভার্সন থেকে পড়তে পারবে। পাশাপাশি আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া হবে।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সর্বমোট ৩০ কোটি দুই লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার ৮৮০টি। প্রাথমিকের সব বই ১ জানুয়ারি আগে সারাদেশে পৌঁছে গেছে। বছরের শুরুর দিনে তারা শতভাগ বই হাতেও পেয়েছে।
অন্যদিকে মাধ্যমিকের বইয়ের সংখ্যা ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪টি। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, মাধ্যমিকের ৮৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বই ছাপানো শেষ। তার মধ্যে পিডিআই শেষে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ৭৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ বই। মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণির বই প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে এনসিটিবি। এ শ্রেণির মাত্র ৫৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ বই স্কুলে পাঠানো হয়েছে। ৫৫ দশমিক ২৪ শতাংশ বই এখনও বাকি।

ছাপা ও বিতরণে পিছিয়ে রয়েছে সপ্তম শ্রেণির বইও। সপ্তমের ৬৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ বই স্কুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির ৮৫ দশমিক ৬১ শতাংশ, নবমের ৮৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ইবতেদায়ির ৯৬ দশমিক ১৬ শতাংশ পাঠ্যবই স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত ১ জানুয়ারি বই বিতরণের কারণে ওইদিন ক্লাস হয়নি। বই পেয়ে বাড়িতে ফিরেছিল শিক্ষার্থীরা। এরপর শুক্র ও শনিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। বই পাওয়ার পর আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রথম ক্লাস হয়েছে।
ঢাকার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে এবং খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাথমিকে রুটিন অনুযায়ী সব ক্লাস হয়েছে। তবে মাধ্যমিকে বই বিতরণ শেষ না হওয়ায় একটি-দুটি করে ক্লাস হয়েছে। তবে শিক্ষকরা রুটিন মেনে ক্লাসে গিয়ে হাজিরাসহ অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। এ সপ্তাহে ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বই পৌঁছে যাবে বলে আশা করছেন শিক্ষকরা। এরপর নিয়মিত ক্লাস নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
এএএইচ/এমআইএইচএস/এমএস