ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. শিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল শিগগির, ভোটের আগেই ভাইভা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৭:০৬ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ নিয়ে নানান গুঞ্জন ছড়িয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফল প্রকাশ, মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) ও চূড়ান্ত নিয়োগ হবে কি না, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নামে-বেনামে এ নিয়ে ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন সামনে রেখে আগামী ২৩ দিনে কোনো ধরনের সরকারি চাকরির পরীক্ষা না নেওয়ার দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আরও গুজব ছড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ফল প্রকাশ, পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ে সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক নির্দেশনা তারা পাননি।

অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক এ কে সামছুল আহসান সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইসি বা সরকার থেকে আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। খুব শিগগির এ ফল প্রকাশিত হবে।’

আরও পড়ুন
প্রশ্নফাঁসের ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ মেলেনি, শিগগির ফল প্রকাশ
ভোটের আগেই ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগে তাড়াহুড়ো নিয়ে ‘প্রশ্ন’

২০ জানুয়ারির মধ্যে ফল প্রকাশের সম্ভাবনা কতটুকু—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিভিন্নভাবে বিভিন্ন অনুমান-নির্ভর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমরা স্পেসিফিকভাবে (সুস্পষ্ট) কোনো তারিখ নির্ধারণ করিনি। ঠিক কবে; কখন ফল প্রকাশ করা হবে—এটা কেউ বলতে পারবে না, আমিও এটা জানি না। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল বা ফল প্রকাশ করা হবে না—এমন তথ্য সঠিক নয়। ফল প্রস্তুত হলেই তা প্রকাশ করা হবে।’

এদিকে, নির্বাচনের আগে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কমিটি মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বলে অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা কয়েকদিন আগেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

তবে ফল প্রকাশে দেরি এবং নির্বাচন ঘিরে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নে পলিসি অ্যান্ড অপারেশনসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ২০ জানুয়ারির মধ্যে ফল প্রকাশ এবং জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভাইভা নিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত নিয়োগের সিদ্ধান্ত রয়েছে।’ এ সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে নাকি পরিবর্তন আসবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি। এ পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ফেসবুকে শেয়ারও করেন।

অন্যদিকে এ পরীক্ষা ঘিরে সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘ডিভাইস পার্টি’। তারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থ চুক্তির মাধ্যমে ডিভাইসের সহায়তা দিয়েছেন। ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়া ২০৭ জন চাকরিপ্রার্থীকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে। তাদের মধ্যে গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮, দিনাজপুরে ১৮, কুড়িগ্রামে ১৬, রংপুরে দুজন রয়েছেন।

প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগে এ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রত্যাশীরা। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর যারা জালিয়াতির চেষ্টা করেছে, তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে এ পরীক্ষা বাতিলের সুযোগ নেই।

এএএইচ/ইএ