ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. শিক্ষা

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়

সহকারী শিক্ষক পদ বিসিএস ক্যাডারভুক্ত করতে আদালতের রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:৩৩ এএম, ১৩ মার্চ ২০২৬

দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদটিকে নবম গ্রেডে উন্নীত করে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত কেন করা হবে না, এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের মতো অ্যাকাডেমিক পদসোপান এবং বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুলের কিছু অনুচ্ছেদ কেন বাতিল করা হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের পক্ষে করা এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি শেষে গত ১০ মার্চ এ আদেশ জারি করেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) শিক্ষকদের পক্ষের আইনজীবী ব‍্যারিস্টার মো. শফিকুল ইসলাম সোহেল জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ভুক্তভোগী ১৫ জন সহকারী শিক্ষকের পক্ষে তিনি এ রিট আবেদন করেছেন।

ব‍্যারিস্টার মো. শফিকুল ইসলাম সোহেল বলেন, ‘আমরা রিট পিটিশনে মূলত দুটি জিনিস চেয়েছি; একটি হলো- সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যারা চাকরি করছেন, তাদের এ পদটিকে ১৯৯১ সাল থেকে ক্যাডার স্ট্যাটাস (মর্যাদা) দিতে হবে। আর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি কলেজের মধ্যে পদোন্নতির ধারাক্রম বা পদসোপান যাতে সামঞ্জস্য থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদালত আমাদের কথা শুনে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলেছেন। রুলে বলা হয়েছে, কেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদটিকে নবম গ্রেডে উন্নীত করে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত করা হবে না এবং কলেজ শাখার অনুরূপ অ্যাকাডেমিক পদসোপান প্রদান ও বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুলের কতিপয় অনুচ্ছেদ কেন বাতিল করা হবে না, তা চার সপ্তাহের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আদালতে হাজির হয়ে জানাতে হবে।’

 

‘বঞ্চনার’ শিকার সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকরা
সরকারি মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির নেতারা জানান, দাবিগুলো নতুন নয়, সবই বকেয়া। বিধি মোতাবেক ১৯৯১ সাল থেকে নবম গ্রেড পাওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত সহকারী শিক্ষকদের পদটি দশম গ্রেডেই রাখা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদ ২০০৪ সালে ১৮তম গ্রেডে ছিল। কিন্তু বিগত ২০ বছরের আন্দোলনে বর্তমানে ১১ গ্রেডে উন্নীত হওয়ার প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছে।

অথচ ১৯৭৪ সাল থেকেই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদটি দশম গ্রেডের এবং বিগত ৫০ বছর কোনো গ্রেড পরিবর্তন হয়নি। সবচেয়ে বড় বৈষম্যের বিষয় হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে বদলিযোগ্য পিটিআই ইনস্ট্রাক্টর পদটি ১৯৯৬ সালে নম গ্রেডে উন্নীত হলেও সহকারী শিক্ষক এখনও দশম গ্রেডে পড়ে রয়েছে।

এছাড়া সমগ্রেডের সমাজসেবা কর্মকর্তা, পুলিশের ইন্সপেক্টর, সাব-রেজিস্টারসহ অসংখ্য পদ বিগত এক দশকে নবম গ্রেডে উন্নীত করা হলেও রহস্যজনক কারণে সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষক পদটিকে নবম গ্রেডে উন্নীত করা হয়নি।

এদিকে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১০ হাজার ৮৮৪ জন শিক্ষকের মধ্যে কর্মরত আছেন ৭ হাজার ৯০০ শিক্ষক। অর্থাৎ শূন্যপদ রয়েছে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ২৭ শতাংশ শূন্যপদের শিক্ষক দিয়ে বাকি শিক্ষকদের শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার বাধ্য করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাশের ক্লাসরুম ফাঁকা রেখে ক্লাস নেওয়ার পরিবেশই নেই। ফলে শিক্ষকদের সারা বছর অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে, যা তাদের প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপের শিকার করছে এবং পাঠদানের মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দেড়গুণ বেশি ক্লাস নিলেও বেতন সেই দশম গ্রেডেই রাখা হয়েছে। বিগত ৫০ বছরে বেতন গ্রেড ও পদমর্যাদার কোনো উন্নয়ন হয়নি।

জানা যায়, সরাকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ২০১৭ সাল থেকে বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকদের প্রায় ৫০ শতাংশ ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৪১ ও ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার তালিকা থেকে এবং ২০২২ সালে পিএসসির বিশেষ নন-ক্যাডার পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত।

এএএইচ/এমকেআর