ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. শিক্ষা

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ করা বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০২:২৩ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা সবাই জানি, শিক্ষাব্যবস্থার প্রথম শর্ত অর্থায়ন। গত বছরগুলোতে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের প্রায় ১২ শতাংশের আশপাশে থেকেছে এবং জিডিপির অনুপাতে তা দেড়-দুই শতাংশের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করেছে। এটি একটি কাঠামোগত সীমা। কিন্তু আমাদের সরকারের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার; শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বলে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ এবং মোট সরকারি ব্যয়ের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বরাদ্দ থাকা উচিত। এ লক্ষ্যগুলো অর্জনে আমরা কী করবো? অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মাঝারি মেয়াদের বাজেট কাঠামো অনুযায়ী তিন বছরের ধাপে ধাপে ফিসক্যাল আপলিফট পরিকল্পনা দেবো। শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়লেও শুধু মোট টাকার পরিমাণ নয়, কোথায় টাকা যাবে সেটাও বদলাতে হবে। তাই বাজেটের সমতা ও শেখার ফলাফল দুটি প্রধান সূচক হবে। এখানে আবার বলি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মিশন হলো সামাজিক ন্যায় ও দক্ষতা দুটোই একসঙ্গে।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন বাজেটের বাস্তবায়ন। শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, খরচের গুণগত মান বদলাতে হবে। আমরা স্বীকার করছি, উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ বছরের শেষে হঠাৎ খরচ হয়। এর ফলে বই, নির্মাণকাজ, প্রশিক্ষণ সবকিছুই স্কুল ক্যালেন্ডার মিস করে। একটি কঠিন সত্য আজ আমি পরিষ্কারভাবে বলছি গত অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৩ শতাংশ অব্যবহৃত থেকে ফেরত গেছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক ব্যর্থতা নয়, এটি শিক্ষার্থীর সময় ও সুযোগের ক্ষতি।

আরও পড়ুন
পরীক্ষা-মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় সংস্কার আসছে, ঈদের পর রোডম্যাপ

‌‘এখন আমরা কী করবো? প্রশাসনিক ভাষায় বলছি, যাতে আপনারা মাপতে পারেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কমিশনের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অনুমোদন ও প্রকল্প গেটকিপিং স্কুল বর্ষপঞ্জির সঙ্গে রি-অ্যালাইন করবো। অর্থ বিভাগের ক্যাশ রিলিজ সমান কিস্তিতে না করে মাইলস্টোনভিত্তিক করবো কোড, টেক্সটবুক, প্রশিক্ষণ, নির্মাণ- সবগুলোর আলাদা মাইলস্টোন থাকবে। ই-জিপি (ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা) বাধ্যতামূলকভাবে আগেভাগে চালু করে প্রকিউরমেন্ট প্ল্যানিং করবো, যাতে জুনে এসে দরপত্রের ভিড় না হয়। কন্ট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্টসের লেজার পর্যন্ত হিসাব থাকবে, কিন্তু সেই হিসাবের শেষ গন্তব্য হবে ক্লাসরুমের আওয়ার মানে পাঠদানের ঘণ্টা।’

তিনি বলেন, উন্নয়ন ব্যয়কে আবার অগ্রাধিকার দিতে হবে। চলতি ব্যয় স্কুলকে খোলা রাখে, কিন্তু উন্নয়ন ব্যয় স্কুলকে আধুনিক করে। আমাদের অগ্রাধিকার হবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার, ভাষা ল্যাব তৈরি করা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও মূল্যায়ন সক্ষমতা তৈরি করা, স্কুলের অবকাঠামো বিশেষ করে পানি, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিক করা। এখানে আমরা নির্বাচনি অঙ্গীকারও বাস্তবায়ন করবো মিড-ডে মিল, পরিষ্কার টয়লেট এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা। কারণ প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, শিক্ষার মানে শুধু বই নয় শিক্ষার্থীর মর্যাদা।

‘আমাদের ইশতেহারে আছে ফ্রি ওয়াইফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব। আমরা এটিকে গ্যাজেট প্রজেক্ট বানাবো না, বরং শিক্ষণ-শেখার অপারেটিং সিস্টেম বানাবো। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে স্কুল পর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সচেতনতা ও সাইবার সেফটি—এই তিনটি বাধ্যতামূলক সক্ষমতা হিসেবে যুক্ত করা হবে। শিক্ষক ট্যাবের ভেতরে থাকবে পাঠ পরিকল্পনার টেমপ্লেট, প্রশ্নব্যাংক, উপস্থিতি ও শিখন প্রমাণ আপলোডের সুবিধা, যাতে শেখা ট্র্যাক করা যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ডিজিটাল দক্ষ বাংলাদেশ মিশন বাস্তবায়নে ডিজিটাল দক্ষতা কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে শিক্ষা খাতকে যুক্ত করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এএএইচ/বিএ