ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. শিক্ষা

‘ডিজিটাল নকল’ ঠেকাতে সংশোধন হচ্ছে আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২৬

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় একসময় কাগজে লেখা নকলের মহোৎসব ছিল। কেউ হাতে লেখা নকল নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতো, কেউ আবার বাজার থেকে টাইপ করা নকলও কিনতো। সময়ের সঙ্গে নকলের ধরন বদলেছে, `ডিজিটাল নকল' বেড়েছে। বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকল, অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছে অসাধু চক্র।

বিভিন্ন সময়ে ডিজিটাল জালিয়াত, অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইনের ফাঁক-ফোকর গলিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন তারা। দু-একটি ঘটনায় শাস্তি হলেও তা নামমাত্র। এতে অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে উঠছেন। ফের জড়াচ্ছেন এসব অপকর্মে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, পাবলিক পরীক্ষা আইনে ডিজিটাল জালিয়াতি, সামাজিকমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছেন। এজন্য পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮০ (সংশোধিত ১৯৯২) অধিকতর সংশোধন করা প্রয়োজন। নতুন এসব অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা জরুরি।

বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে বিএনপি সরকার। নতুন সরকারের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আইনটি সংশোধনে উদ্যোগ নিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এ আইন সংশোধনে মরিয়া তিনি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও অবগত করা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার আগেই পাবলিক পরীক্ষা আইনটি সংশোধন করা হতে পারে।

জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘ম্যানুয়াল অসদুপায় অবলম্বনের চেয়ে ডিজিটাল নকল, প্রশ্নফাঁস ও অন্যান্য অসদুপায় এখন বেশি হচ্ছে। এগুলো ঠেকানো জরুরি। অপরাধ ঠেকাতে শক্ত আইনের বিকল্প নেই। কঠোর শাস্তির বিধান রেখে এ আইনটি সংশোধন করা গেলে ডিজিটাল নকল, জালিয়াতি কমে আসবে। পাশাপাশি পাবলিক পরীক্ষা আইনে আরও কিছু অত্যাধুনিক সংশোধন আনা হবে। এগুলো নিয়ে কাজ চলছে। আমরা প্রত্যাশা করছি, সংসদের প্রথম অধিবেশনে এটি করতে পারবো।’

আইনের দুর্বলতায় বেকসুর খালাস অপরাধীরা!

দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মোর্চা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। এ কমিটির একটি প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষায় সংঘটিত ঘটনায় পাবলিক পরীক্ষা আইন, আইসিটি আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২০০ মামলা করা হয়। এরমধ্যে ৪৫টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।

নিষ্পত্তি হওয়া মামলার মধ্যে সাজা হয়েছে মাত্র একটিতে। এসব মামলার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তদন্তে দুর্বলতা, ভুল আইনে মামলা ও অভিযোগপত্র দেওয়া, সাক্ষীকে হাজির না করায় আসামিরা অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন।

নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে পরীক্ষার্থীকে লিখিত কাগজ সরবরাহ ও মৌখিক বা যান্ত্রিক উপায়ে সাহায্য করার অভিযোগে ৩১টি মামলা, ভুয়া পরীক্ষার্থী হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অভিযোগে ৬টি মামলা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ৫টি মামলা এবং ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরির অভিযোগে তিনটি মামলা হয়।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়নের কারণে নতুন নতুন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এর প্রভাব পরীক্ষায়ও দেখা যাচ্ছে। বহুদিন ধরে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন ১৯৮০ (সংশোধিত ১৯৯২) আইনটি সংশোধনের তাগিদ দিয়ে আসছেন শিক্ষাবিদরা।

ঢাকা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার জাগো নিউজকে বলেন, আইনটির পরিধি খুবই সংকীর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় অভিযুক্তরা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে যায়। নতুন নতুন অপরাধের ধরন বেড়েছে। সেই অনুযায়ী- আইনটি সংশোধন দরক্র। এটা করলে পাবলিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ অনেকাংশে ঠেকানো সম্ভব হবে।

এএএইচ/এসএনআর