ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. শিক্ষা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস নিয়ে আলোচনা, কতটা যৌক্তিক

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০১:৫৫ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটে পড়েছে বিশ্ব। সংকটে ভুগছে বাংলাদেশও। জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস এড়িয়ে অনলাইন পাঠদান চালুর বিষয়ে ভাবছে সরকার।

রোজা-ঈদ মিলিয়ে প্রায় দেড় মাসের ছুুটির পর সবেমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এমন সময়ে সশরীরে ক্লাস বন্ধ করে অনলাইনে পাঠদান চালু করলে তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। শিক্ষাবিদরাও বিষয়টি নিয়ে সরকারকে আরও ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে পরামর্শ দিয়েছেন।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিভাবক হাফসা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, বছরের তিনমাস পার হয়েছে; তেমন কোনো ক্লাসই হয়নি; পড়াশোনাও হয়নি। গতকাল (রোববার) কেবল স্কুল খুলেছে। এখন যদি ক্লাস আবার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ওদের (শিক্ষার্থী) খুবই ক্ষতি হবে। ছুটিতে বা বাড়িতে বসে থাকলে ওরা পড়াশোনা করতে চায় না। স্কুলে ক্লাস হওয়াটা জরুরি। আমরা অভিভাবকরা চাই, সময় কমিয়ে বা পরিবর্তন করে হলেও সশরীরে ক্লাস চালু রাখা হোক।

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাব্বির আহমেদেরও একই মত। তিনি বলেন, সরকারকে বলবো হোম অফিস করেন, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আর ক্ষতি করবেন না। করোনা ভাইরাসের মধ্যে অনলাইন ক্লাস, অটোপাস দিয়ে তিন-চারটা বছর পার হয়েছে। ওই সময় কিছুই শিখতে পারেনি। আমার ছেলে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত করোনাকালে কিছু শেখেনি। আবার অনলাইনে ক্লাসের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার পক্ষে নই আমি।

শিক্ষকরা জানান, জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৫ দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই বিতরণসহ অন্য কাজে ক্লাস হয়নি। এরপর ১০ দিনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলেছে। পাশাপাশি সব বইও শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল না। এজন্য ক্লাসও হয়নি পুরোদমে। ফেব্রুয়ারিতে মাত্র পাঁচদিন ক্লাস হয়েছে। মার্চ মাস প্রায় পুরোটা ছুটিতে কেটেছে। এপ্রিলেই পুরোদমে ক্লাস হওয়ার কথা।

পুরোদমে অনলাইন ক্লাসের পক্ষ নন শিক্ষাবিদরাও। পর্যাপ্ত ডিভাইস সংকট, গ্রামের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস করার সক্ষমতা না থাকাসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন তারা। তবে অনলাইন-অফলাইন সমন্বয় ও ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তন করে সংকটকাল পার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার উন্নয়নে সম্প্রতি গঠিত পরামর্শক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক। শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গেও তার নিবিড় সম্পর্ক।

অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। এতে জ্বালানি খাতের ওপর চাপ কিছুটা হলেও বেড়েছে। সামনে গরম আসছে, তখন চাপ আরও বাড়বে। সব প্রতিষ্ঠানেই ফ্যান চলবে, এসি চলবে। যে কারণে এ সংকট- সেই যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সেটাও অজানা। এ কারণে সব খাতেই কীভাবে জ্বালানি সাশ্রয় করা যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক দেশই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাস চালু করে এটা ঠিক। কিন্তু করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাস চালুর পর সেই অভিজ্ঞতা ভালো নয়। আমরা দেখেছি আমাদের দেশে এটা খুব একটা কার্যকর নয়। ওই সময়ে শিক্ষার্থীদের একটা বড় শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

সংকট বেশি ঘনীভূত মনে হলে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস সমন্বয় করার তাগিদ দিয়ে ড. মনজুর আহমদ বলেন, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কী করা যেতে পারে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ করা উচিত। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে দ্রুত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সময় কিছুটা পরিবর্তন করা যেতে পারে। সকালে ক্লাস হলে আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকবে। এতে বৈদ্যুতিক পাখা, এসি কম চালানোর প্রয়োজন পড়বে। পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইনে সমন্বিত পদ্ধতিতে পাঠদানের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, আমরা এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেইনি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এটি নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্দেশনা পেলে আমরা এ বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জানাবো।

এএএইচ/এএমএ