ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. শিক্ষা

মাউশির ডিজি হচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রীর পিএস অধ্যাপক সোহেল

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১০:২৪ এএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষা প্রশাসনের অতি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) পদটি প্রায় ছয় মাস ধরে ফাঁকা। অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে অনেক চেষ্টা-তদবির করেও পদটিতে কাউকে নিয়োগ দিয়ে যেতে পারেনি।

বিএনপি সরকার গঠনের প্রায় দুই মাস হতে চললেও পদটি শূন্যই থেকে গেছে। দীর্ঘদিন শূন্য ডিজি পদে নিয়োগ পেতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তদবির-দৌড়ঝাঁপ করছেন।

অবশেষে এ পদে নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এ পদে নিয়োগ দিতে চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখের ছুটির দিনে ‌‘বিশেষ বাহক’কে দিয়ে ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয় বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডিজি পদে শিক্ষামন্ত্রী তার পিএস অধ্যাপক ড. সোহেলকে বেশ আগেই চূড়ান্ত করেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কিছু অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য গণমাধ্যমের সংবাদে প্রকাশ হওয়ায় তা ঝুলে আছে। উচ্চপর্যায়ের গ্রিন সিগন্যাল মিলছিল না।’

তিনি বলেন, ‘পদটিতে অন্য কাউকে বিবেচনা না করে ফাঁকা রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। বঞ্চিত ও যোগ্য অনেক কর্মকর্তা থাকলেও তাদের নিয়োগ না দিয়ে বারবার অধ্যাপক সোহেলকে ডিজি পদের জন্য অ্যাপ্রোচ করানো হচ্ছে। অবশেষে তার নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের জন্য ছুটির দিনে বিশেষ বাহককে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন মিললে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’

অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার সমিতির আহ্বায়ক। তিনি বিসিএস ১৬তম ব্যাচের কর্মকর্তা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পিএস ছিলেন তিনি।

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা জানান, এহছানুল হক মিলনের পিএস থাকায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে পদ-পদবি ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হন তিনি। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অধ্যাপক সোহেলকে মাউশির মাধ্যমিক বিভাগের পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়।

এরপর থেকে শিক্ষা প্রশাসনে দাপুটে ভূমিকায় এ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা। বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের পিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এবার তাকে মাউশির ডিজি পদে বসাতে চান শিক্ষামন্ত্রী।

মাউশির ডিজি পদ ঘিরে ‘অস্থিরতা’

এদিকে, মাউশির ডিজি পদটি ঘিরে শিক্ষা প্রশাসনে প্রায় এক বছর ধরে চলছে অস্থিরতা। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাউশির ডিজি পদে নিয়োগ পান অধ্যাপক এহতেসাম উল হক। তাকে মাত্র ২০ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর একই বছরের ১৪ অক্টোবর তৎকালীন ডিজি অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার বিদায়ের পর মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) বি এম আবদুল হান্নান। গত ৯ এপ্রিল তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে পদটি এখন পুরোপুরি শূন্য।

এএএইচ/ইএ