ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. শিক্ষা

সিপিডির প্রতিবেদন

প্রাথমিকে ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহ বেড়েছে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ২৫ জুন ২০২৩

প্রাথমিক শিক্ষার মান নিম্নমুখী অবস্থা। মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহ বেড়ে গেছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও তাদের ধরে রাখা যাচ্ছে না। শিক্ষকরাও এ বিষয়ে উদাসীন আচরণ করছেন। বিগত বছরের চাইতে জাতীয় বাজেটে প্রাথমিক শিক্ষার চাইতে বরাদ্দ কম হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (২৫ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) প্রাথমিক শিক্ষায় সরাকারি বিনিয়োগ: স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও করণীয় অনুষ্ঠানে একটি প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। দেশের গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলার মোট ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, স্কুল ম্যানেজিং কমিটি, মাঠ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় বাজেটের বরাদ্দের একটি অংশ হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ হয়েছে। এটি মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ অর্থে ৯০ শতাংশ ব্যয় করা হচ্ছে।

বলা হয়েছে, অপর্যাপ্ত বাজেটের কারণে দারিদ্রভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহের হার বেড়ে গেছে। বাল্যবিবাহ গাইবান্ধায় বেশি, ঝড়ে পড়ার হার ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারীতে অধিক। শিক্ষা অবকাঠামো ও জনবল, শিক্ষাক্রম ও পাঠদান প্রক্রিয়া, শিখন অগ্রগতি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও আর্থিক বরাদ্দের বিষয়গুলোকে গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ গবেষণায় যে সব সমস্যা উঠে এসেছে তা সমাধানে ২০টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

সুপারিশগুলো হচ্ছে-
প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে ক্রমাম্বয়ে যথাযথ সুযোগ-সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ করা। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক সংখ্যাা বাড়নো এবং শিক্ষককে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন অফিস সহায়ক/হিসাবরক্ষক এবং একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ। পাঠ্যক্রম বহির্ভূত সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য আলাদা দায়িত্বপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের পরিসর বাড়ানো। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ ও নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিতে শিক্ষকদের কম্পিউটার ও ডিজিটাল শিক্ষা বিষয়ে দক্ষ করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ। ছাত্র ও ছাত্রীর জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা করা ও মানসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা উল্লেখযোগ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।

উন্মুক্ত আলোচনায় সংশ্লিষ্ট জানান, ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহ রোধ করতে উপবৃত্তির সংখ্যা এর অর্থের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্রুত মিড ডে মিল চালু করতে হবে। সুসম বাজেট, শিক্ষক সংকট নিরসন, শিশুদের নিরাপত্তায় যৌন হয়রানি বন্ধ, শিক্ষকদের মর্যাদা ও পদোন্নতি প্রদান, বিদ্যালয়ে মনিটরিং বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবি করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকরা নিজেদের দায়িত্বের বিষয়ে সচেতন থাকলে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে মানুষ হবে। শিক্ষার মান বাড়বে। বর্তমানে শিক্ষকরা নিজেদের সঠিক দায়িত্ব পালন না করায় ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক বদলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের বাজেটের কিছু কিছু স্থানে ঘাটতি রয়েছে সেটি আমরা স্বীকার করছি। কিন্তু শিক্ষার উন্নয়ন করতে আমাদের আন্তরিকতা রয়েছে। শিক্ষার মান বাড়াতে সরকার নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমাদের নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা থাকায় আমরা চাইলেই বরাদ্দ বাড়িয়ে দিতে পারি না। বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। সেই চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার, ব্র্যাক শিক্ষা উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রোগ্রাম হেড সমীর রঞ্জন নাথ, অর্থনীতিবিদ সাঈদ রাশেদ বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের এডুকেশন গ্লোবাল প্র্যাকটিস কর্মকর্তা আল জায়েদ যশ, এবং ডেলিগেশন অফ দি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন টু বাংলাদেশের নাদিয়া রশীদ।

এ সম্মেলনে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় তিনশতাধিক নাগরিক, জনপ্রতিনিধি, সম্পৃক্ত সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, নীতি বিশেষজ্ঞ, উন্নয়নকর্মী, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা যোগ দেন।

এমএইচএম/এমআইএইচএস/জিকেএস