কুখ্যাত এপস্টেইন ও হলিউডের গোপন পার্টি, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
জেফ্রি এপস্টেইন ও পেগি সিগাল
নিউইয়র্কের প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পেগি সিগাল। ২০০৯ সালের ২২ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি জেফ্রি এপস্টেইনকে তার ঘরে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তিনিই কুখ্যাত অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনকে সমাজে স্বাভাবিকভাবে মিশতে সহায়তা করেছিলেন।
এপস্টেইন যখন ১৩ মাসের শিশু বাণিজ্য মামলার সাজা কাটিয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন সিগাল তখন সেই মুক্তির আনন্দে সাদা-কালো স্ট্রাইপের পোশাক পরে উদযাপন করছিলেন। এরপরের দশকে সমাজের উচ্চবিত্তে ফিরতে তাকে সাহায্য করাই ছিল সিগালের কাজ।
আরও পড়ুন
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কেটে দিয়ে ‘না’ রাখলেন ন্যান্সি, ফেসবুকে তোলপাড়
ভোটের আগে শবনম ফারিয়ার প্রশ্ন, ‘ফাল্গুনে শাড়ি পরবো নাকি আবায়া?’
সিগাল মূলত সিনেমা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কাজ করতেন এবং অস্কারের লক্ষ্য নিয়ে চলচ্চিত্রের আড্ডা এবং বিলাসবহুল পার্টি আয়োজন করতেন। তবে এপস্টেইনও তার গুরুত্বপূর্ণ ক্লায়েন্ট ছিলেন। তিনি সিগালের কান চলচ্চিত্র উৎসবের সফরের খরচ জোগান দিতেন।
পেগি সিগাল
সিগাল ২০০৯ সালের পরের বছর এপস্টেইনকে লিখেছিলেন, ‘আমি জানি না তোমার সমাজে ফেরার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে। ধীরে ধীরে এবং শান্ত থাকো। তোমার বন্ধুরা তোমার পাশে আছে।’
সিগাল এপস্টেইনের জন্য বিভিন্ন আড্ডা, ডিনার এবং বিশেষ অতিথি আমন্ত্রণের ব্যবস্থা করতেন। তিনি পরামর্শ দিতেন কিভাবে সাততলা আপার ইস্ট সাইডের বাড়িতে ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক আড্ডা আয়োজন করা যায়। সেখানে রাজনীতিবিদ, সামরিক কর্মকর্তা, শিল্পী ও চিন্তাবিদরা অংশ নিতেন।
২০১০ সালের ডিসেম্বর সিগাল এমন একটি ডিনারের আয়োজন করেন যেখানে অতিথি ছিলেন উডি অ্যালেন ও তার স্ত্রী সুনি-ই প্রেভিন, জর্জ স্টেফানোপোলোস এবং কেটি কুরিক। এরপরের বছরগুলোতে তিনি এপস্টেইনের সামাজিক ক্যালেন্ডারও পরিচালনা করতেন। তাকে বিভিন্ন চলচ্চিত্র স্ক্রিনিং এবং ইভেন্টে আমন্ত্রণ জানাতেন।
সিগাল ও এপস্টেইনের মেলামেশা ছিল ঘনিষ্ঠ। কিছু ইমেলে দেখা যায় এপস্টেইন অনুরোধ করেছিলেন সিগালকে অ্যান হাথাওয়ে, হিউ জ্যাকম্যান এবং জেসিকা চাস্টেইনকে প্রাইভেট জেটে বসানোর ব্যবস্থা করতে। যদিও সেই ভ্রমণ আর কফি মিটিং কখনো হয়নি।
এক পার্টিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বান্ধবীদের সঙ্গে জেফ্রি এপস্টেইন
এপস্টেইন মিডিয়ার মুখোমুখি হলে সিগাল তাকে পরামর্শ দিতেন কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। তিনি টাইনা ব্রাউন, ডেইলি বিস্ট ও নিউজউইক-এর সম্পাদকদের সাথে সম্পর্কিত বিষয়েও উপদেশ দিতেন।
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে সিগাল অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হয়েছেন। ২০১০ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের সফরের জন্য তিনি ৩৭,৬০০ ডলার বাজেট প্রেরণ করেছিলেন। তার মধ্যে হোটেল, কার এবং বিমান ভাড়া অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া ২০১৮ সালের জন্মদিনে এপস্টাইন সিগালকে ৩০,০০০ ডলার উপহার দেন।
সিগাল বলেছেন, তিনি এপস্টেইনের বাড়িতে দুটি সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন, প্রিন্স এন্ড্রু-এর ডিনার এবং ইয়োম কিপুর ডিনারে। তিনি দাবি করেছেন, তিনি ‘অল্পবয়সী মেয়েদের’ সম্পর্কে কিছু জানতেন না।
সিগাল ও এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠতা এতটাই ছিল যে এপস্টাইন তাকে বলেছিলেন, একটি নারী খুঁজে বের করতে যিনি তার সন্তান ধারণ করতে ইচ্ছুক।
এলআইএ