প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুরুষ নির্যাতন আইন চাইলেন বিতর্কিত গায়ক নোবেল
প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুরুষ নির্যাতনের আইন চাইলেন বিতর্কিত গায়ক নোবেল
মাঈনুল আহসান নোবেল এমন একজন শিল্পী যার কণ্ঠের জাদু এক সময় দুই বাংলাকে মুগ্ধ করেছে। তবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তিনি যেন এখন অকালে প্রতিভা নষ্টের এক আক্ষেপের নাম। বারবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উত্তাল হয়ে উঠেছে তার নানা কাণ্ডকীর্তি।
দীর্ঘদিনের নীরবতা, আইনি জটিলতা এবং কারান্তরালের অভিজ্ঞতার পর সম্প্রতি এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের জীবনের গোপন অধ্যায়গুলো উন্মোচন করেছেন।
সাক্ষাৎকারে নোবেল জানান, তিনি গোপনভাবে বিবাহিত এবং তার তিন মাস বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তার নামও রাখা হয়েছে ‘নোবেল’। নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে এই নামকরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বড় বড় রাজাদের মতোই নাম দেওয়া হলো। রাজারা ছেলেদের নাম রাখতে টু, থ্রি, ফোর বা জুনিয়র যোগ করে। আমার ছেলেরও নাম নোবেল। সে নোবেল টু বা নোবেল জুনিয়র হিসেবে পরিচিত হবে।’
নোবেল দেশের আইনি ব্যবস্থার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘নারীদের জন্য আইনি সুবিধা পাওয়া সহজ হলেও, পুরুষদের জন্য তা হয়রানিমূলক। বিশেষ করে পারিবারিক বা নারীঘটিত মামলায় জেলে খাটার অভিজ্ঞতা অপমানজনক। এমন লজ্জাজনক ‘চকি ভাঙ্গা’ আইনের কারণে অনেকেই অযথা কষ্ট ভোগ করেন।’
নোবেল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে পুরুষ নির্যাতনের আইনের প্রয়োগ ও সমতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
কারাবাস ও রিহ্যাবের অভিজ্ঞতাও তিনি শেয়ার করেন। নোবেল বলেন, ‘রিহ্যাব জীবন কষ্টের দিক দিয়ে জেলের চেয়ে অনেক কঠিন। স্বাধীনতা নেই, চার দেয়ালের মধ্যে আটকা। তবে কারাবন্দিদের সঙ্গে গান গাইতে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য আনন্দও পেয়েছি।’
নিজের পেশাগত দায়িত্ব ও শো নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে নোবেল বলেন, ‘আমি আজ পর্যন্ত ৩০০ শোয়ের মধ্যে মাত্র একবার অনুপস্থিত ছিলাম। ২০২৩ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে একটি শো মিস হয়েছিল। এরপরও শতাধিক সফল প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি।’
সাক্ষাৎকার শেষে তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাকে ভালোবাসবে বলেছিল, কিন্তু তা হয়নি। তবুও আমি আমার সন্তান ও নতুন গান ও অ্যালবামের মাধ্যমে জীবনে এগিয়ে যাচ্ছি।’
নোবেলের এই প্রকাশ্য দাবি ও অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পুরুষ নির্যাতনের আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন আলোচনা উসকে দিয়েছে।
এলআইএ