বাংলাদেশের নায়িকারা তো আমার চেয়েও নোংরা জামা পরে : মনিকা কবির
মনিকা কবির
দীর্ঘদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল নাম মনিকা কবির। সম্প্রতি এক পথচারীকে মারধরের ঘটনার পর আবারও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন এই মডেল। সেই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে তাকে ক্ষমা চাইতে লিগ্যাল নোটিশও পাঠানো হয়েছে।
সেখানে তার ছোট পোশাক নিয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। পথে ঘাটে প্রকাশ্যে তার খোলামেলা চলাফেরা ও পোশাক পরিবর্তনের চেষ্টা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সমালোচনা চলছে।
তবে মনিকা কবি নিজের পোশাকের পক্ষ নিয়ে জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি তো শর্ট পরে বের হইনি। বের হয়েছি স্কার্ট পরে। বাংলাদেশের নায়িকারা আমার থেকেও অনেক নোংরা জামা পরে। তাদের সঙ্গে কিছু কেউ বলে না। আমার সঙ্গে কেন সবাই প্রবলেম করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশে থাকবো না। এখানকার মানুষের মানসিকতা নেগেটিভ।’
মনিকার জন্ম রাশিয়ায় এবং বেড়ে ওঠা দেশটির রাজধানী শহর মস্কোতে। তার রাশিয়ান মায়ের নাম ম্যারিয়া গোজেন। বাংলাদেশে মনিকা নামে পরিচিত হলেও তার রুশ নাম মারিয়া ভ্যালিরিয়েভনা। পরিবারে তার ডাকনাম ছিল ‘মনিশকা’। মনিকার ভারতীয় বাবা চামড়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যবসার সূত্রে তাকে বিভিন্ন সময় এশিয়া ও ইউরোপের নানা দেশে যেতে হয়েছে। বাবার কাজের কারণে ছোটবেলা থেকেই মনিকাও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘোরার সুযোগ পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার ব্যবসার সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ থাকায় ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো তিনি বাংলাদেশে আসেন।
শিক্ষাজীবনের শুরুটা ছিল ভিন্নধর্মী। প্রথমদিকে তিনি হোম স্কুলিংয়ের মাধ্যমে পড়াশোনা করেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে সরাসরি পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এরপর দ্রুত শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিয়ে মাত্র ১২ বছর বয়সেই কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে। সেখানে আন্তর্জাতিক অনুবাদ (ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সলেশন) বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন, কারণ ভাষা ও অনুবাদের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল।
ভাষাজ্ঞানেও মনিকা কবির বেশ সমৃদ্ধ। মাতৃভাষা রুশ ছাড়াও বাংলা, হিন্দি, পোলিশ, আজারবাইজানি, তুর্কি ও ইংরেজি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে দাবি করেন মনিকা কবির। তার বড় ভাই রাশিয়ায় বসবাস করেন, আর ছোট ভাই থাকেন তুরস্কে।
বর্তমানে মনিকা কবির ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘আনজারার’ এর সঙ্গে কাজ করছেন। ‘আনজারা গার্ল’ পরিচয়ে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন ফ্যাশন অনুষঙ্গ ও পোশাককে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
এমআই/এলআইএ