ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. বিনোদন

সিঙ্গেল হলে মানেই পাইরেসি, ঈদের সিনেমা নিয়ে আতঙ্ক

বিনোদন প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১০:৫৯ এএম, ২১ মার্চ ২০২৬

ঈদকে কেন্দ্র করে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাগুলো নিয়ে সাধারণত থাকে বাড়তি উত্তেজনা। কিন্তু এবার সেই উৎসবের আবহে ছায়া ফেলেছে এক পুরোনো শত্রু, পাইরেসি। নির্মাতা ও প্রযোজকদের মতে, এই সংকট এখন এতটাই ভয়ংকর রূপ নিয়েছে যে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন নিজেদের সিনেমা মুক্তির কৌশল বদলে দিতে।

এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া পাঁচটি সিনেমার মধ্যে তিনটিই সিঙ্গেল স্ক্রিনে মুক্তি দিচ্ছেন না প্রযোজকেরা। তাদের আশঙ্কা, মুক্তির পরপরই সিনেমার উচ্চমানের কপি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা সরাসরি ব্যবসায় ধাক্কা দেয়।

গত বছর ‘তাণ্ডব’ সিনেমা মুক্তির পর মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এর এইচডি কপি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভালো ব্যবসার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বড় ক্ষতির মুখে পড়ে সিনেমাটি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সতর্ক অবস্থানে ‘দম’ সিনেমার প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল।

তার ভাষায়, দেশে এখনো আধুনিক ই-সার্ভারভিত্তিক প্রদর্শনব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে সিনেমার ডিসিপি (ডিজিটাল কপি) হলমালিকদের কাছে সরবরাহ করতে হয়, যা থেকে সহজেই পাইরেসির ঝুঁকি তৈরি হয়।

প্রযোজকদের অভিযোগটা সরাসরি সিঙ্গেল স্ক্রিনের দিকেই। তাদের মতে, ‘সিঙ্গেল হলে মানেই পাইরেসি’।

‘রাক্ষস’ সিনেমার প্রযোজক শাহরিন আক্তার মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিঙ্গেল স্ক্রিনে সিনেমা মুক্তি মানেই প্রায় নিশ্চিত পাইরেসি। তার মতে, ছোট বাজারে বড় বাজেটের সিনেমা তৈরি করেই ঝুঁকি নিতে হয়; তার ওপর যদি পাইরেসি হয়, তাহলে প্রযোজকদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, পাইরেসি বন্ধ না হলে নতুন প্রযোজকরা বিনিয়োগে আগ্রহ হারাবেন, যা পুরো শিল্পের জন্য হুমকি।

একই কারণে ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার পরিচালক রায়হান রাফীও প্রথম ধাপে সিঙ্গেল হলে মুক্তি দিচ্ছেন না। তার মতে, একটি সিনেমার ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রথম সপ্তাহ। এই সময়েই যদি পাইরেসি হয়ে যায়, তাহলে পুরো বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ে।

তাই অনেকেই এখন নতুন কৌশল নিয়েছেন, প্রথমে মাল্টিপ্লেক্সে সীমিত মুক্তি, এরপর কয়েক সপ্তাহ পর সিঙ্গেল স্ক্রিনে প্রদর্শন।

তবে এরমধ্যে ব্যতিক্রম শাকিব খানের সিনেমা। তার ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সবচেয়ে বেশি সিঙ্গেল স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে এবারের ঈদে। নির্মাতাদের মতে, দর্শকের সব স্তরে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তারাও পাইরেসিকে বড় ঝুঁকি হিসেবেই দেখছেন।

নির্মাতা ও প্রযোজকদের অভিযোগ, পাইরেসি ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। তারা বলছেন, একটি চক্র সংগঠিতভাবে এই কাজ করছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেই। অনেকে মনে করছেন, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার না হলে এই সংকট আরও বাড়বে।

 

এলআইএ