ঐতিহ্যবাহী নৃত্য-সঙ্গীতে মত্ত হলো ত্রিপুরা পল্লী
নিজস্ব সংস্কৃতিধারার ঐতিহ্যবাহী নৃত্য-সঙ্গীতে রাঙ্গামাটিতে আপন সুর বেজে উঠলো আদিবাসী ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মাঝে। এই সুর মাতিয়েছে শহরের গর্জনতলীর গোটা ত্রিপুরা পল্লীকে। শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা পল্লীজুড়ে সৃষ্টি করে আনন্দধারা। আনন্দে মাতোয়ারা হন দর্শকরা।
রাঙ্গামাটি ত্রিপুরাকল্যাণ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ২৩ মে শুরু হওয়া পক্ষকাল ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৃত্য প্রশিক্ষণ কোর্স শেষ হয় শনিবার। শহরের গর্জনতলীর রোলেক্স স্মৃতি মিলনায়তনে রাতে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে মেতে উঠেন অগণিত দর্শক। তার আগে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সনদ বিতরণীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা।
এসময় চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে। পিছিয়ে পড়া ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীসহ সবার উন্নয়নে জেলা পরিষদ কাজ করছে। পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের কল্যাণে রাজধানী ঢাকায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
ত্রিপুরাকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুরেশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য অংসুই প্রু চৌধুরী, স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, অমিত চাকমা (রাজু), জনসংযোগ কর্মকর্তা অরুনেন্দু ত্রিপুরা, ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা প্রীতি কান্তি ত্রিপুরা, সাগরিকা রোয়াজা ও রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ঝিনুক ত্রিপুরা।
অনুষ্ঠানে নৃত্য প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। এরপর রাতে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীদের নৃত্য-সঙ্গীত পরিবেশনা গোটা ত্রিপুরা পল্লীকে মাতিয়ে তোলে। ত্রিপুরা শিল্পীদের একে একে ঐতিহ্যবাহী গড়াইয়া, বোতল, প্রদীপ নৃত্যসহ নানা বর্ণাঢ্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে।
সুশীল চাকমা/এমজেড/পিআর