দিতি কাচ্চি বিরিয়ানি খুব পছন্দ করতো : আলমগীর
ছবি: মাহবুব আলম
‘দিতির সঙ্গে আমার দেখা হলেই সে খুব বিনয়ের সঙ্গে কথা বলতো। তার সঙ্গে আমার পরিচয় সেই ’৯২ সাল থেকে। সবসময় তার মুখে হাসির ফোয়ারা বইতেই থাকতো। যখন প্রথমবার তার অসুস্থতার কথা শুনি তারপরই তাকে ফোন করেছিলাম। সেসময় দিতি বলেছিল, ‘চেন্নাই থেকে ট্রিটমেন্ট নিয়ে এসেছি। আল্লাহর রহমতে আমি এবার ভালো হয়ে উঠবো। আমার জন্য দোয়া করবেন আর রুনা আপাকে আমার সালাম দিবেন।’ আজো দিতির কথাগুলো আমার কানে বারবার প্রতিধ্বনিত হয়। সবই হলো, দিতি আর ভালো হলো না!’
এভাবেই সদ্য প্রয়াত অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতিকে স্মরণ করলেন বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক আলমগীর। শনিবার দুপুরে এফডিসির মুক্তিযোদ্ধা জসিম ফ্লোরে অকাল প্রয়াত নির্মাতা খালিদ মাহমুদ মিঠু ও পারভীন সুলতানা দিতির স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত এই অভিনেতা।
এসময় নায়ক আলমগীর আরো বলেন, ‘দিতির সঙ্গে আমার কাজের বহু অভিজ্ঞতা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা মনে পড়ে সেটি হচ্ছে দিতি কাচ্চি বিরিয়ানি খেতে খুব পছন্দ করতো। সে এটা ভালো রাঁধতেও জানতো। তার হাতের রান্না কাচ্চির স্বাদ ছিল একেবারে অমৃত। আমি অনেকবার খেয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘শেষবার দিতিকে হাসপাতালে আমি আর রুনা দেখতে গিয়েছিলাম। সেসময় দিতি অনেকক্ষণ পর আমাদের চিনতে পেরেছিল। তার শারীরিক অবস্থা দেখে আমার চোখ ভিজে গিয়েছিল। দিতি তখন ইশারায় কিছু একটা বলতে চেয়েছিল কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারিনি। শত চেষ্টা করেও তার কথার ভাবার্থ উদ্ধার করতে পরিনি। কী আশ্চর্য জীবন! প্রিয় মানুষ চোখের সামনে হরিয়ে যায়।’
দিতির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আলমগীর বলেন, ‘আমরা এখন যতই আলোচনা করি, স্মৃতিচারণ করি এটা হয়তো দিতিকে আমাদের মনে বাঁচিয়ে রাখবে কিন্তু তার কাছে আমাদের এসব কথা পৌঁছুবে না। তার জন্য আমরা যদি সবাই দোয়া করি তবে সেটাই পৌঁছুবে। তাই আমরা সকলেই দোয়া করি দিতি যেন পরকালেও ভালো থাকুক।’
এদিকে নির্মাতা মিঠুর মৃত্যু নিয়েও কথা বলেন আলমগীর। তিনি মিঠুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মিঠুর বিদেহি আত্মার শান্তি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম খালিদ মাহমুদ মিঠুর স্মরেণ বলেন, ‘মিঠু ছিলেন নিভৃতচারী একজন মানুষ। তার সঙ্গে পরিচয় হয় চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে। তিনি খুব বিনয়ী একজন মানুষ ছিলেন। প্রথম ছবিতেই তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে চলচ্চিত্রাঙ্গনে অনেকটা শূন্যতা বিরাজ করছে।’
অকাল প্রয়াত দুই গুণী চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নির্মাতা খালিদ মিঠু ও অভিনেত্রী দিতির স্মরণ সভা ও দোয়ার অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দিতির একমাত্র পুত্র দীপ্ত চৌধুরী, পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার, চলচ্চিত্র পরিচালক দেলওয়ার জাহান ঝন্টু, বদিউল আলম খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, কাবিলাসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট আরো অনেকে।
এসময় প্রত্যেকে নির্মাতা মিঠু ও অভিনেত্রী দিতির আত্মার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন ও দোয়ায় অংশ নেন।
এলএ/এবিএস