ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ফিচার

নারী দিবস নিয়ে কর্মক্ষেত্রে সফল নারীদের ভাবনা

আনিসুল ইসলাম নাঈম | প্রকাশিত: ১১:৩৮ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬

এবারের বিশ্ব নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘অধিকার, ন্যায়বিচার, উদ্যোগ সব নারীর জন্য হোক’। দিনটি পালনের পাশাপাশি সংগ্রাম, অর্জন এবং সম্ভাবনার গল্প বলারও একটি উপলক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, বৈষম্য ও নানা সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়েও নারীরা নিজেদের দক্ষতা, মেধা ও সাহস দিয়ে কর্মক্ষেত্রে গড়ে তুলেছেন সাফল্যের নতুন ইতিহাস। আজকের বাংলাদেশে প্রশাসন, ব্যবসা, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, গণমাধ্যম কিংবা সৃজনশীল অঙ্গন প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করছেন। তারা শুধু নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করছেন না, একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মেয়েদের জন্যও তৈরি করছেন সম্ভাবনার পথ।

বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে কর্মক্ষেত্রে সফল এমন কয়েকজন নারীর কাছে নারী দিবস নিয়ে তাদের ভাবনা জানার চেষ্টা করেছে জাগো নিউজ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিসুল ইসলাম নাঈম-

অগ্রযাত্রায় নারীর নেতৃত্ব
নাজমুন নাহার
১৮৪ দেশ ভ্রমণকারী প্রথম বাংলাদেশি পতাকাবাহী পরিব্রাজক

নারী হিসেবে পৃথিবীর ১৮৪ দেশ ভ্রমণ করা আমার কাছে শুধু দুর্জয়কে জয় করা নয়; এটি আমার দীর্ঘ স্বপ্ন, প্রতিশ্রুতি, সংগ্রাম এবং সাফল্যে ভরপুর একটি গল্প। এই ভ্রমণ আমাকে শিখিয়েছে, বিশ্বের প্রতিটি দেশে নারীর অংশগ্রহণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং বৈশ্বিক অগ্রগতির জন্য নারীর নেতৃত্ব অপরিহার্য। আমি বিশ্বাস করি, শুধু পৃথিবী ভ্রমণ নয় যদি বাংলাদেশে নারীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে সমান সুযোগ দেওয়া হয়, এমনকি চন্দ্র অভিযানেও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে, তাহলে তা হবে দেশের জন্য এক ঐশ্বর্যময় অর্জন।

নারী দিবস কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়; এটি একটি প্রতীক যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় নারীর অগ্রযাত্রার গুরুত্ব। শিক্ষা থেকে শুরু করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প ও অর্থনীতি প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের নেতৃত্ব দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করে। নারী শুধু ঘরে বা সমাজে সীমাবদ্ধ নয় বরং রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক নীতি, উন্নয়ন ও অবকাঠামোর পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দিতে পারে। মহাকাশ গবেষণা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, চিকিৎসা, গবেষণা নারী নেতৃত্ব দেশের বৈশ্বিক স্বীকৃতি বাড়ায়। নারীরা যখন সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে আসে, নীতি প্রণয়ন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং সমাজে সমতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা পায়। এক কথায়, নারী দিবস কেবল উদযাপনের বিষয় নয়। এটি আমাদের মনে করায়, একজন দেশের সত্যিকারের অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন নারী প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতৃত্বে এগিয়ে আসে।

অদম্য পথচলার নামই নারী
ডা. কাকলী হালদার
সহকারী অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

একজন নারী, চিকিৎসক এবং শিক্ষক হিসেবে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমার ভাবনা কেবল একটি দিন উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি নারীদের শিক্ষা, অধিকার, সুস্বাস্থ্য এবং মর্যাদার প্রতি অঙ্গীকারের দিন। মেধা, শ্রম আর অদম্য সাহসের স্বীকৃতির দিন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আঙিনায় আমরা প্রতিদিন অসংখ্য নারীর জীবনসংগ্রাম দেখি। আজো আমাদের সমাজে অনেক নারী অপুষ্টি, প্রজনন স্বাস্থ্যের অবহেলা এবং মানসিক চাপে ভুগছেন।

বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের দ্বিমুখী লড়াই সংসার ও ক্যারিয়ারের ভারসাম্য রক্ষা; তাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ​শিক্ষক হিসেবে আমি যখন আমার ছাত্রীদের দিকে তাকাই তাদের চোখে অদম্য স্বপ্ন দেখি। চিকিৎসক হয়ে আজকের নারীরা শুধু যে সাবলম্বী হয়েছে তা নয় বরং দক্ষ সার্জন, গবেষক ও নীতিনির্ধারক হিসেবেও বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে প্রতিটি পেশায় নারীর প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন প্রতিটি মেয়ে শৈশব থেকেই সঠিক পুষ্টি ও শিক্ষার সমান সুযোগ পাবে।

​নারীর সুস্বাস্থ্যই একটি সুস্থ জাতির ভিত্তি। আসুন, আজ আমরা শপথ নেই-নারীকে কেবল ত্যাগের প্রতিমূর্তি হিসেবে নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মান ও বিশ্রামের সুযোগ দেব। তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সংবেদনশীল হওয়া আমাদের পেশাদার ও নৈতিক দায়িত্ব। সব নারীর জন্য একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ পৃথিবীর প্রত্যাশা রইলো। 

নারী পুলিশরা একসময় দেশকে নেতৃত্ব দিবে
নিশাত রায়হান অমনি
এএসপি, বাংলাদেশ পুলিশ

বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নারীর উপস্থিতি একসময় ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। আজ আমি যখন একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করি, তখন গর্বের সঙ্গে বলতে পারি-বাংলাদেশ পুলিশে নারীদের পদচারণা শুধু সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং সক্ষমতা, নেতৃত্ব এবং মানবিকতার এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে নারী সদস্যদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। থানা পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা, রেঞ্জ এমনকি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও নারী পুলিশ সদস্যরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক নারী কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদেও কাজ করছেন এবং অপরাধ তদন্ত, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, কমিউনিটি পুলিশিংসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন।

আমার নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, নারী পুলিশ সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে সমাজের সংবেদনশীল সমস্যাগুলো মোকাবিলায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলোতে ভুক্তভোগীরা প্রায়ই একজন নারী কর্মকর্তার কাছে নিজেদের কথা সহজে প্রকাশ করতে পারেন। এর ফলে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও মানবিকভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এই জায়গায় নারী পুলিশের উপস্থিতি শুধু প্রশাসনিক নয়, সামাজিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এই অগ্রগতির মাঝেও কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সমাজের প্রচলিত ধ্যানধারণা, কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন, পরিবার ও পেশার ভারসাম্য রক্ষা এসব বিষয় নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য কঠিন বাস্তবতা। অনেক সময় মাঠ পর্যায়ের কঠোর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক চাপও সামলাতে হয়। পাশাপাশি অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে, যেমন পর্যাপ্ত আবাসন, মাতৃত্বকালীন সহায়তা বা নারী-বান্ধব কর্মপরিবেশের প্রয়োজনীয়তা।

তবুও আমরা থেমে নেই। বরং এসব চ্যালেঞ্জই আমাদের আরও দৃঢ় করে তুলছে। আজকের নারী পুলিশ সদস্যরা প্রমাণ করছেন যে সাহস, দক্ষতা এবং দায়িত্ববোধের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। আমরা শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করছি না, বরং সমাজে নারীর সক্ষমতার একটি শক্তিশালী উদাহরণও স্থাপন করছি। নারী পুলিশ সদস্যদের এই অবদান নারী ক্ষমতায়নের পথকে আরও শানিত করছে। একজন মেয়ে যখন দেখে যে একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা কঠিন পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, অপরাধ দমন করছেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তখন তার মধ্যেও আত্মবিশ্বাস জন্মায়। সে বুঝতে পারে, সমাজের যে কোনো দায়িত্বপূর্ণ জায়গায় নারী সমানভাবে কাজ করতে পারে।

ভবিষ্যতে নারী পুলিশের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নত করা এবং কর্মক্ষেত্রে আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের নারী পুলিশ সদস্যরা আগামী দিনেও সাহস, সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। আমাদের এই পথচলা শুধু আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সমগ্র সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে। একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমরা যত এগোবো, ততই বাংলাদেশের মেয়েরা আরও আত্মবিশ্বাসী হবে, আরও স্বপ্ন দেখবে। একদিন এই দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সামর্থ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে আসবে।

আর্থিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি জরুরি
প্রিয়া দাশ শান্তা
সহকারী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীর অর্জন ও সম্ভাবনাকে নতুনভাবে ভাবার একটি সুযোগ। ফিনান্সিয়াল সেক্টরে নারীরা আজ দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। তবুও কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়, পরিবার ও পেশার ভারসাম্য রক্ষা এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে সীমিত উপস্থিতিসহ অনেক চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান। তাই আর্থিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে নারীর সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একজন কেন্দ্রীয় ব্যাংকার হিসেবে আমি আশাবাদী যে সমান সুযোগ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি হলে নারীরা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং দেশের আর্থিক খাত ও অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কেএসকে

টাইমলাইন

  1. ১২:৪৭ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ জেন-জি পুরুষ কেন নারীর স্বাধীনতার বিপক্ষে?
  2. ১২:১৯ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ ‘সব পুরুষ একরকম না’, তবু কেন সব পুরুষের দোষ হয়
  3. ১২:০৯ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ ‘কাজের মাধ্যমে বৈষম্যটা নারীকেই ঘোঁচাতে হবে’
  4. ১১:৫৮ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব নারীরও আছে, পুরুষের ওপর সব চাপালে হবে না
  5. ১১:৩৮ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ নারী দিবস নিয়ে কর্মক্ষেত্রে সফল নারীদের ভাবনা
  6. ১০:৫৯ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ মেয়ে শিশু-নারী কার কাছে নিরাপদ?
  7. ১০:৫৪ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ নারীর ক্যারিয়ার বনাম পারিবারিক প্রত্যাশা
  8. ১০:৩৬ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ নির্যাতন-প্রতারণায় ফিকে হচ্ছে প্রবাসী নারীর স্বপ্ন
  9. ০৯:৫৫ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ নারীবাদে নারীর প্রকৃত অবস্থান বনাম পুরুষতান্ত্রিক দ্বিচারিতা
  10. ০৯:৪৩ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ নারীত্বের ফ্রেমে বন্দি পরিচয়: সীমাবদ্ধতা বনাম সম্ভাবনা
  11. ০৯:১৫ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ সন্তান জন্মের পর কর্মজীবী মায়ের নতুন লড়াই
  12. ০৮:৩৪ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ নারী দিবসে স্টেম খাতের অগ্রদূতদের সম্মান জানাল গুগল
  13. ০৮:৩৪ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ নারীর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
  14. ০৮:২৬ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ প্রশাসনের শীর্ষ পদে কমছে নারী
  15. ০৮:০৯ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস
  16. ০৮:০২ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ শ্রমজীবী নারীর আন্দোলন, একটি দিবসের সূচনা
  17. ০৭:৫০ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ নারী দিবসে ফুল-শুভেচ্ছার বাইরে কি বাস্তবতা বদলেছে?

আরও পড়ুন