ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ফিচার

১৮ হাজার বার্বি পুতুল সংগ্রহে, গড়লেন বিশ্বরেকর্ড

ফিচার ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১:৩৭ এএম, ১৪ মার্চ ২০২৬

বার্বি পুতুল নিয়ে খেলেননি এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়া কষ্ট। শুধু বাঙালি মেয়ে শিশুই নয়, পুরো বিশ্বেই এই পুতুল শিশুদের কাছে শৈশবের সবচেয়ে রঙিন স্মৃতি। বিভিন্ন রঙের বার্বি পুতুল সংগ্রহে রাখাও অনেকের শখ ছিল। তবে ছোটবেলার এই শখ যে কাউকে বিশ্বরেকর্ড এনে দিতে পারে তা নিশ্চয়ই কখনো ভাবেননি কেউ।

জার্মানির সংগ্রাহক বেটিনা ডরফম্যান দীর্ঘদিন ধরে বার্বি পুতুল সংগ্রহের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তার সংগ্রহে রয়েছে ১৮ হাজারেরও বেশি বার্বি পুতুল, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্বি সংগ্রহের মালিক হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।

সম্প্রতি তিনি নিজের অসাধারণ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিতে অংশ নেন এক বিশেষ চ্যালেঞ্জে। সেখানে চোখ বাঁধা অবস্থায় শুধু পুতুলের চুল, গঠন এবং পোশাক স্পর্শ করে সেগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। এই অনন্য পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে, যা জার্মানির মুঞ্চি শহরে আয়োজন করা হয়েছিল।

মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে তিনি ১৯টি বার্বি পুতুল সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। এর মাধ্যমে তিনি ‘চোখ বাঁধা অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বার্বি পুতুল শনাক্ত’ করার নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে তোলেন। প্রতিটি পুতুল হাতে নেওয়ার পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি বুঝে যাচ্ছিলেন সেটি কোন সংস্করণের বার্বি।

বার্বির প্রতি তার আগ্রহের শুরু শৈশবেই। ছোটবেলায় তিনি নিয়মিত এই পুতুল নিয়ে খেলতেন এবং সেই সময়ের স্মৃতি ও ভালোবাসা থেকেই সংগ্রহের যাত্রা শুরু। পরে নিজের মেয়ের জন্যও তিনি পুতুলগুলো যত্ন করে রেখে দেন এবং মা-মেয়ে মিলে খেলাধুলার স্মৃতিও গড়ে তোলেন।

বেটিনা মনে করেন, বার্বি পুতুল আসলে সময়ের প্রতিচ্ছবি। বিভিন্ন সময়ে তৈরি হওয়া পুতুলের পোশাক, চুলের ধরন এবং সাজসজ্জায় সেই সময়ের ফ্যাশন ও সামাজিক ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায়। এ কারণেই তিনি সহজেই বুঝতে পারেন কোন পুতুলটি কোন সময়ের।

তার মতে, বার্বি সবসময় সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। এখন বিভিন্ন দেশ, পেশা, ত্বকের রং ও বৈচিত্র্যকে তুলে ধরার জন্য নানা ধরনের বার্বি তৈরি করা হচ্ছে, যা বাস্তব জীবনের বৈচিত্র্যকেই প্রতিফলিত করে। ২০০৫ সালে মাত্র আড়াই হাজার পুতুল নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন বেটিনা। এরপর বছর যেতে যেতে তার সংগ্রহ আরও বড় হয়েছে এবং সেই সঙ্গে বারবার নবায়ন হয়েছে তার রেকর্ডও।

পুতুল সংগ্রহের এই অনন্য শখকে তিনি এখনো একই উৎসাহে ধরে রেখেছেন। তার বিশ্বাস, মানুষ যদি কোনো কিছুকে সত্যিই ভালোবাসে, তবে সেই আগ্রহই একদিন তাকে অসাধারণ কিছু অর্জনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই যারা কোনো কিছু সংগ্রহ করতে ভালোবাসেন, তাদেরও তিনি উৎসাহ দেন হয়তো তাদের শখও একদিন বিশ্বরেকর্ডে জায়গা করে নিতে পারে।

আরও পড়ুন
বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ তিনি
ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট ও সবচেয়ে দীর্ঘ চুমুর রেকর্ড

সূত্র: গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস

কেএসকে

আরও পড়ুন