ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ফিচার

নতুন টাকায় ঈদ আনন্দ

কানিছ সুলতানা কেয়া | প্রকাশিত: ০৯:৩২ এএম, ২১ মার্চ ২০২৬

ঈদ মানেই আনন্দ, নতুন জামা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো আর ছোটদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সালামি। ছোটবেলায় ঈদের সকালে বড়দের সালাম করে যখন হাতের মুঠোয় চকচকে নতুন টাকার নোট পেতাম, সেই আনন্দটা ছিল অন্যরকম। ২,৫,১০,৫০,১০০টাকার নতুন টাকার সেই গন্ধ, নোটের কড়কড়ে ভাব সব মিলিয়ে মনে হতো যেন ঈদের আনন্দটা আরও একটু বেড়ে গেল। অনেকেই সেই নোটগুলো খরচ না করে যত্ন করে রেখে দিতেন স্মৃতি হিসেবে।

সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু ঈদের সেই ছোট ছোট আনন্দগুলো এখনো একই রকম রয়ে গেছে। এখনো ঈদ এলে বড়রা ছোটদের সালামি দেন, আর চেষ্টা করেন সেই টাকাটা যেন হয় একেবারে নতুন। কারণ নতুন টাকার নোট হাতে পেলে শিশুদের মুখে যে হাসি ফুটে ওঠে, সেটাই যেন ঈদের আসল আনন্দকে আরও পূর্ণ করে তোলে।

jagonewsবাংলাদেশে ঈদের আগে নতুন টাকার নোটের প্রতি মানুষের আগ্রহ বরাবরই বেশি। অনেকেই ব্যাংক থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন, যাতে ঈদের দিন প্রিয়জনদের হাতে কড়কড়ে টাকা তুলে দিতে পারেন। আগে ঈদের কয়েকদিন আগে ব্যাংকের সামনে নতুন নোট নেওয়ার জন্য মানুষের লম্বা লাইন দেখা যেত। এখনো অনেক ব্যাংক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নতুন নোট বিতরণ করে থাকে।

তবে শুধু ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতে হয় না। রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা গুলিস্তান নতুন টাকার নোট কেনার অন্যতম জায়গা হিসেবে পরিচিত। ঈদ ঘনিয়ে এলেই সেখানে ছোট-বড় বিভিন্ন ব্যবসায়ী নতুন নোটের বান্ডিল নিয়ে বসেন। পাঁচ টাকা, দশ টাকা, বিশ টাকা, পঞ্চাশ টাকা থেকে শুরু করে একশ টাকার নতুন নোট সবই পাওয়া যায় সেখানে।

তবে এসব নতুন নোট কিনতে হলে বাড়তি দাম দিতে হয়। সাধারণত একেক বান্ডিল টাকার নতুন নোট কিনতে গেলে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হয়। অর্থাৎ এক হাজার টাকার নতুন নোটের বান্ডিল কিনতে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। তবুও মানুষের আগ্রহ কমে না।

অনেকেই মনে করেন, এই বাড়তি খরচটা আসলে আনন্দের জন্যই। কারণ ঈদের দিনে যখন ছোটরা নতুন নোট হাতে পায়, তখন তাদের মুখে যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়, সেটাই যেন সব কিছুর দাম উসুল করে দেয়। অনেক বাবা-মা, চাচা-মামা বা বড় ভাই-বোনরা শুধু এই আনন্দের জন্যই বাড়তি দাম দিয়ে নতুন নোট কিনে থাকেন।

jagonewsশুধু শিশুদের জন্যই নয়, অনেক বড়রাও নতুন নোট পেতে ভালোবাসেন। ঈদের সালামির খামে যদি নতুন টাকার নোট থাকে, তাহলে সেটার আলাদা একটা মূল্য থাকে। অনেকেই সেই নোটগুলো স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রেখে দেন। আবার কেউ কেউ ঈদের খরচের জন্যই তা ব্যবহার করেন।

নতুন টাকার নোটকে ঘিরে এই সংস্কৃতিটি বাংলাদেশের ঈদ উদযাপনের এক বিশেষ অংশ হয়ে উঠেছে। যদিও প্রযুক্তির যুগে এখন মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল লেনদেন অনেক বেড়েছে, তবুও ঈদের সালামির ক্ষেত্রে হাতে ধরা টাকার নোটের অনুভূতিটা আলাদা। বিকাশ বা অন্য কোনো অ্যাপে টাকা পাঠানোর মধ্যে সেই আনন্দটা পাওয়া যায় না, যা একটি নতুন নোট হাতে পাওয়ার মধ্যে আছে।

গুলিস্তানের ব্যবসায়ীদের জন্যও ঈদের এই সময়টা বিশেষ ব্যস্ততার। তারা আগে থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করে রাখেন। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে সেখানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই একসঙ্গে কয়েক হাজার টাকার নতুন নোট কিনে নিয়ে যান, যাতে পরিবারের সব ছোটদের সালামি দেওয়া যায়।

নতুন টাকার নোট শুধু অর্থের মূল্য নয়, বরং এটি ঈদের আনন্দ, স্মৃতি আর পারিবারিক ভালোবাসার একটি প্রতীক। ছোটবেলার সেই কড়কড়ে নোট হাতে পাওয়ার যে সুখ, সেটিই আজ বড় হয়ে আমরা আবার ছোটদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই।

হয়তো সময় বদলাবে, লেনদেনের পদ্ধতি আরও আধুনিক হবে। কিন্তু ঈদের সকালে ছোটদের হাতে নতুন টাকার নোট তুলে দেওয়ার যে আনন্দ, তা বাঙালির ঈদ সংস্কৃতির এক চিরন্তন অংশ হয়ে থাকবে। কারণ এই ছোট ছোট আনন্দগুলোই তো ঈদকে করে তোলে আরও সুন্দর, আরও স্মরণীয়।

আরও পড়ুন
রমজানে ভিন্ন ছন্দ মালিনীছড়া চা বাগানে
মাঝরাতে জমে ওঠে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বেনারসির হাট

কেএসকে

আরও পড়ুন