ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ফিচার

ফেরার স্রোতে জেগে উঠল ঢাকা

ফিচার ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:০৮ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চারদিনের নির্বাচনি ছুটি যেন ঢাকাকে একটু থামার সুযোগ দিয়েছিল। ফাঁকা রাস্তা, কম হর্ন, ধোঁয়াশাহীন আকাশ অল্প সময়ের জন্য হলেও রাজধানীকে চিনতে কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু ছুটি শেষ। ট্রেন, বাস, লঞ্চভর্তি মানুষ আবার ফিরছেন কর্মস্থলের শহরে। আর সেই ফেরা মানেই ঢাকার চেনা ছন্দ, চেনা কোলাহল, চেনা যানজট।

ফেরার স্রোতে জেগে উঠল ঢাকামহাখালীর মোড়। সকাল গড়াতেই সেখানে ভিড় জমতে শুরু করেছে। দূরপাল্লার বাস থেকে নামছেন যাত্রীরা কাঁধে ব্যাগ, হাতে শিশুর হাত, চোখে ক্লান্তি আর মনে নতুন করে শুরু করার প্রস্তুতি। কেউ অফিসমুখী, কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কেউবা আবার কাজের খোঁজে। মহাখালীর এই ব্যস্ত মোড় যেন হয়ে উঠেছে ঢাকায় ফেরার এক প্রতীকী দরজা।

ফেরার স্রোতে জেগে উঠল ঢাকাছুটির দিনগুলোতে যে রাস্তায় পা ফেলতে হতো সাবধানে, সেখানে গাড়ির সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। কিন্তু আজ দৃশ্য ভিন্ন। প্রাইভেটকার, বাস, রিকশা, মোটরবাইক সব মিলিয়ে রাস্তায় আবার সেই চেনা চিত্র। ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির লম্বা সারি জানান দিচ্ছে, শহর আবার তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরছে।

ফেরার স্রোতে জেগে উঠল ঢাকাএকজন যাত্রী বলছিলেন, ‘গ্রামে শান্তি আছে, কিন্তু কাজ তো ঢাকাতেই।’ এই এক বাক্যে যেন শহর-গ্রামের টানাপোড়েন ধরা পড়ে। গ্রামের সবুজ, স্বস্তি, আত্মীয়তার উষ্ণতা পেছনে ফেলে মানুষকে ফিরতেই হয় এই ব্যস্ত নগরে স্বপ্ন আর দায়িত্বের টানে।

ফেরার স্রোতে জেগে উঠল ঢাকামহাখালী এলাকা থেকে তোলা ছবিতে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে আছে চা-ওয়ালা। তার দোকানের সামনে ছোট ছোট ভিড়। কেউ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ক্লান্তি ঝরাচ্ছেন, কেউ মোবাইল ফোনে অফিসের নির্দেশ নিচ্ছেন। বাসের হেল্পার উচ্চস্বরে ডাকছেন গন্তব্যের নাম। পাশে দাঁড়িয়ে আছে রিকশাচালক, যাত্রী পাওয়ার আশায়।

এই দৃশ্যগুলো আলাদা করে দেখলে খুব সাধারণ। কিন্তু একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায় এটাই ঢাকার হৃৎস্পন্দন। প্রতিটি মুখের পেছনে আছে আলাদা গল্প। কেউ হয়তো নির্বাচনের ছুটিতে মায়ের হাতের রান্না খেয়ে এসেছেন, কেউ পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে ফিরেছেন। কিন্তু আজ সবাই একই স্রোতে, ফিরে আসার স্রোতে।

ফেরার স্রোতে জেগে উঠল ঢাকাঢাকার যানজট নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই যানজটই যেন শহরের বেঁচে থাকার প্রমাণ। গাড়ির সারি মানে মানুষ কাজে ফিরেছে, ব্যবসা খুলেছে, স্কুল-কলেজ সচল হয়েছে। তবু ভোগান্তি তো আছেই। অফিস টাইমে মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলো যেন সময়কে আটকে রাখে।

কেউ গাড়ির ভেতরে বসে গান শুনছেন, কেউ ফোনে কথা বলছেন, কেউ জানালার বাইরে তাকিয়ে ভাবনায় ডুবে আছেন। এই থেমে থাকা সময়েও শহর থামে না; শুধু গতি বদলায়।

ফেরার স্রোতে জেগে উঠল ঢাকাছুটির পর ঢাকায় ফেরা মানে শুধু যাত্রা শেষ হওয়া নয়; বরং নতুন এক অধ্যায়ের শুরু। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা পেরিয়ে এখন সময় দৈনন্দিন জীবনে ফেরার। কর্মজীবী মানুষদের জন্য ছুটি মানে সাময়িক বিশ্রাম, কিন্তু শহর তাদের ডাকতেই থাকে।

ঢাকা কখনো ঘুমায় না, এই কথাটা হয়তো ক্লিশে, কিন্তু বাস্তব। নির্বাচনের চার দিনের বিরতিতে শহর একটু নিঃশ্বাস নিয়েছিল। এখন আবার সেই দৌড় শুরু। মহাখালীর মোড়, ব্যস্ত সিগন্যাল, বাসস্ট্যান্ডের ভিড় সব মিলিয়ে বোঝা যায় শহর তার মানুষদের ফিরে পেয়েছে।

ফেরার স্রোতে জেগে উঠল ঢাকাএই ফেরা শুধু শারীরিক নয়; মানসিকও। প্রত্যেকে নিজের ভেতরে নতুন করে প্রতিজ্ঞা নিয়ে ফিরছেন এই মাসটা ভালো কাটাতে হবে, কাজটা ঠিকঠাক করতে হবে, সংসারের দায়িত্ব সামলাতে হবে। ঢাকার রাস্তায় জমে ওঠা যানজট তাই শুধু গাড়ির ভিড় নয়; এটি হাজারো স্বপ্নের সমাবেশ।

নির্বাচনের ছুটির পর মহাখালীর রাস্তায় যে ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে, তা হয়তো সাময়িক অস্বস্তি তৈরি করছে। কিন্তু এর মাঝেই লুকিয়ে আছে শহরের প্রাণ। কারণ ঢাকা তখনই ঢাকা, যখন সে ব্যস্ত, যখন তার রাস্তায় মানুষ, তার সিগন্যালে অপেক্ষা আর তার বাতাসে নতুন দিনের তাড়া।

জেএস/