ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. স্বাস্থ্য

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অগ্রগতিতে সুশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০২:৪১ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের জন্য কার্যকর অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি’ শীর্ষক এক নীতিগত সংলাপে এসব বিষয় উঠে আসে।

শনিবার (৭ মার্চ) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপটি ছিল বাংলাদেশ রোড টু ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ–নিউ ডায়ালগ সিরিজ ২০২৬-এর অংশ। অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজক ছিল পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার ও ইউএইচসি ফোরাম। এতে সহায়তা দেয় ইউনিসেফ।

সংলাপে নীতিনির্ধারক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের পথে প্রয়োজনীয় সংস্কার অগ্রাধিকার ও বাস্তবসম্মত নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করাই ছিল সংলাপের মূল উদ্দেশ্য।

বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে নীতিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই সময়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যব্যয়ের চাপ কমানো, স্বাস্থ্যখাতে মানবসম্পদের ঘাটতি দূর করা এবং ইউএইচসি অগ্রগতির কার্যকর পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।

আলোচনায় কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি নিশ্চিত করা এবং সংস্কার বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

স্বাস্থ্যখাতের অর্থায়ন ও সুশাসনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, ক্রয় ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং বিপুলসংখ্যক শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা জরুরি। পাশাপাশি অসংক্রামক রোগের বাড়তে থাকা চাপ মোকাবিলা, পুষ্টি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

সংলাপে ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং গবেষণালব্ধ তথ্যকে নীতিনির্ধারণে কার্যকরভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের জন্য সুস্পষ্ট সংস্কার রোডম্যাপ, দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং সরকার, গবেষক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া এবং গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি জানান, সরকারের অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যখাতের শূন্য পদ ধাপে ধাপে পূরণ এবং পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ শক্তিশালী করা।

‘আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকারে এমন অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে গবেষক ও নীতি বিশ্লেষকেরা তুলে ধরছেন। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ক্রমশ গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করে আরও জনমুখী স্বাস্থ্যনীতির দিকে এগোচ্ছে। যদি আমরা ক্ষমতা ও অংশগ্রহণকে একত্রিত করতে পারি, তবে দেশের স্বাস্থ্যখাতে বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।’ বলছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

সংলাপে সমাপনী বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যখাতে টেকসই সংস্কার এগিয়ে নিতে সরকার, গবেষক ও নীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা জরুরি। তিনি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সমতা, পুষ্টি এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যখাতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, কেবল আর্থিক বিনিয়োগ বাড়ালেই হবে না—মানুষকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি যত্নশীল মানসিকতার বিকাশও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এসইউজে/এমএমএআর