ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. স্বাস্থ্য

ড্যাব মহাসচিব

চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে সেবা দিতে হবে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০১:০২ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬

চিকিৎসা খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে চিকিৎসকদের সততা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল। বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে বুধবার (১১ মার্চ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অযথা মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কোনো অন্যায় না থাকলে চিকিৎসকদের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন তিনি।

বুধবার রাজধানীর কিডনি ডিজিজ অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকদের দুর্নীতির বিষয়ে প্রায়ই আলোচনা ওঠে। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।

তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‌আপনাদের কোনো অন্যায় না থাকলে আমরা অবশ্যই আপনাদের পাশে থাকব। তবে প্রত্যেককে সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে রোগীদের যথাযথ সেবা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে চিকিৎসকদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়। এ ধরনের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাস্থ্যখাতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতায় একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জনগণের আস্থাভাজন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ডা. ফরহাদ হাসান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি অধ্যাপক হারুন রশীদ।

এদিকে ‘সুস্থ কিডনি সবার তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে কিডনি রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, বর্তমানে দেশে প্রায় তিন কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে ভুগছেন। প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে একসময় কিডনি বিকল পর্যায়ে পৌঁছান। তখন ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া বেঁচে থাকার কোনো উপায় থাকে না। কিন্তু এ দুটি চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় অধিকাংশ রোগীর পক্ষে তা বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কিডনি বিকল রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশই চিকিৎসা সুবিধার অভাবে কিছুদিনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন।

বর্তমানে দেশে প্রায় দেড় শতাধিক ডায়ালাইসিস সেন্টারে ১২ থেকে ১৫ হাজার রোগী নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এ পরিস্থিতিতে প্রতিটি জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপন এবং কিডনি বিশেষজ্ঞ, ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন, ডায়ালাইসিস নার্স ও টেকনিশিয়ানের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে কিডনি রোগের স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান তারা। এতে রোগ দ্রুত শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অর্থনৈতিক চাপও কমবে বলে মত দেন।

এসইউজে/এমআইএইচএস