ভিডিও EN
  1. Home/
  2. স্বাস্থ্য

তামাক দ্রব্যে আয়কৃত রাজস্ব হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যয়ের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৭:৪৬ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০২২

তামাকজাত দ্রব্য থেকে আদায় করা রাজস্বের অতিরিক্ত অংশ দিয়ে বিনামূল্যে হৃদরোগ চিকিৎসার ব্যবস্থা করাসহ চার দফা সুপারিশ জানিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো। সংগঠনগুলো হলো- বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা) ও বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটি।

বুধবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বিনামূল্যে হৃদরোগের চিকিৎসা নিশ্চিতকরণে তামাকজাত দ্রব্যের কর ব্যবস্থাপনা: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ করা হয়।

অন্য সুপারিশগুলো হলো- নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে ক্রেতাদের সিগারেট বিক্রিতে বাধ্য করা, দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত কর কাঠামো বাস্তবায়ন ও সুনির্দিষ্ট কর আরোপসহ একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

jagonews24

লিখিত বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম আব্দুল্লাহ বলেন, প্রতিবছর দেশের তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর করারোপের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়। এসব প্রস্তাবে প্রচলিত অ্যাডভেলোরেম করারোপ পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট করারোপ পদ্ধতির প্রবর্তনসহ সব তামাকজাত দ্রব্যের ওপর মূল্য ও করের পরিমাণ প্রস্তাব করা হয়েছে।

তামাকের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপ করা হলে সেই অর্থ দিয়ে দেশে বিনামূল্যে হৃদরোগের চিকিৎসা করা সম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার চাইলেই দেশের সব মানুষের হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয় তামাকখাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের সামান্য অংশ দিয়েই মেটাতে পারে। এভাবে ক্যানসার, হাইপার টেনশন, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যয় সরকার এ রাজস্ব আয় দিয়েই মেটানো সম্ভব।

আব্দুল্লাহ বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসার ব্যয়বহুল তিনটি সেবা হলো এনজিওগ্রাম, স্টেন্টিং (রিং পরানো) ও বাইপাস সার্জারি। বেশিরভাগ রোগী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন থেকে এসব চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন।

jagonews24

তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে ওই তিনটি সেবা নিতে ব্যয় হয় ২৮৬ দশমিক ৬১ কোটি টাকা। যা তামাকখাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের (৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা) মাত্র ৩ দশমিক ১২ শতাংশ। রোগী সংখ্যাকে ৭০ শতাংশ ধরে নিলে দেশের সব হৃদরোগীর অনুরূপ চিকিৎসা নিতে ব্যয় হবে ৪০৯ দশমিক ৪৪ কোটি টাকা। যা ওই রাজস্ব আয়ের ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ মাত্র।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিপার্টমেন্ট অব ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন।

এএএম/এমআইএইচ/এএসএম