ভিডিও EN
  1. Home/
  2. স্বাস্থ্য

তামাকনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প রাজস্ব উৎস খুঁজতে হবে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৬:০৯ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২২

তামাকের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে রাজস্ব আয়ের জন্য সরকারকে বিকল্প মাধ্যম খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা মনে করছেন, তামাকপণ্যের ওপর অব্যাহতভাবে কর বৃদ্ধি তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকর উপায়। সুনির্দিষ্ট কর আরোপের বিধান বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে সরকারের রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে, রোধ হবে কর ফাঁকিও।

এ লক্ষ্যে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যয় বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তরুণ প্রজন্মকে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার থেকে দূরে রাখা জরুরি বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের কনফারেন্স রুমে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট করারোপের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক পরামর্শমূলক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

জনস্বাস্থ্যের জন্য হানিকর- এমন সব পণ্য যেমন কোমল পানীয়, মিষ্টি, প্রক্রিয়াজাতকৃত (এসএসবি) খাবারের ওপর কর বাড়িয়ে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. এনামুল হকের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. নাজমুল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের পরিচালক (গবেষণা) সৈয়দা নওশীন পর্ণিনী।

বক্তারা বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে সফলতা অর্জন করেছে। কিন্তু সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তামাকপণ্যের নিম্নমুখী মূল্য ও কর, কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী প্রচারণা এবং হস্তক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের মাঝে তামাকের ব্যবহার বাড়ছে। যা সার্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি উৎকণ্ঠার বিষয়।

তারা বলেন, গত ১২ বছরে দেশের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে কয়েকগুণ। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। কিন্তু নিম্ন ভিত্তিমূল্যের কারণে প্রতিবছর খুব সামান্য পরিমাণে কর বাড়লেও তামাকের বিক্রয়মূল্য আদতে ভোক্তার নাগালেই থেকে যাচ্ছে। প্রচলিত কর পদ্ধতি এবং কর আদায় ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে সরকারের রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাজারে প্রচলিত ভিন্ন ভিন্ন মূল্যস্তর এবং নিম্নমূল্যের সিগারেট নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি। কাজেই ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সামাঞ্জস্য রেখে তামাকপণ্যের কর ও দাম বাড়ানো খুবই জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে তামাকপণ্যের ভিত্তিমূল্য খুবই কম। ফলে উচ্চহারে করারোপ করলেও মূল্যবৃদ্ধিতে তেমন প্রভাব পড়ছে না। তামাকপণ্যের ক্ষেত্রে প্রচলিত অ্যাড ভ্যালোরেম কর পদ্ধতির ত্রুটিগুলো বিবেচনায় নিয়ে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা হলে পণ্যের চাহিদা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তারা বলেন, প্রতিটি ব্র্যান্ডের তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে খুচরা মূল্যের আগে ‘সর্বোচ্চ’ শব্দটি উল্লেখ না থাকার সুযোগ নিয়ে খুচরা মূল্যের থেকে স্থান ভেদে ১০-২৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি হয়। এ অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির কারণে সরকার প্রতিদিন প্রায় ১৩ দশমিক ৬৮ কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। দ্রব্যের ওপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক, স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জের পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ওপর সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করলে তামাকপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

সভায় তামাকের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অন্যান্য পণ্য যেমন এসএসবির ওপর কর বৃদ্ধির মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভার উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অতিথি এবং বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী (অতিরিক্ত সচিব) হোসেন আলী খোন্দকার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরুদ্দীন আহমেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব কাজী রেজাউল হাসান, বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ, দি ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম এবং ৭১ টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা।

এছাড়া উন্নয়ন সমন্বয়, টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি), ডেভেলপমেন্ট এক্টিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস), প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এইচএস/এমকেআর/জিকেএস