ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

১৬ স্যাটেলাইট নিয়ে ছিটকে পড়েছে ভারতীয় রকেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩:০৯ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

মহাকাশ মিশনে বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। ১৬টি স্যাটেলাইটসহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল (পিএসএলভি) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ছিটকে পড়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ২০২৬ সালের প্রথম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ অভিযান শুরু করে। সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল পিএসএলভি-সি৬২-এর মাধ্যমে রকেট উৎক্ষেপণের শেষ পর্যায়ে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে রকেটটি তার কক্ষপথে সঠিকভাবে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ইসরো।

উৎক্ষেপণের মাত্র আট মিনিট পরেই যানটির তৃতীয় পর্যায়ের কর্মক্ষমতায় ব্যঘাত ঘটে। ফলে এটি ছিটকে পড়ে।
ইসরো চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন উড্ডয়ন-পরবর্তী এক আপডেটে বলেছেন, মিশনটিতে একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি রকেটটি কক্ষপথে স্থাপন করা যায়নি।

ইসরোর প্রাক্তন বিজ্ঞানী এবং সৌর প্যানেল বিশেষজ্ঞ মনীশ পুরোহিত এই ক্ষয়ক্ষতির কৌশলগত গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, বিপত্তি এই কার্যক্রমেরই অংশ, কিন্তু আপনি কত দ্রুত এবং কতটা বুদ্ধিমানের সঙ্গে পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পারেন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যর্থতা বিশ্লেষণ কমিটি এখন সব টেলিমেট্রি ডেটা খতিয়ে দেখবে এবং মূল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।

মোট ১৬টি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট যার নাম ‘অন্বেষা’।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্বেষা উপগ্রহটিকে পৃথিবী থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি সান-সিনক্রোনাস পোলার অরবিটে স্থাপন করার কথা ছিল। এই উপগ্রহের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, অনুপ্রবেশ এবং নাশকতার ওপর কড়া নজরদারি চালানো সম্ভব হবে জানিয়েছিল ইসরো। এই কারণেই অন্বেষাকে ‘ভারতের সিসিটিভি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার তৈরি অন্বেষা একটি অত্যাধুনিক হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিং স্যাটেলাইট। এতে রয়েছে হাইপারস্পেকট্রাল রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি। যার মাধ্যমে সূক্ষ্ম তথ্য সংগ্রহ করা যায়। ফলে ঘন জঙ্গলে বা বাঙ্কারের মধ্যে লুকিয়ে থাকা শত্রুদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

৬০০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে অন্বেষা সীমান্তবর্তী এলাকা ও সংবেদনশীল অঞ্চলে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপগ্রহ কার্যকর হলে শত্রুপক্ষের বাঙ্কার নির্মাণ, মাদক বা অস্ত্র পাচারের মতো কার্যকলাপ চালানো অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে। সামরিক বাহিনীর জন্য অন্বেষা একটি গুরুত্বপূর্ণ গোপন অস্ত্র হিসেবেই কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে গেচে।

অন্বেষা ছাড়াও এই মিশনে আটটি বিদেশি স্যাটেলাইট রয়েছে, যেগুলোর মালিকানা ফ্রান্স, নেপাল, ব্রাজিল ও ব্রিটেনের মতো সংস্থাগুলোর হাতে।

টিটিএন