শুরু হচ্ছে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, নেই বাংলাদেশ
কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা
৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মেলা। এবারের মেলার ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা। কলকাতার সল্টলেকের করুণাময়ী মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে এবারের ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এই মেলার উদ্বোধন করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ছাড়াও এই মেলায় সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনার বিশিষ্ট সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে এবং ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার হাই-কমিশনার মারিয়ানো কাউসানো। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, কবি ও বিশিষ্টজনরাও অংশ নেবেন।
আর্জেন্টিনা ছাড়াও ৪৯ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশ নেবে ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, পেরু, জাপান, ফ্রান্স, কলম্বিয়া ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন রাজ্য।
এবার ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করছে না। ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশগ্রহণ করে আসছে। এ নিয়ে পরপর দুই বছর কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করছে না। গত বছরও ৪৮তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় ছিলনা বাংলাদেশের কোন স্টল।
এবারের বইমেলায় থাকছে না বাংলাদেশের প্যাভেলিয়ন। এ নিয়ে চরম হতাশ পশ্চিমবঙ্গের বইপ্রেমী বাঙালিরা। বাংলাদেশের লেখক, কবি সাহিত্যিকদের লেখা বই-এর চাহিদা থাকলেও সেভাবে কলকাতায় তাদের বই পাওয়া যায়না।
গঙ্গাপাড়ের বইপ্রেমি মানুষের বাংলাদেশের হুমায়ুন আহমেদ থেকে নতুন প্রজন্মের সাদাত হোসাইনের লেখা বই জনপ্রিয়তার তালিকায় থাকলেও সেভাবে পাওয়া যায় না। ফলে গঙ্গাপাড়ের বইপ্রেমী মানুষের সারা বছর অপেক্ষায় থাকতে হয় কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নের ওপর।
বইমেলায় পাবলিশার্স এন্ড বুক সেলারস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এবারের বইমেলায় ২০টি দেশ অংশগ্রহণ করছে কিন্তু এবারও বাংলাদেশকে পাচ্ছি না। তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে আমরা কোনো সবুজ সংকেত পাইনি। ফলে আমরা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশকে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে পারিনি।
এবারের মেলায় শিশুদের জন্য থাকবে একাধিক বুক এবং ম্যাগাজিনের স্টল। গত বছর ৪৮তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় ২৭ লাখ বই প্রেমি মানুষ বইমেলায় অংশ নেয়। মোট ২৩ কোটি রুপির বই বিক্রি হয়েছিল বলে গিল্ডের তরফ থেকে জানানো হয়। বাংলাদেশের প্যাভেলিয়ন ছাড়া এবারের মেলা কতটা বিশ্ব সাহিত্যের সেতুবন্ধন হয়ে উঠবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
ডিডি/টিটিএন