ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

ভারতে ‘গোরক্ষকদের’ হামলায় নিহত আরও এক মুসলিম যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:০০ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

ভারতে তথাকথিত গোরক্ষকদের হামলায় নিহত আরও এক মুসলিম যুবক। সম্প্রতি উড়িষ্যার বালাসোরে ঘটেছে এই বর্বরোচিত ঘটনা। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনায় অনেকে জড়িত থাকলেও এখন পর্যন্ত সবাইকে গ্রেফতার করা হয়নি।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে সন্তানদের স্থানীয় মকর মেলা দেখাতে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ৩৫ বছর বয়সী এসকে মাকান্দার মোহাম্মদ। কিন্তু পরদিন ভোরে হত্যার শিকার হন তিনি। পরিবারের দাবি, গরু পরিবহনের অভিযোগ তুলে একদল লোক তাকে নির্মমভাবে মারধর করে।

নিহতের ভাই এসকে জিতেন্দর মোহাম্মদ বলেন, সাত সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন মাকান্দার। তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, তিন সন্তান—এর মধ্যে একজনের বয়স মাত্র দুই মাস। এছাড়াও রয়েছেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবা ও মা। তারা বালাসোর শহরের উপকণ্ঠের আস্তিয়া এলাকার বাসিন্দা।

আরও পড়ুন>>
ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা
ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে ফের মুসলিম যুবকের ওপর হামলা

ভারতে মুসলিমদের ‘পূর্ণ নিরাপত্তা’ নিশ্চিতের আহ্বান বাংলাদেশের

জিতেন্দর জানান, মাকান্দার বালাসোর শহরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। দৈনিক আয় ছিল প্রায় ৫০০ রুপি। ‘সেদিন কেন তিনি ওই ভ্যানে উঠেছিলেন, তা আমরা জানি না,’ বলেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে মাকান্দার একটি ভ্যানে করে যাচ্ছিলেন, যেখানে গবাদিপশু পরিবহনের অভিযোগ ওঠে। পথে ভ্যানটির চালক ও মাকান্দারকে একদল লোক আটকে মারধর করে বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বালাসোর জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কয়েক ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর প্রথমে বালাসোর সদর থানার এক উপপরিদর্শকের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই এফআইআরে ভ্যানচালক ও মালিকের নাম উল্লেখ করা হয় এবং হামলার প্রসঙ্গ সেখানে ছিল না। এতে বলা হয়, জয়দেব কাসবা দিক থেকে দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে গবাদিপশুবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান চলছিল এবং সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ ঘটনায় পশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, উড়িষ্যা গো-হত্যা প্রতিরোধ আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়।

পরে জিতেন্দরের করা অভিযোগের ভিত্তিতে হামলার ঘটনায় আলাদা এফআইআর দায়ের করা হয়। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ ব্যক্তি রাস্তায় ভ্যানটি আটকে তার ভাইকে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মাকান্দারের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত ছিল। এক স্বজন বলেন, ‘পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বালাসোর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমরা সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়।’

পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে জিতেন্দরের দাবি, হামলায় আরও অনেকে জড়িত ছিল। ‘আমাদের বিশ্বাস, পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করবে,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘এই লোকগুলোকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কে দিয়েছে? আমার ভাই যদি কোনো অপরাধ করে থাকতো, তাহলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া যেো। কেউ কীভাবে একজন মানুষকে মেরে ফেলতে পারে?’ ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে দাবিও জানান তিনি।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কেএএ/