পেন্টাগনের কৌশলগত নথি
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মনোযোগ দেবে ট্রাম্প প্রশাসন
পেন্টাগন। ফাইল ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নিজ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চীনের প্রভাব রোধ করাকে অগ্রাধিকার দেবে। একই সঙ্গে ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলের মিত্রদের প্রতি আরও সীমিত সহায়তা প্রদান করা হবে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত পেন্টাগনের এক কৌশলগত নথিতে এ কথা বলা হয়েছে।
২০২৬ সালের ন্যাশনাল ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজি (এনডিএস) আগের পেন্টাগন নীতির তুলনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এতে একদিকে মিত্র দেশগুলোর ওপর বেশি দায়িত্ব নেওয়ার চাপ বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার মতো ঐতিহ্যগত প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিষয়ে ভাষা তুলনামূলকভাবে নরম করা হয়েছে।
কৌশলপত্রে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী যখন নিজ ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মনোযোগ দেবে, তখন অন্যান্য অঞ্চলের মিত্র ও অংশীদাররা নিজেদের প্রতিরক্ষার প্রধান দায়িত্ব নিজেরাই নেবে। সেখানে মার্কিন বাহিনীর সহায়তা থাকবে গুরুত্বপূর্ণ, তবে সীমিত।
আগের এনডিএসে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছিল এবং রাশিয়াকে তাৎক্ষণিক হুমকি বলে উল্লেখ করেছিল।
তবে নতুন নথিতে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র তাইওয়ানের কোনো উল্লেখ নেই, যাকে চীন নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। পাশাপাশি রাশিয়াকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্যদের জন্য স্থায়ী কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বাইডেন ও ট্রাম্প—উভয় প্রশাসনের কৌশলেই নিজ ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে থাকা হুমকিগুলোর বর্ণনায় দুটি নথির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এনডিএস আগের প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করে বলেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা উপেক্ষা করার ফলে অবৈধ অভিবাসীর ঢল নামে এবং মাদক পাচার ব্যাপক আকার ধারণ করে।
নথিতে বলা হয়, সীমান্ত নিরাপত্তাই জাতীয় নিরাপত্তা।
এ কারণে পেন্টাগন সীমান্ত সিল করা, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার করার প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেবে।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম