প্রথমবার ১০০ ডলার ছাড়ালো রুপা, সোনার দাম ৫০০০ ডলার ছুঁইছুঁই
বিশ্ববাজারে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স রুপার দাম ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে সোনার দামও। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রুপার স্পট মূল্য ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ট্রয় আউন্স ১০১ ডলারে। আর সোনার দাম এখন পাঁচ হাজার ডলার ছুঁইছুঁই করছে। নতুন বছরের শুরুতেই সোনা-রুপার এমন দামবৃদ্ধি মূল্যবান ধাতুর বাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, খুচরা বিনিয়োগকারী এবং গতি-নির্ভর কেনাকাটার চাপের পাশাপাশি ভৌত বাজারে দীর্ঘদিনের সরবরাহ ঘাটতির কারণেই রুপার দামে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। গহনা, ইলেকট্রনিক্স এবং সৌর প্যানেল তৈরিতে ব্যবহৃত এই মূল্যবান ধাতুটি বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবেও ব্যাপক চাহিদা পাচ্ছে।
তবে রুপার দাম যেভাবে দ্রুত বেড়েছে, তাতে বড় ধরনের সংশোধনের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। স্টোনএক্সের বিশ্লেষক রোনা ও’কনেল বলেন, রুপা এখন এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় উন্মাদনার মধ্যে রয়েছে। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে সোনা শক্তিশালী অবস্থানে থাকায়, তুলনামূলক কম ইউনিট দামের সুবিধা নিয়ে রুপাও লাভবান হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাজারে ফাটল ধরতে শুরু করলে তা দ্রুত বড় সংকটে রূপ নিতে পারে।
আরও পড়ুন>>
বিশ্ববাজারে সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে সোনা–রুপা
সোনার দামে রেকর্ড, গহনা ছেড়ে বার-কয়েনে ঝুঁকছেন ক্রেতারা
সৌদি আরবের খনিতে মিললো ২ লাখ ২৬ হাজার কেজি সোনা
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এর আগে, গত বছরে রুপার দাম লাফিয়ে বেড়েছিল ১৪৭ শতাংশ, যা ১৯৮৩ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি।
এদিকে, শুক্রবার সোনার দামও রেকর্ড প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৮৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা পাঁচ হাজার ডলারের খুব কাছাকাছি।
ব্যাংক অব আমেরিকার কৌশলবিদ মাইকেল উইডমারের মতে, মৌলিকভাবে ন্যায্য রুপার দাম হওয়া উচিত প্রায় ৬০ ডলার। তার কথায়, সৌর প্যানেল উৎপাদনকারীদের চাহিদা সম্ভবত গত বছরেই চূড়ায় পৌঁছেছে এবং অতিরিক্ত দামের কারণে সামগ্রিক শিল্পচাহিদাও চাপের মুখে পড়ছে।
গত ১৪ বছরে প্রথমবারের মতো মাত্র ৫০ আউন্স রুপা দিয়ে এক আউন্স সোনা কেনা সম্ভব হচ্ছে। গত এপ্রিলে এই অনুপাত ছিল ১০৫ আউন্স। তবে অনেকের মতে, রুপার এমন অতিরিক্ত ভালো পারফরম্যান্স টেকসই না-ও হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, গত বছরে মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগ চাহিদা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। একই সঙ্গে লন্ডনের রুপার বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্কনীতিকে ঘিরে উদ্বেগের কারণে মার্কিন বাজারে বিপুল পরিমাণ ধাতু স্থানান্তরিত হয়েছে।
রুপার মোট বার্ষিক সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ আসে পুনর্ব্যবহার খাত থেকে। দাম রেকর্ড উচ্চতায় থাকায় এই খাতে তৎপরতা বাড়লেও, উচ্চমানের পরিশোধন সক্ষমতার ঘাটতির কারণে বাজারে দ্রুত সরবরাহ ফেরানো সম্ভব হয়নি। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মেটালস ফোকাস জানায়, টানা পাঁচ বছর ধরে কাঠামোগত ঘাটতির পরও মজুত স্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে না, যা ২০২৬ সালেও অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
কেএএ/