সরকারি ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া আমিরাতে মিলবে না কাজের সুযোগ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) সরকারি ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কোনো ব্যক্তি কাজ করতে পারবেন না- এ কথা আবারও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলো দেশটির মানবসম্পদ ও এমিরাটাইজেশন মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত ও অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসারে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু না হলে কোনো নিয়োগকর্তা কর্মী নিয়োগ বা কাজে সম্পৃক্ত করতে পারবেন না।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করা বা করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও এই নিয়ম না মানলে শ্রম আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রম আইন কর্মসংস্থান সম্পর্ককে সুশৃঙ্খল করা, অপব্যবহার রোধ করা ও শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
বর্তমানে আমিরাতে ভিন্ন ভিন্ন কর্মপরিস্থিতি ও শ্রমিকদের অবস্থার ভিত্তিতে মোট ১২ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। এসব পারমিটের মধ্যে রয়েছে বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের অনুমতি থেকে শুরু করে খণ্ডকালীন, অস্থায়ী ও প্রকল্পভিত্তিক কাজের সুযোগ।
সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পারমিটগুলোর একটি হলো- বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ওয়ার্ক পারমিট। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদিত শর্ত ও নিয়ম মেনে দেশের বাইরে থেকে কর্মী নিয়োগ করতে পারে।
এছাড়া রয়েছে ট্রান্সফার ওয়ার্ক পারমিট, যার মাধ্যমে ইউএইতে অবস্থানরত কোনো অ-নাগরিক কর্মী তার আগের চাকরি শেষ হওয়ার পর নতুন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারেন। এতে শ্রমবাজারে নিয়ন্ত্রিতভাবে কর্মী স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হয়।
পারিবারিক স্পনসরশিপে আমিরাতে বসবাসকারী ব্যক্তিদের জন্যও আলাদা ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। এই পারমিটের মাধ্যমে ডিপেনডেন্ট ভিসাধারীরা নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারেন।
স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজনের জন্য রয়েছে অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট। এর আওতায় ইউএইতে অবস্থানরত কোনো কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করে পরে তার মূল নিয়োগকর্তার কাছে ফিরে যেতে পারেন। এর সঙ্গে সম্পর্কিত মিশন ওয়ার্ক পারমিট, যা নির্দিষ্ট কাজ বা সময়সীমাবদ্ধ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিদেশ থেকে আনা কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
মন্ত্রণালয় খণ্ডকালীন ওয়ার্ক পারমিটের কথাও উল্লেখ করেছে। এই পারমিটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের ভেতর বা বাইরে থেকে কম সময়ের ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করতে পারে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে এই পারমিটধারীরা একাধিক নিয়োগকর্তার জন্যও কাজ করতে পারেন।
তরুণদের জন্য রয়েছে বিশেষ বিধান। জুভেনাইল ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের নিয়োগ দেওয়া যায়, তবে তাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কঠোর শর্ত মানতে হয়।
একইভাবে, ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে প্রশিক্ষণ বা স্টুডেন্ট এমপ্লয়মেন্ট পারমিট, যার আওতায় নির্ধারিত সময় ও শর্তে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়।
আঞ্চলিক শ্রম সংহতি জোরদারের লক্ষ্যে ইউএই নাগরিক ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর নাগরিকদের জন্যও আলাদা ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের দক্ষ জনশক্তির অংশগ্রহণ ও চলাচল সহজ করে।
এছাড়া গোল্ডেন রেসিডেন্সি ভিসাধারীদের জন্যও বিশেষ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে, যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সুবিধাভোগীদের নিয়োগ দিতে পারে প্রতিষ্ঠানগুলো।
নাগরিক প্রশিক্ষণ ওয়ার্ক পারমিটের আওতায় নিয়োগকর্তারা ইউএই নাগরিকদের তাদের অনুমোদিত শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ দিতে পারেন, যা দক্ষতা উন্নয়ন ও এমিরাটাইজেশন কর্মসূচিকে সহায়তা করে।
সবশেষে রয়েছে প্রাইভেট টিউটরিং ওয়ার্ক পারমিট, যার মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিরা নির্ধারিত নিয়মে একক বা দলগতভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পাঠদান করতে পারেন।
সূত্র: গালফ নিউজ
এসএএইচ