মিয়ানমারের আরও ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো চীন
মিয়ানমারের আরও ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো চীন
মিয়ানমারে পরিচালিত অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রের সঙ্গে জড়িত কুখ্যাত বাই পরিবারের আরও চার সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
গত বছরের নভেম্বর মাসে ওই আদালত পরিবারের প্রধান বাই সুওচেংসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে সাজা ঘোষণার পর অসুস্থ হয়ে বাই সুওচেং মারা যান বলে জানায় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
এর আগে গত সপ্তাহে চীন মিং পরিবারের ১১ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনলাইন প্রতারণা দমনের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাই, মিংসহ কয়েকটি পরিবার মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী শহর লাউক্কাইং নিয়ন্ত্রণ করতো। সেখানে তারা ক্যাসিনো, পতিতালয় ও সাইবার প্রতারণা কেন্দ্র পরিচালনা করত।
বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বাই পরিবার ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী। পরিবারের প্রধানের ছেলে একসময় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তাদের পরিবার ছিল নাম্বার ওয়ান।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বাই পরিবার নিজেদের মিলিশিয়া বাহিনী গড়ে তোলে এবং ৪১টি কম্পাউন্ড তৈরি করে, যেখানে অনলাইন প্রতারণা ও ক্যাসিনো পরিচালিত হতো। এসব কম্পাউন্ডে নিয়মিত মারধর ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটতো।
আদালতের মতে, বাই পরিবারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ছয়জন চীনা নাগরিক নিহত হন, একজন আত্মহত্যা করেন এবং বহু মানুষ আহত হন।
২০০০ সালের শুরুর দিকে লাউক্কাইংয়ের তৎকালীন এক নেতাকে সামরিক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বাই পরিবার সেখানে ক্ষমতায় আসে। সেই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মিন অং হ্লাইং, যিনি বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রধান।
তবে ২০২৩ সালে এসব পরিবারের সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। মিয়ানমারে প্রতারণা চক্র দমনে সেনাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় চীন অসন্তুষ্ট হয়ে জাতিগত বিদ্রোহীদের অভিযানে নীরব সমর্থন দেয়। এটি দেশটির গৃহযুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করে।
এর ফলে প্রতারণা চক্রের নেতারা ধরা পড়ে এবং তাদের চীনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
চীনে তাদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়, যেখানে প্রতারণা নেটওয়ার্ক নির্মূলে সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরা হয়।
সাম্প্রতিক এসব মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে চীন ভবিষ্যতের প্রতারকদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিতে চায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করতে লাখ লাখ মানুষকে পাচার করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএসএম