ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

মাদুরোর মুক্তির দাবিতে ভেনেজুয়েলায় হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০:০২ এএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মুক্তি দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন তার হাজারও সমর্থক। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী কারাকাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘ভেনেজুয়েলায় নিকোলাসকে প্রয়োজন’। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক সরকারি কর্মচারীর হাতে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের ছবি দেখা যায়। ফ্লোরেসকেও ওই মার্কিন অভিযানে গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে, সরকারের আহ্বানে আয়োজিত এই মিছিলটি ছিল কয়েকশ মিটার লম্বা। পাশে ট্রাকে বাজতে থাকে উচ্চস্বরে সংগীত।

বিক্ষোভকারীদের অনেকে ভেনেজুয়েলার পতাকা ও ‘শাভিস্তা’ আন্দোলনের লাল পোশাক পরে ছিলেন। এই আন্দোলনের নাম এসেছে মাদুরোর সমাজতান্ত্রিক পূর্বসূরি হুগো শ্যাভেজের নাম থেকে।

৫৮ বছর বয়সী পৌরসভা কর্মচারী হোসে পেরদোমো বলেন, আমরা বিভ্রান্ত, দুঃখিত, রাগান্বিত। অনেক আবেগ কাজ করছে। অবশ্য পেরদোমো অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সিদ্ধান্তদের প্রতি তার সমর্থনও জানান।

তিনি আরও বলেন, আগে হোক বা পরে, আমাদের প্রেসিডেন্টকে মুক্তি দিতেই হবে।

ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের ডেপুটি ও মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা বলেন, এই মানুষগুলো আমেরিকান নয়। আমরা গভীর এক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চেতনা গড়ে তুলেছি।

মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রদ্রিগেজ তার সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্টও ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে চললে তিনি তার সঙ্গে কাজ করতে রাজি। বিশেষ করে, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে।

এদিকে, চাপে পড়ে রদ্রিগেজ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্ত করা শুরু করেছেন ও রাষ্ট্রায়ত্ত হাইড্রোকার্বন শিল্পে বেসরকারি বিনিয়োগের পথ খুলে দিয়েছেন।

২০১৯ সালে মাদুরোর প্রথম পুনর্নির্বাচন ‘চুরি’ করা হয়েছে অভিযোগে যেদিন দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে, সেই সম্পর্ক আবার জোড়া লাগছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কারাকাসে মার্কিন দূত লরা ডোগুর আগমন সেই ইঙ্গিত বহন করে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র মিশনের প্রকাশিত এক ভিডিওতে ডোগু বলেন, ভেনেজুয়েলার চলমান সংকটের জন্য তিন ধাপের একটি পরিকল্পনা আছে, যার শেষ ধাপ ‘বন্ধুত্বপূর্ণ, স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলায় রূপান্তর’।

এর আগে মঙ্গলবার শত শত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক বন্দিদের স্বজনরা কারাকাসে বিক্ষোভ করেন। রদ্রিগেজের প্রতিশ্রুত সাধারণ ক্ষমা আইনের দ্রুত অনুমোদনের দাবিতে এই বিক্ষোভ করেন তারা।

রদ্রিগেজ বলেন, তিনি এমন একটি সাধারণ ক্ষমা আইনে ব্যাপকভাবে কাজ করছেন, যা রাজনৈতিক সহিংসতা ও চরমপন্থার পুরো সময়টিতে জাতীয় নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। আইনটি এখনো সংসদে উত্থাপিত হয়নি। আর এই সংসদের নেতৃত্বে আছেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের ভাই জর্জ রদ্রিগেজসহ মাদুরোর ঘনিষ্ঠরা।

এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় ডেপুটি স্ট্যালিন গনজালেস এএফপিকে বলেন, বৃহস্পতিবারই (৫ জানুয়ারি) এই সাধারণ ক্ষমা আইনের প্রথম বিতর্ক সংসদে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, আমি আশা করি, সাধারণ ক্ষমা আইন সহাবস্থান, শান্তি ও গণতন্ত্রের দ্বার খুলে দেবে।

মাদুরোর ২০২৪ সালের বিতর্কিত পুনর্নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমনে গত বছর কঠোর অভিযান চালানো হয়েছিল। তখন দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মাদুরোর পতনের পর থেকে ভেনেজুয়েলার বিরোধী দল নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ