মাদক পাচারের অযুহাতে প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন হামলায় নিহত ২
নৌযানে মার্কিন বাহিনীর হামলা/ছবি: সাউথকম
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি নৌযানে মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলায় দুইজন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (ইউএস সাউথকম) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইউএস সাউথকম-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযানে দুইজন নার্কো-সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
তবে, নিহত ব্যক্তিরা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত-এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি সাউথকম। একই সঙ্গে নৌযানটির মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়েও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম তদারককারী ইউনিটের নাম ‘সাউদার্ন কমান্ড’ (ইউএস সাউথকম)।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা এয়ারওয়ার্স–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে নৌযানে অন্তত ৩৪টি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় কমপক্ষে ১২৬ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ ২ জন নিহতের ঘটনায় এ সংখ্যা বেড়ে ১২৮ জন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এসব হামলাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন মাদক পাচারকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র আক্রমণ’-এর সঙ্গে তুলনা করে এসব হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে। পাশাপাশি মাদক কারবারে জড়িত একাধিক অপরাধী গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে তারা।
কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী এবং আঞ্চলিক নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তাদের মতে, এসব হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল এবং এমন সামরিক অভিযানের পক্ষে কোনো সশস্ত্র সংঘাতের অস্তিত্ব নেই।
জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক বেন সল আগে বলেছেন, খোলা সমুদ্রে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী বা নার্কো গ্যাংকে হত্যার জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহারের কোনো বৈধতা আন্তর্জাতিক আইনে নেই।
সাউথকম সর্বশেষ ২৩ জানুয়ারি একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছিল, যেখানে অন্তত দুইজন নিহত হয়।
সূত্র: আল-জাজিরা
কে এম